সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

ক্যানসারে আক্রান্ত ভাই, পাশে রয়েছে তার ছোট্ট দিদি! মায়ের ফেসবুক পোস্ট কাঁদিয়ে দিল নেটিজেনদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোট্ট একটি বাচ্চা ছেলে বমি করছে। পাশে দাঁড়িয়ে তার থেকে আর একটু বড় এক বাচ্চা মেয়ে। সে ছেলেটির পিঠে হাত বুলিয়ে তার কষ্ট কমানোর চেষ্টা করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়া এ ছবি ভাইরাল হয়েছে নিমেষে। ভেজা চোখে এ ছবি শেয়ার করেছেন হাজার হাজার নেটিজেন। ভেজা, কারণ ছবির সঙ্গে বাচ্চা দু’টির মা একটি লেখাও পোস্ট করেছেন। ভাগ করে নিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতা। জানিয়েছেন, ক্যানসার অসুখটি কী ভাবে আক্রান্তের আশপাশের মানুষগুলোকেও বদলে যেতে শেখায়।

ছবিতে দেখা যাওয়া ছোট্ট ছেলেটির বয়স চার। এক বছরের কিছু বেশি সময় ধরে সে ভুগছে মারণ রোগে। বড় মেয়েটি তার থেকে সামান্যই বড়, পাঁচ বছরের। যে বয়সে তার ভাইয়ের খেলার সাথী হয়ে থাকার কথা, সে বয়সে সে কী ভাবে ভাইয়ের অবলম্বন হয়ে উঠেছে, সে কথাই শেয়ার করেছেন তাদের মা। মর্মস্পর্শী সেই পোস্ট পড়ে কেঁদে ফেলেছেন অনেকেই। আর এই করুণ রসই পোস্টটিকে ভাইরাল করে দিয়েছে গত কয়েক দিন ধরে।

ক্যানসার। শব্দটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে, সকলের মনেই বোধ হয় ভেসে আসে দু’টি প্রতিচ্ছবি। এক, হাসপাতাল-ডাক্তার-ওষুধ মিলিয়ে একটা চিকিৎসার ছবি আর দুই, টাকা-পয়সার সংস্থান করার চিন্তা। কিন্তু এ সবের বাইরেও ক্যানসারের সঙ্গে যে জিনিসটা ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে, তা হল পরিবার। আর বিশেষ করে পরিবারের কোনও খুদে সদস্য যদি এই মারণ রোগে আক্রান্ত হয়, তা হলে তা যে গোটা পরিবারকে কী ভাবে বদলে দেয়, সে কথা আলাদা করে ভাবার বিষয়।

তাই নিয়েই ফেসবুকে নিজের অভিজ্ঞতা লিখেছেন আমেরিকার এক মা, কেইটলিন বার্জ। জানিয়েছেন, তাঁর চার বছরের সন্তান ক্যানসারে আক্রান্ত হওযার পর থেকে কী ভাবে বদলে গিয়েছে তাঁর পরিবার। এবং সব চেয়ে বড় কথা, এই ঘটনা কী ভাবে প্রভাব ফেলেছে পরিবারেরই আর এক ছোট্ট সদস্য, তাঁর বড় মেয়ের উপর।

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কেইটলিন লিখেছেন, তাঁর ছেলে বেকেটের গত বছর এপ্রিল মাস থেকে যখন লিউকোমিয়া ধরা পড়েছে, তখন থেকে কী ভাবে একটু একটু করে বদলে গিয়েছে, তার থেকে মাত্র ১৫ মাসের বড় দিদিও। ছোট্ট, আদরের যে ভাইয়ের সঙ্গে সে রোজ হাসত, খেলত, স্কুলে যেত, তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে দেখার লড়াই বছর ছয়েকের একটি মেয়ের পক্ষে কতটা কঠিন হতে পারে, তা উঠে এসেছে কেইটলিনের পোস্টে। একই সঙ্গে উঠে এসেছে, তাঁর মেয়ে কী ভাবে শক্ত হয়ে উঠেছে কাছ থেকে এই লড়াইটা দেখে।

এই পোস্টের সঙ্গেই দু’টি ছবি দিয়েছেন কেইটলিন, যেখানে বেকেট রাতে উঠে বমি করছে। আর তার ছোট্ট দিদি, পিঠে হাত বুলিয়ে তার কষ্ট কমানোর চেষ্টা করছে। এই ছবি দু’টিই যথেষ্ট, নেটিজেনদের মন আর্দ্র করে দেওয়ার জন্য।

