করোনা-মুক্ত তিনমাসের মেয়ে, ভাইরাসের ভয় আর নেই, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল চিন

আশঙ্কামুক্ত তিনমাসের শিশু। ভাইরাসের ভয় আর নেই। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুস্থ আছে একরত্তি। ভাইরাসের ভয় আর নেই। সংক্রমণ ভাগিয়ে দিয়েছেন ডাক্তাররা। এখন নাকি দিব্যি খেলা করছে মেয়েটি। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশ।

    বয়স তার তিনমাস। নাদুসনুদুস, ফুটফুটে মেয়েটার শরীরেও হানা দিয়েছিল করোনাভাইরাস। একরত্তির শরীরের তাপমাত্রা বেড়েছিল চড়চড় করে। তীব্র শ্বাসকষ্ট, জ্বর-সর্দি-কাশি নিয়ে খুদেকে ভর্তি করা হয়েছিল ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের আইসোলেশন ওয়ার্ডে। ডাক্তাররা বলেছিলেন সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়েছে শিশুকন্যা। বাঁচার আশা প্রায় ক্ষীণ। তবে চমৎকার করেছেন ডাক্তাররা। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, ভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটাই কমেছে। শরীরের তাপমাত্রাও এখন স্বাভাবিক। জ্বরটাও আর নেই। আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখার পরে ছেড়ে দেওয়া হবে মেয়েটিকে।

    ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ডেপুটি ডিরেক্টর ইয়ে শেং বলেছেন, মেয়েটির মাও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। সেই থেকেই শিশুটির মধ্যে ছড়ায় সংক্রমণ। প্রথমবার যখন হাসপাতালে আনা হয় মেয়েটির শরীরে ধুম জ্বর। শ্বাসেরও সমস্যা হচ্ছিল। তাও নাকি কাঁদেনি সে। ডাক্তারকে দেখেই মিষ্টি করে হেসে দিয়েছিল। এমন ফুটফুটে মেয়ের ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে আসায় রীতিমতো হইচই শুরু হয়ে যায় ঝেজিয়াংয়ে। এর আগেও এই প্রদেশে আরও কয়েকজনের মধ্যে ছড়িয়েছিল ভাইরাসের সংক্রমণ। হাসপাতালে শিশুটির জন্য আলাদা ওয়ার্ড তৈরি করেন ডাক্তাররা। তিন জন ডাক্তার ও তিন জন নার্স ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখেছিল মেয়েটিকে। তাঁরাই হয়ে উঠেছিলেন শিশুকন্যাটির অভিভাবক। নার্সেরা মায়ের আদরে আগলে রেখেছিলেন মেয়েটিকে। প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর তাকে খাওয়ানো হত। তারপর ওষুধ আর ইঞ্জেকশনের ডোজ চলত।

    আরও পড়ুন: মরো-বাঁচো আমাদের কী! মুখ ফেরাল ইসলামাবাদ, উহানে আটকে পড়া পাক ছাত্রদের পাশে ভারত

    আইসোলেশন ওয়ার্ডে শিশুটির দায়িত্বে থাকা ডাক্তার লাও ইউয়ান বলেছেন, “সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছে একরত্তি। ইঞ্জেকশন দিলেও সে কাঁদত না। ডায়াপার বদলে দিলে সবচেয়ে খুশি হত।” তবে মেয়েটি এখনও অনেকটাই দুর্বল। ডাক্তার লাও ইউয়ান বলেছেন, আরও কিছুদিন পর থেকে একেবারে চনমনে হয়ে উঠবে সে। তবে এখনই মেয়েটিকে তার মায়ের কাছে যেতে দেওয়া হবে না। কারণ তার মাকে বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে।

    শিশুদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এই প্রথম নয়। উহানের শিশু হাসপাতালে এক সদ্যোজাতও আক্রান্ত হযেছে ভাইরাসের সংক্রমণে। জন্মানোর ৩০ ঘণ্টা পরেই শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। পরীক্ষা করে শরীরে ভাইরাসের খোঁজ মেলে। তবে শিশুটির অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলেই জানানো হয়েছে উহানের শিশু হাসপতালের তরফে। উহান-সহ চিনের আরও অন্যান্য জায়গা থেকেও শিশুদের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলছে, যা ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসনের। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের রিপোর্ট বলছে, অনুমান ভাইরাস এখন শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও ছড়াচ্ছে। আক্রান্ত মা-বাবাদের কাছাকাছি থাকায় শিশুদের শরীরেও হানা দিচ্ছে ভাইরাস। আশঙ্কা করা হচ্ছে এই ‘ভার্টিকাল ট্রান্সমিশন’ রোখা না গেলে মৃত্যু আরও বাড়বে।

    উহান শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক জেং লিংকং জানিয়েছেন, প্রসূতি মায়েদের থেকে সদ্যোজাতদের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই আক্রান্ত একদিনের একটি শিশু। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল। এইচআইভি এবং জিকা ভাইরাসের মতো করোনাভাইরাসও মায়ের প্লাসেন্টা দিয়ে বাহিত হয়ে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে পৌঁছচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মেলম্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের এপিডেমিওলজিস্ট স্টিফেন মর্স বলেছেন, ভাইরাস আক্রান্ত মা-বাবাদের সংস্পর্শে থাকায় শিশুদের শরীরেও হুহু করে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। এমনও দেখা গেছে, হাসপাতালের পরিবেশ থেকেও শিশুদের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়েছে। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২২ পর্যন্ত কোনও শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর মেলেনি। ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’-এও বলা হয়েছিল করোনাভাইরাস শিশুদের শরীরে হানা দেবে না। কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। ২৬ জানুয়ারি বেডিংয়ে ৯ মাসের এক শিশুকন্যার ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছিল। পরে জানা যায় তাঁর বাবার শরীরেও বাসা বেঁধেছিল ভাইরাস। উহানে ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত ৯৯ জনের বয়স পঞ্চাশের উর্ধ্বে। এখন দেখা যাচ্ছে ১৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেও ভাইরাস হানা দিচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More