উমফান: ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে সাত জনের টিম পাঠাচ্ছে কেন্দ্র, কাল দুই ২৪ পরগনায় যাবেন তাঁরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    রফিকুল জামাদার

    গত ২০ মে উমফান ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছিল পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে। সেই ভয়ঙ্কর ঝড়ের তাণ্ডবে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির আন্দাজ পেতে একদিন পরই কবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ বার ক্ষয়ক্ষতির সামগ্রিক সমীক্ষা করতে সাত জনের প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে কেন্দ্র।

    আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই প্রতিনিধি দল কলকাতায় পৌঁছনোর কথা। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’ভাগে ভাগ হয়ে প্রতিনিধি দলের মধ্যে একটি টিম আগামীকাল, ৫ জুন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় পরিদর্শনে যাবে। অন্য টিমটি যাবে উত্তর চব্বিশ পরগনায়। পরদিন তাঁরা কোথায় যাবেন সেই নির্ঘন্ট এখনও অবশ্য জানানো হয়নি। তবে ৬ তারিখ রাতেই তাঁদের দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা।

    পাথরপ্রতিমার কলেজ গ্রাউন্ডে তৈরি হেলিপ্যাড

    উমফানের ত্রাণ ও পুনর্গঠনের জন্য অন্তর্বর্তী সাহায্য হিসাবে ১ হাজার কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তা ঘোষণা করার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে সেই টাকা রাজ্যের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। স্বাভাবিক ভাবেই আগের অনুদানকে ‘অন্তর্বর্তী’ আখ্যা দেওয়ার অর্থই হল বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করে কেন্দ্র আরও অর্থ অনুমোদন করবে।

    যে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল কেন্দ্র পাঠাচ্ছে তার নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব অনুজ শর্মা। তাঁর সঙ্গে রয়েছে কৃষিমন্ত্রকের ডিরেক্টর নরেন্দ্র কুমার, মৎস্য দফতরের অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার আর পি দেবে, অর্থমন্ত্রকের ডিরেক্টর এস সি মিনা প্রমুখ।

    নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পাথরপ্রতিমা, ব্রজবল্লভপুর, রামগঙ্গা, ভাড়াতলা এলাকা ঘুরে দেখবে ওই প্রতিনিধি দল। উত্তর চব্বিশ পরগনার ধামাখালি, সন্দেশখালি এলাকা তাঁরা পরিদর্শন করবেন।

    সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রের এই প্রতিনিধি দলের সমীক্ষা ও রাজ্য সরকারের সমীক্ষা পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত অনুদানের অঙ্ক স্থির করা হবে।

    প্রসঙ্গত, ওড়িশায় ফণী ঘূর্ণিঝড়ের পর ক্ষতিপূরণের জন্য মোট ৪৬৭৯.২২ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল কেন্দ্র। প্রথমে অগ্রিম হিসাবে ১৩৪১ কোটি টাকা দিয়েছিল মোদী সরকার। পরে গত বছর অগস্ট মাসে, অর্থাৎ ফণী তাণ্ডব চালানোর তিন মাস পর আরও ৩৩৩৮.২২ কোটি টাকা অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

    ওড়িশায় ফণী ঘূর্ণিঝড়ের সময় মোট ১৫.৫ লক্ষ (ঝড়ের আগে ও পরে মিলিয়ে) লোককে সরিয়ে ত্রাণ শিবিরে রেখেছিল প্রশাসন (উমফানের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ৬ লক্ষ লোককে সরিয়ে ত্রাণ শিবিরে রাখা হয়েছে)। তা ছাড়া ফণীর অভিঘাতে প্রভাবিত হয়েছিলেন ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ। ১.৮৮ লক্ষ হেক্টর চাষযোগ্য জমির ক্ষতি হয়েছিল। ৫,৫৬,৭৬১টি বাড়ি পুরো বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৬৪ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সে বারের ঘূর্ণিঝড়ে। তা ছাড়া ২৬৫০টি বড় পশু, ৩৬৩১ টি ছোট পশু এবং ৫৩ লক্ষ পোলট্রির মুরগি মারা গেছিল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More