বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

#Breaking: শিলংয়ে রাজীব কুমারকে জেরা করতে শনিবার রাতে আরও দুঁদে অফিসার পাঠাচ্ছে সিবিআই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফান্ড কাণ্ডে তদন্তের গতি বাড়াতে দু’দিন আগে দশ জনের একটি টিমকে কলকাতায় পাঠিয়েছিল সিবিআই। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে দিল্লি থেকে আরও একটি বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে। যে অফিসাররা শুক্রবার সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই দফতরে রিপোর্ট করেছেন। সম্ভবত শনিবার রাতেই তাঁরা পৌঁছে যাবেন শিলংয়ে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে শনিবার শিলংয়ে সিবিআইয়ের দফতরে কলকাতার পুলিশ কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে। শুক্রবার তাঁর সঙ্গে শিলংয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন, কলকাতা পুলিশের আরও দুই কর্তা জাভেদ শামিম ও মুরলীধর শর্মা। কলকাতার পুলিশ কমিশনারের তরফে আইনজীবীরাও রয়েছেন বলে খবর। তবে সূত্রের খবর, এ দিন সিবিআই দফতরে পৌঁছোনোর পর এজেন্সির অফিসাররা জাভেদ শামিম ও মুরলীধর শর্মাকে বলেন, রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে অনেক সময়, তাঁরা বাইরে অপেক্ষা করতে পারেন। আইনজীবীদেরও ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
 
সিবিআইয়ের একটি সূত্রের দাবি, এ দিন সিবিআই দফতরে পৌঁছেই রাজীব কুমার সিবিআই কর্তাদের জানিয়েছেন, তাঁর কাছে যা জিজ্ঞাস্য রয়েছে তা সিবিআই যেন শনিবার ও রবিবারের মধ্যেই শেষ করে ফেলে। কারণ, কলকাতায় তাঁর কাজের চাপ রয়েছে। তবে তার কোনও জবাব মেলেনি সিবিআইয়ের তরফে।
কেন্দ্রীয় এই তদন্ত এজেন্সি যে সব দিকে গুছিয়েই জিজ্ঞাসাবাদে নামছে তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছিল বৃহস্পতিবারই। কারণ, রাজীব কুমারের পাশাপাশি তাঁরা জেরার জন্য শিলংয়ে ডেকেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ কুণাল ঘোষকে। এ দিন দুপুরে মেঘালয়ে পৌঁছে গিয়েছেন কুণাল। শিলংয়ের পথে রওনা হয়েছেন তিনি। সিবিআই সূত্রের খবর, রবিবার রাজীব কুমার ও কুণালকে মুখোমুখি বসানো হতে পারে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই শিলংয়ে নতুন টিম পাঠানোর বন্দোবস্তও চলছে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে। কারণ, হতে পারে তখন নতুন টিমের গোয়েন্দা তথা দুঁদে অফিসাররা উপস্থিত থাকবেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে কুণাল বহুবার অভিযোগ করেছেন যে চিটফান্ড কাণ্ডে তাঁকে ফাসিয়েছে রাজ্য সরকার তথা পুলিশ। শুধু তা নয়, তিনি বার বার অভিযোগ করেছেন যে চিটফান্ড সংক্রান্ত প্রচুর নথিপত্র, তথ্য ও প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে। বিধাননগরের প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান অর্ণব ঘোষের বিরুদ্ধেও এ ব্যাপারে বারবার প্রকাশ্যে আঙুল তুলেছেন তিনি। সিবিআই কর্তাদের জেরায় সে সব কথা তিনি জানিয়েওছিলেন। কুণালের সেই সব জবানবন্দি রেকর্ড করেও রেখেছে সিবিআই। সম্ভবত এ বার জেরার সময় সেখান থেকেই ফের প্রসঙ্গ টেনে আনা হবে।
রাজনৈতিক শিবিরের অনেকের মতে, বিষয়টি এখন সিবিআই ও কলকাতা পুলিশের মধ্যে কার্যত ইগোর লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। কারণ, সিবিআইয়ের গোয়েন্দাদের গত রবিবার কলকাতা পুলিশ যে ভাবে হেনস্থা করেছে ও টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলেছে তাতে এই এজেন্সির শীর্ষ সারির কর্তারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। বিষয়টি এই কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে গরিমারও প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। ফলে চিটফান্ড তদন্তে সব রকম ভাবে গতি বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবারই কলকাতায় সিবিআই দফতরে এক চিটফান্ড সংস্থার কর্ণধারকে ডেকে জেরাও করা হয়েছে বলে খবর। অর্থাৎ ব্যাপারটা শুধু রাজীব কুমারকে জেরা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সামগ্রিক ভাবে চিটফান্ডের তদন্তের জন্যই ঝাঁপিয়ে পড়েছে এই কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
Shares

Comments are closed.