আরও পিছনে চিনা বাহিনী, গালওয়ানের পর হট স্প্রিং থেকেও সরল লাল ফৌজ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: গালওয়ান উপত্যকা থেকে চিনা সেবনাবাহিনী সরতে শুরু করেছে তা সোমবারই জানা গিয়েছিল। মঙ্গলবার জানা গেল, শুধু গালওয়ান উপত্যকা নয়। বিতর্কিত হট স্প্রিং এলাকা থেকে অন্তত দু’কিলোমিটার পিছনে সরেছে লাল ফৌজ।

    সূত্রের খবর, ১৫ নম্বর প্যাট্রলিং পয়েন্ট থেকে পুরপুরি বাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়েছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। ফিঙ্গার পয়েন্ট ৫ থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮ এর মধ্যে সারি সারি কালো ত্রিপল ঢাকা চিনের সেনার ক্যাম্প লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সেখান থেকেও ছাউনি উধাও হয়েছে। ভারতের বাহিনীও সরে এসেছে পিছনে। ফলে গালওয়ানের মতো এখানেও তৈরি হয়েছে একটি নিরপেক্ষ অঞ্চল তথা বাফার জোন।

    সেনা সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, যে গোগরা হট স্প্রিং এলাকায় ট্রাক, বুলডোজার নিয়ে ধীরে ধীরে ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে ঢুকে আসছিল চিনের লাল ফৌজ সেই জায়গা থেকে গাড়ি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে। বুধবারের মধ্যে সেই জায়গা পুরো খালি হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী।

    রবিবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে টেলিফোনে বৈঠক করেন চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। সেই ফোনালাপের পরেই সোমবার থেকে এই পদক্ষেপ শুরু করে লাল ফৌজ। জানা গেছে, ডোভাল ও ওয়াং-এর আলোচনায় উঠে এসেছে, সীমান্তে স্থিতাবস্থা ও শান্তি ফেরানোর জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং পর্যবেক্ষণ জরুরি বলে সহমত হয়েছে চিন। এর পরে চিন সেনা সরালে ভারতও সরে আসে। এর পরে আজ সোমবার এক বিবৃতি জারি সরকার বলেছে, “এই ডিজএনগেজমেন্ট আরও আগে হতে পারত। আশা করছি, এই ডিসজএনগেজমেন্ট জারি থাকবে আগামী দিনেও।”

    গত আট সপ্তাহ ধরে গালওয়ান উপত্যকা-সহ লাদাখ সীমান্তে ভারত-চিন উত্তেজনা বিরাজ করছে। ১৫ জুন রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটে। তার আগে ৬ জুন লেফটেন্যান্ট পর্যায়ের বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ভারত এবং চিন দু’পক্ষই ওই এলাকা থেকে বাহিনী সরিয়ে নেবে।  সীমান্তে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তা প্রশমিত করতে দু’পক্ষই উদ্যোগী হবে। কিন্তু তারপর উত্তেজনা তো কমেইনি বরং চরম সংঘাতের ঘটনা ঘটে যায়। অনেকের মতে, ১৯৬৭ সালের পর ভারতের বিরুদ্ধে চিনা সেনাদের এমন আগ্রাসী রূপ আর দেখা যায়নি।

    চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে ১৫ জুন মৃত্যু হয় ২০ জন ভারতীয় সেনার। আহত হন ৭৬ জন। চিনের তরফেও ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করা হয়। তবে কতজন পিএলএ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে তা বেজিং স্পষ্ট করেনি।

    ওই সংঘর্ষের পর ২৩ জুন ফের লেফটেন্যান্ট পর্যায়ের বৈঠক হয়। তারপর আরও দু’বার নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন চিন ও ভারতের লেফটেন্যান্ট পর্যায়ের আধিকারিকরা। এর মধ্যেই একাধিক উপগ্রহ চিত্র সামনে এসেছে। যেখানে দেখা গিয়েছে চিনাবাহিনী শুধু প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের অনেকটা ভিতরে ঢুকে আসেনি, তারা তাঁবু বানিয়েছে, অস্ত্রও সাজিয়ে ফেলেছে।

    গত শুক্রবার হঠাৎ লেহ সফরে চলে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগে দু’দিনের সফর সেরে এসেছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। লেহতে গিয়ে সেনাবাহিনীর প্রশংসার পাশাপাশি চিনের নাম না করে কড়া হুঁশিয়ারি দেন মোদী। বলেন, “সাম্রাজ্য বিস্তারের জমানা খতম হয়ে গিয়েছে। এখন উন্নয়নের জমানা। ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হয় পরাস্ত হয়েছে, কিংবা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে”।

    এর মধ্যেই চিনকে অর্থনৈতিক ভাবে জব্দ করতে ৫৯টি চিনা অ্যাপ ভারতে বন্ধ করে দেয় নয়াদিল্লি। পর্যবেক্ষকদের মতে, চিনের অর্থনীতিতে যার অভিঘাত সুদূরপ্রসারী। ভারতে যে ভাবে চিনা পণ্য বয়কটের সুর তীব্র হচ্ছিল তাতে চাপে পড়ে গিয়েছে বেজিংও। কাকতালীয় হল, এই সমস্ত পদক্ষেপের পর থেকেই দৃশ্যত কিছুটা নরম চিনা আর্মি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More