ট্রেনের কামরায় কীভাবে ছড়াতে পারে করোনা! কতটা সতর্ক হতে হবে, বললেন বিজ্ঞানীরা

আক্রান্ত রোগী যে সিটে বসে সফর করেছেন, ওই সিটে পরে যিনি বসবেন তাঁর মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। এর কারণ হল ভাইরাস ড্রপলেট। আক্রান্ত রোগীর মুখ বা নাক থেকে বের হওয়া জনকণায় ভাইরাল স্ট্রেন মিশে থাকবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রেন সফরে যদি একজনও কোভিড পজিটিভ রোগী থাকেন, তাহলে আক্রান্ত হতে পারেন অনেকে। এক ঘণ্টার সফরেও পারস্পরিক দূরত্ব রাখতে হবে কম করেও এক মিটার। ট্রেনের কামরায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, নতুন গবেষণায় এমনটাই দাবি করলেন চিন ও ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা।

    চিনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, লোকাল ট্রেন হোক বা দূরপাল্লার ট্রেন, পাশাপাশি তিন সারিতে এবং ট্রেনের দৈর্ঘ্য বরাবর পরপর পাঁচ সারির মধ্যে যদি একজনও করোনা আক্রান্ত রোগী থাকেন তাহলে গোটা কামরায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারেন সেই কামরার প্রায় সব মানুষই। ‘ক্লিনিকাল ইনফেকশিয়ান ডিজিজ’ জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা।

    গবেষকদের বক্তব্য, পাশাপাশি সারিতে বসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর হার গড়ে ০.৩২%। আর যে যাত্রীরা আক্রান্ত রোগীর একেবারে কাছ ঘেঁষে বসেছেন, তাঁদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াবার হার ৩.৫%। এই সংক্রমণ ছড়াবার হার প্রতি মুহূর্তেই বাড়বে। একই সারিতে আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে কতজন যাত্রী পাশাপাশি বসে সফর করছেন এবং ঠিক কতজন ওই সারিতে সফর করেছেন এই দুইয়ের হিসেবে সংক্রমণ কতজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে তার হিসেব বার করা হয়েছে। দেখা গেছে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত একজনের সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। তবে সংখ্যাটা বেশিও হতে পারে।

    আবার আক্রান্ত রোগী যে সিটে বসে সফর করেছেন, ওই সিটে পরে যিনি বসবেন তাঁর মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। এর কারণ হল ভাইরাস ড্রপলেট। আক্রান্ত রোগীর মুখ বা নাক থেকে বের হওয়া জনকণায় ভাইরাল স্ট্রেন মিশে থাকবে। সেই জলকণা বা রেসপিরেটারি ড্রপলেট ওই সিটেই বা তার হাতলে জমে থাকতে পারে। আর সারফেস যদি মসৃণ হয় তাহলে ভাইরাল স্ট্রেনের টিকে থাকার সময়ও বেড়ে যায়। অন্তত পাঁচ থেকে সাতদিন অবধি ড্রপলেটে সক্রিয় থাকতে পারে ভাইরাল স্ট্রেন। যদি ট্রেনের কামরা বা আসন ঠিকমতো স্যানিটাইজ না করা হয়, তাহলে ওই ভাইরাল স্ট্রেন দীর্ঘ সময় জমে থাকবে। এই সময়ের মধ্যে কোনও সুস্থ ব্যক্তি ওই স্ট্রেনের সংস্পর্শে এলে তাঁর শরীরেও ভাইরাস ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।

    ব্রিটেনের সাদাম্পটন ইউনিভার্সিটির গবেষক শেংজি লাই বলেছেন, জানুয়ারি থেকে মার্চ অবধি ব্রিটেনের বিভিন্ন ট্রেনে সফর করেছেন এমন ৭০ হাজার মানুষের উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে তাঁদের মধ্যে অন্তত ২৩৩৪ জন ট্রেনে সফরের পরেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের সংস্পর্শ থেকে আবার সংক্রমণ ছড়িয়েছে অনেকের মধ্যে। বিজ্ঞানী বলছেন, কতটা সময় সফর করা হচ্ছে, কতজন আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা হচ্ছে এবং কীভাবে ট্রেনের আসনে যাত্রীরা বসছেন—এই সবকিছুর উপরেই নির্ভর করছে সংক্রমণ কতটা ছড়াবে এবং কতজনের মধ্যে ছড়াবে। পারস্পরিক দূরত্ব না মানলে বিপদের কারণ রয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More