খালি পেট, আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ১০০ কিমি পাড়ি মজুরের, উদ্ধার করল পুলিশ

কারখানা বন্ধ। তাড়িয়ে দিয়েছেন মালিক। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে হেঁটেই গ্রামে ফেরার চেষ্টা দিনমজুরের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফিরতেই হবে বাড়ি। কারখানা বন্ধ। তাড়িয়ে দিয়েছে মালিক। কেড়ে নিয়েছে মাথার গোঁজার ঠাঁই। পকেটে একটা পয়সা নেই, দু’দিনের খালি পেট। সঙ্গে আবার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। পায়ে হেঁটেই বাঁচার শেষ চেষ্টা করেছিলেন হয়ত কাজহারানো মানুষটা। দিল্লি থেকে রওনা দিয়ে মেরঠ পর্যন্ত গিয়ে শরীরে আর ধকল সয়নি। রাস্তার মাঝেই জ্ঞান হারিয়েছিলেন দম্পতি।

    বুলন্দশহরের অমরগড়ে বাড়ি ভকিলের। দিল্লিতে দিনমজুরি খেটেই দিন গুজরান হত। মাস খানেক আগে স্ত্রীকেও নিয়ে এসেছিলেন দিল্লিতে। কারখানার মালিকের দেওয়া ছোট্ট ঘরেই ছিল সংসার। স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। কাজের সময় আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ভকিল। কিন্তু এই লকডাউন কেড়ে নিল সব। এর আগে দিল্লির হিংসার সময় থেকেই কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছিল। লকডাউন শুরু হতেই কারখানার ঝাঁপ ফেলে দিলেন মালিক। কেড়ে নেওয়া হল কাজও। মাথার গোঁজার আশ্রয় ছোট্ট ঘরটা থেকেও নাকি বার করে দেওয়া হয় তাঁদের। ভকিলের অভিযোগ, মাইনের টাকাটাও দিতে রাজি হননি মালিক। অগত্যা গ্রামে ফিরে যাওয়া ছাড়া তাঁদের অন্য উপায় ছিল না।

    দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশে ফিরে যাওয়ার বাসে ঠাঁই মেলেনি। গাদাগাদি ভিড়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে উঠতে পারেননি। অগত্যা পায়ে হেঁটেই বাড়ির পথ ধরেছিলেন। টানা দু’দিনে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়েছেন ভকিল ও তাঁর স্ত্রী। এই দু ‘দিনে খাবার বলতে ছিল স্রেফ জল।

    স্থানীয় নবীন কুমার বলেছেন, মেরঠের সোহরাব গেটের কাছে জ্ঞান হারানো এই দম্পতিকে সকলে ছুটে আসেন। খাবার, জল দেওয়া হলেও ভকিল ধুঁকছিলেন। তাঁর স্ত্রীর শারীরিক অবস্থাও ছিল সঙ্কটজনক। নবীন জানিয়েছেন, নৌচান্দি থানার সাব-ইনস্পেকটর প্রেমপাল সিংকে খবর দেওয়া হয়। তিনি দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেন। পর্যাপ্ত খাবার, জল ও টাকা দিয়ে দু’ জনকে অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়েই তাঁদের গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    কেন্দ্র লকডাউন ঘোষণা করার পরে বাড়ি ফেরার বেপরোয়া চেষ্টা করতে গিয়ে সারা দেশে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন মারা গিয়েছেন। দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্ত্রী-ছেলেমেয়ে নিয়ে শয়ে শয়ে শ্রমিক, মজুরদের হাঁটতে দেখা গেছে। কেউ ভিড় করেছেন আনন্দ বিহার বাস টার্মিনাসে, কেউ আবার বাসে ঠাঁই না পেয়ে হেঁটেই গ্রামে ফেরার চেষ্টা করেছেন। অনাহারে দীর্ঘপথ হাঁটতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও অনেক।

    পারস্পরিক দূরত্বের বিধি ভেঙে দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমানায় শনিবার থেকেই লক্ষ লক্ষ কাজহারানো দিনমজুরদের দেখা গেছে বাড়ি ফেরার বাস ধরতে। ৭০-৭৫ সিটের বাসে ১৫০ জনকে গাদাগাদি করে উঠতেও দেখা গেছে। লকডাউনের বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করেই শ্রমিক, মজুরদের এই নিরাপত্তাহীনতায় ক্ষুব্ধ মোদী সরকার। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে দেশেও। অবস্থান বদল করে তাই সব রাজ্যের সীমানা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। গ্রামে ফিরে যাওয়া মজুরদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার কথাও বলা হয়েছে।  কোয়ারেন্টাইনের সময় গরিব মজুরদের দেখভালের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More