করোনা ধ্বংস করবে ‘ন্যানোজাইম’! সংক্রমণ ঠেকাতে নয়া হাতিয়ার বানিয়েছে তারা, দাবি চিনের

চিন ফের দাবি করেছে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা নষ্ট করে দেবে গবেষণাগারে বানানো একধরনের ন্যানোমেটিরিয়াল। সেই উপাদান ইতিমধ্যেই তারা বানিয়ে ফেলেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড-১৯ সংক্রমণ রুখতে ভ্যাকসিন নাকি বানিয়ে ফেলেছে চিন, এমনটাই দাবি করেছিল সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এডি৫-এনসিওভি (Ad5-nCOV) নামে সেই ভ্যাকসিনের নাকি এখন মানুষের উপর প্রয়োগ করা (Human Trial) হচ্ছে। এর মধ্যেই চিন ফের দাবি করেছে সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা নষ্ট করে দেবে গবেষণাগারে বানানো একধরনের ন্যানোমেটিরিয়াল। সেই উপাদান ইতিমধ্যেই তারা বানিয়ে ফেলেছে। ট্রায়ালে সফল হলেই মহামারী একেবারে থামিয়ে দেওয়া সম্ভব।

    গ্লোবাল টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে এক শক্তিশালী অস্ত্র চলে এসেছে চিনের হাতে। এই অস্ত্র কোনও ড্রাগ বা ভ্যাকসিন নয়, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এমন উপাদান যা দিয়ে যে কোনও সংক্রমণ সৃষ্টিকারী ভাইরাস বা পরজীবীকে নষ্ট করে ফেলা যায়। ভাইরাস আক্রান্ত দেহকোষের উপরে প্রয়োগ করে শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকানো যায়। গ্লোবাল টাইমের খবর অনুযায়ী, এমন উপাদান যদি সত্যিই বানিয়ে ফেলে চিন, তাহলে মারণ ভাইরাস নির্মূল করার লক্ষ্যে অনেকটাই এগিয়ে গেছে তারা।

    করোনাভাইরাসকে  ‘ডিঅ্যাক্টিভেট’ করে দেবে ন্যানোজাইম?

    ন্যানোনজাইম (Nanozymes) আসলে ন্যানোমেটিরিয়াল বা ছোট ছোট উপাদানে তৈরি কৃত্রিম এনজাইম। গবেষণাগারে এই ধরনের এনজাইম তৈরি করা হয়। আসল এনজাইমের মতোই কাজ করে এই ন্যানো-এনজাইম বা কৃত্রিম এনজাইমরা (Artificial Enzymes)। সাধারণত ওষুধ তৈরির জন্য বা কোনও মারণ রোগের চিকিৎসায় যেখানে শরীরের স্বাভাবিক হরমোন ও উৎসেচক তৈরির ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, সেখানে এই কৃত্রিম এনজাইম প্রয়োগ করে রোগ সারারো চেষ্টা করা হয়। ওষুধ তৈরির উপাদান, লুব্রিক্যান্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয় এই জাতীয় ন্যানোমেটিরিয়াল।

    চিন দাবি করেছে তাদের উন্নত ন্যানোটেকনোলজির সাহায্যে তারা এমন উপাদান বানিয়েছে যা সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনের কাজ করার ক্ষমতাই নষ্ট করে দেবে। ভাইরাস আক্রান্ত কোষগুলিকে শনাক্ত করে যদি প্রয়োগ করা যায় এই উপাদান, তাহলে তাদের সঙ্গে জমিয়ে লড়াই করবে ন্যানো-এনজাইম। ভাইরাল প্রোটিনের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতাকে থামিয়ে দেবে। আর এই উপাদানগুলির সাফল্যের হার ৯৬.৫-৯৯.৯%।

    এমন ন্যানোজাইম তৈরিতে চিন কতটা সফল হয়েছে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ জানিয়েছে, সত্যিই যদি ন্যানোমেটিরিয়াল বানিয়ে ফেলে চিন তাহলে ভাইরাস ঠেকানোর একটা সম্ভাবনা আছে। ক্যানসার রোগের চিকিৎসাতেও ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করা হয়। গবেষণাগারে বানানো মডিফায়েড ন্যানোমেটিরিয়াল (engineered nanomaterials) অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে চিন কতটা সেখানে সফল সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More