লিউকোমিয়ার যন্ত্রণা বড় কষ্টকর। বিশেষ করে তা যখন শিশু-শরীরকে আক্রমণ করে, তা যেন অসহনীয়। অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হয় শিশু। যখন-তখন রক্ত পড়ে, যেখানে সেখানে কালশিটের দাগ ফুটে ওঠে। হাড়ে অসহ্য ব্যথা। জ্বর, সংক্রমণ, পেটে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট– কী না ভুগতে হয় তাকে! এর পরে আছে কেমোথেরাপি, রক্ত দেওয়া, ওষুধ, রেডিয়েশন, বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন– তালিকার যেন শেষ নেই। তার পরেও সম্পূর্ণ উপশম হয় না কষ্টের, বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা তো দূরের কথা।

আর এ সবের বাইরে থাকে এক লড়াকু পরিবারের যুদ্ধ। এই যুদ্ধের কথাই লিখেছেন কেইটলিন। ৩৫ হাজার মানুষ ভাগ করে নিয়েছেন তাঁর লেখা। প্রচুর মানুষ পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন, সান্ত্বনা জুগিয়েছেন। কেউ আবার নিজের সন্তানের কষ্ট ভাগ করে নিয়েছেন কেইটলিনের সঙ্গে।

কেইটলিন তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “ওরা একসঙ্গে খেলত, স্কুলে যেত। হঠাৎই এক দিন ঠান্ডা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল ভাইকে। ছোট্ট দিদিও বসে রই তার সঙ্গে। চোখের সামনে দেখল, ভাইকে নিয়ে ছুটোছুটি চলছে, তার শরীরে একাধিক ছুঁচ, মুখে মাস্ক ডক্টররা তাকে পাম্প করছে, ওষুধ দিচ্ছে… দিদি জানতই না, যে ভাই তার সব চেয়ে প্রিয় বন্ধু, সেই ভাইয়ের শরীরে কী এমন অসুবিধা ছিল!”

এক মাস হাসপাতালে থাকার পরে বাড়ি ফেরে বেকেট। এর পর শুরু অন্য লড়াই। কেইটলিন লিখেছেন, “তার প্রাণবন্ত ভাইটা এখন সব সময়ই ঝিমিয়ে থাকে। একা হাঁটতে পারে না, কথা বলতেও তার কষ্ট হয়। দিদির হয়তো মনে হয়, কেন তারা আগের মতো আর পার্কে যেতে পারবে না, কেন তার ভাই স্কুলে যায় না আর তার সঙ্গে। কিন্তু একই সঙ্গে, দিদি কখনও ভাইকে জোর করে না। বরং সব সময়ে সবটুকু দিয়ে আগলে রাখে, পাশে থাকে। তাকে কেউ শিখিয়ে দেয়নি, ভাইয়ের কষ্ট হচ্ছে বলে। অথচ এত ছোট একটি মেয়ে নিজেই বুঝে নিয়েছে তার কী করা উচিত।”

কেইটলিন আরও লিখেছেন, “অনেকেই আমাদের প্রশ্ন করেছেন যে আমরা বেকেটের দিদিকে কেন হাসপাতালে নিয়ে যেতাম ভাইয়ের অসুখের সময়ে। সে কেন এত অল্প বয়সে এত কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হল? আমি বলব, পরিবারে কারও অসুখ করলে শিশুদের কখনওই দূরে রাখা উচিত নয়। বিশেষ করে সে অসুখ যদি আর এক শিশুর করে, তা হলে তো তার থাকা সব চেয়ে জরুরি। পরিস্থিতির মুখে যত্ন নিতে শেখে তারা। বেকেটের দিদি সব সময় ওর পাশে থাকে। বেকেট অসুস্থ হয়ে পড়লে, যত্ন করে। বাথরুমে নিয়ে যায়। নিজের অনেক কিছু প্রিয়জনের জন্য ছাড়তে হয়, এটা ও এখনই শিখে ফেলেছে।”

“ও চোখের সামনে দেখছে, ভাইয়ের শরীর ক্রমে ক্ষয়ে যাচ্ছে। ওজন কমে যাচ্ছে রোজ। ও সব সময় ভাইয়ের পাশে পাশে থাকছে। এটা আর পাঁচটা অসুখের মতো নয়, অন্য ক্যানসারের সঙ্গেও এর তুলনা হয় না। এটা ‘চাইল্ডহুড ক্যানসার’। একে এ ভাবেই গ্রহণ করতে হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। কেউ না চাইলে, কোরো না।”

দেখুন, কেইটলিনের গোটা পোস্ট। তাঁর ছেলের নামে খোলা একটি ফেসবুক পেজ থেকে এটি শেয়ার করেছেন তিনি।

One thing they don’t tell you about childhood cancer is that it affects the entire family. You always hear about the…

Beckett Strong এতে পোস্ট করেছেন মঙ্গলবার, 3 সেপ্টেম্বর, 2019

Comments are closed.