এতবার জানান দিচ্ছে মেট্রো, তবু হুঁশ ফিরছে কি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়

    হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে মানুষের শরীরে নানা ধরণের উপসর্গ হয়। সঠিক সময়ে সেগুলির চিকিৎসা না হলে বিপদ। তা থেকে আচমকা মৃত্যুও হতে পারে।

    চাকায় আগুন লাগা থেকে শুরু করে ফুলকি বেরোনো, আবার দরজা বন্ধ না হওয়া থেকে সুড়ঙ্গের মাঝপথে নো-মোটরিং হয়ে যাওয়া, এসবই ছিল লক্ষ্ণণ। কিন্তু এ সব দেখেও এতদিন চিকিৎসা না করায় যা হওয়ার সেটাই হয়েছে। সত্যিই কি এ বার হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে মেট্রো?

    রেল কর্তাদের একাংশ এখন বলছেন, পরপর অনেকগুলিই ধাক্কা (স্ট্রোক) হল। এখনও এ ভাবে চললে যে কোনও দিনই মাঝপথে মৃত্যু হতে পারে মেট্রোর। আর ওই ঘটনা ঘটলে শুধু ট্রেনের নয়, মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে যাত্রীদেরও।

    অথচ বৃহস্পতিবারও দমদম স্টেশনে মেট্রোর কামরায় আগুন লাগার পর মেট্রো কর্তৃপক্ষের বিবৃতি শুনলেই স্পষ্ট হবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নয়, তাঁরা বেশি ব্যস্ত ট্রেন চালানো নিয়ে। বৃহস্পতিবার দমদম মেট্রো স্টেশনে ট্রেন ছাড়ার সাথে সাথে একটি কামরার তলার যন্ত্রাংশে আগুন লেগে ফুলকি এবং ধোঁয়া বেরোনোর ঘটনায় তিনজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। একজন যাত্রীকে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তিও করতে হয়। কিন্তু তারপরেও মেট্রোর দেওয়া বিবৃতিতে ওই অসুস্থ হয়ে পড়া যাত্রীদের সম্পর্কে একটি শব্দও খরচ করা হয়নি। যাত্রীদের বক্তব্য এমনভাবে বিবৃত করা হলো, যাতে মনে হয়েছে, পুরনো ট্রেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও সবাইকে বাঁচিয়ে দিয়েছে মেট্রো। যেন এটাই যথেষ্ট।

    মাত্র ২৭.২৪ কিলোমিটার ট্রেন পরিষেবা দিতে গিয়েই যে ভাবে দিন দিন ট্রেনগুলি হেঁচকি তুলছে, তাতে পরিবর্তন না করলে আর কিছু দিন পরে কলকাতা মেট্রো পরিষেবাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। কারণ, কলকাতা মেট্রোর পুরোটাই ক্ষয় রোগে আক্রান্ত।

    অথচ দিনের পর দিন ধরে মেট্রো কর্তৃপক্ষ অহেতুক যাত্রীদের নতুন ট্রেনের গল্প শুনিয়ে এসেছেন। ১৫ বছর পরে যে চারটি ট্রেন তাঁরা এনেছেন, সেই চারটিতেও এত ভুলত্রুটি রয়েছে যে সেগুলি আর চালানো যায়নি। ফেলে রাখা হয়েছে নোয়াপাড়ার কারশেডের জঙ্গলে। কত দিন পরে আবার নতুন ট্রেন আসবে সেটাও কেউ জানেন না। তবে বছর দেড়েক ধরে মেরামতের চেষ্টা করার পরে এখনও তাঁরা দাবি করছেন, ওই চারটি রেককে মেরামত করে শীঘ্রই লাইনে আনা হবে। মেট্রো কর্তারা এ কথা বললেও এটা যে প্রায় অসম্ভব সেটা মেট্রোর কর্তাদের একাংশই জানিয়েছেন।

    শুধু রেক নয়, মেট্রোর হাতে যে পাঁচটি প্রকল্প ছিল, সেগুলিরও একই হাল। জোকা-বিবাদি-বাগ থেকে শুরু করে নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর, কোনও প্রকল্পই আগামী ১০ বছরেও চালু করতে পারবে কি মেট্রো? ইস্টওয়েস্ট মেট্রোর হালও তথৈবচ। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার ১০ বছর পরেও সেক্টর ফাইভ থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত চালানোর পরিকল্পনাই করা যাচ্ছে না। এখনও একজন কর্মীও নিয়োগ করা যায়নি। ফলে এই পরিকল্পনাও প্রায় অথৈ জলে।

    বোর্ড কর্তারাও মেট্রোর এই হাল নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। ফলে এত ঢাকঢোল পিটিয়ে কলকাতায় যে পরিবহণ-পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়িত করা যাবে কিনা, তা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন উঠে গিয়েছে আম জনতার মধ্যে। কলকাতাবাসীরা এখন বলছেন, মেট্রোর কোনও প্রকল্পই যখন হচ্ছে না, তখন রাস্তা দখল করে দাঁড়িয়ে থাকা বড় বড় স্তম্ভগুলি সরিয়ে দিলে ক্ষতি কী? তাতে অন্তত রাস্তা অনেকটা চওড়া হবে। সড়ক পথে গতি আসবে।

    আরও পড়ুন-

    https://www.thewall.in/2019/01/news-kolkata-fire-breaks-in-dumdum-metro/

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More