মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২২

ছত্তীসগড় নিয়েই আপত্তি ছিল স্ত্রীর, আর ফেরা হল না সিআইএসএফ জওয়ান দীনাঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের খবর শুনলেই আঁতকে উঠতেন মিতা দেবী। সেই বিস্ফোরণ তাঁরই হাহাকারের কারণ হবে তা অবশ্য জানতেন না। বৃহস্পতিবার বিকেল সেই খবরই বয়ে আনল। ছত্তীসগড়ে মাওবাদীদের ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ নিহত হয়েছেন তাঁর স্বামী দীনাঙ্কর মুখোপাধ্যায়ও। খবরটা শুনে নিজের  কানকে বিশ্বাস করেননি স্ত্রী।

ছত্তীসগড়ে মাওবাদী হামলায় নিহত একমাত্র জওয়ান পশ্চিমবঙ্গের দীনাঙ্কর মুখোপাধ্যায় (৫২)। খবর আসতেই, বর্ধমানের ইছালাবাদে দীনাঙ্করের বাড়ির দীপাবলি নিমেষে শোকে পরিণত হয়েছে।

ছত্তীসগড়ের দান্তেওয়াড়ায় যাত্রিবাহী বাসে মাওবাদী হামলা, নিহত ১ জওয়ান সহ ৫

বর্ধমানের ৩ নম্বর ব্লকের ইছালাবাদের ঘোষপাড়ায় বাড়ি দীনাঙ্করের। সকাল সাড়ে সাতটা স্ত্রীর মিতার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। জানান বাজার থেকে ফিরে এসেই ফোন করবেন। সেই ফোন আর আসে না। বিকেল গড়িয়ে সন্ধে হতেই ফোন বেজে ওঠে মিতা দেবীর, খবর আসে বিস্ফোরণে  নিহত ১ জওয়ান তাঁরই স্বামী দীনাঙ্কর।

দুর্গাপুজোর আগে কয়েকদিনের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন দিনাঙ্কর। “ভাগ্যিস এসেছিলেন, না হলে তো আর দেখাই হোত না”, দীনাঙ্করের মৃত্যুর খবর পেয়ে বলে ওঠেন শোকস্তব্ধ মিতা। স্বামীর ছত্তীসগড়ে পোস্টিং যে একেবারেই চাননি তিনি। হয়ত এই ভয়টাই পাচ্ছিলেন। দীনাঙ্করের একমাত্র ছেলে একাদশ শ্রেণির ছাত্র। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে মায়ের কাছেই টানা বসে সে।

ভোটের ছত্তীসগড়ে ডিউটি দিচ্ছিলেন সিআইএসএফ জওয়ান দীনাঙ্কর। তবে বৃহস্পতিবার ডিউটির আগে বাজার করতে জগদলপুরে  গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ হয়, চার স্থানীয় বাসিন্দা সহ নিহত হন দীনাঙ্কর।একটি যাত্রিবাহী বাসে বিস্ফোরণ হয়। বাসের ভিতরেই ছিলেন দীনাঙ্কর।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিস্ফোরণের খবর পাচ্ছিলেন দীনাঙ্করের পরিবার। সকালেই কথা হওয়ায় স্বামীকে নিয়ে মিতা দেবী নিশ্চিন্তই ছিলেন। বিকেলেই সকালের নিশ্চিন্ত মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

আপাতত স্বামীর কফিন বন্দী দেহের অপেক্ষায় স্ত্রী মিতা দেবী সহ গোটা পরিবার।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.