ভাল নেই ব্রিটেন, আক্রান্ত লাখের বেশি, সংক্রামিত স্বাস্থ্যকর্মীরা, ৪০ হাজার মৃত্যুর আশঙ্কা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেনের হাসপাতালগুলিতে ঠাসাঠাসি ভিড়। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, গত ছ’দিনে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৯০০ জনের। আক্রান্ত লাখের বেশি। জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রিটেনে এখন মৃতের সংখ্যা ১৪,৫৭৬।

    গত ১০ এপ্রিল ব্রিটেনের সবচেয়ে ভয়ঙ্করতম দিন ছিল। ওই এক দিনেই ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ছিল ৯৮০। আক্রান্ত হাজারের বেশি। একদিনে মৃত্যুর রেকর্ডে ইতালিকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল ব্রিটেন। গত ১৩ এপ্রিল ইতালিতে সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছিল ৯৫০ জনের।

    ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক অ্যান্থনি কসটেল্লো বলেছেন, ইতালি, স্পেনে সংক্রমণের গ্রাফ নিম্নমুখী, অথচ ব্রিটেনে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাঁর দাবি, এর একমাত্র কারণ সচেতনতার অভাব। গোটা বিশ্ব যখন সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের পথে যাচ্ছিল, ব্রিটেনে তখনও রমরম করে চলছিল একাধিক পাব-রেস্তোরাঁ। সামাজিক মেলামেশাতেও লাগাম টানা হয়নি। হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে সংক্রামিতদের চিকিৎসার জন্য আলাদা কোনও ব্যবস্থাও করা হয়নি সরকারি তরফে। নজর দেওয়া হয়নি স্বাস্থ্যকর্মীদের উপরে। যার কারণেই ব্রিটেনের বেশিরভাগ হাসপাতালের ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, প্যারামেডিক্যাল স্টাফের শরীরে সংক্রমণ বাসা বেঁধেছে। ক্রমশই ভেঙে পড়ছে স্বাস্থ্য পরিষেবা।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর এক প্রাক্তন আধিকারিক বলেছেন, যেভাবে ব্রিটেনে সংক্রমণ লাগামছাড়া এবং তাকে রোখার যথাযথ ব্যবস্থাও দেরিতে শুরু হয়েছে, তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    পৃথিবী জুড়ে সংক্রমণের সংখ্যা এখন ২২ লাখের উপরে। মৃত্যু ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ছাড়িয়েছে।  ইউরোপে সব চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ইতালির। ২২,৭৪৫ জনের প্রাণ যাওয়ার পরে এ দেশে মৃত্যুহার কিছুটা কমেছে। স্পেনে মারা গিয়েছেন ২০,০০২ জন। ফ্রান্সে সংখ্যাটা ১৪,৬৮১। ব্রিটেনে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও করোনা-আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে তাঁর অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। সংক্রমণ ঠেকাতে আগামী একবছরের জন্য দেশকে তালাবন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ব্রিটেনের বিশেষজ্ঞরাও আপাতত স্কুল-কলেজ-সহ যে কোনও ধরনের জমায়েত দীর্ঘমেয়াদি ভাবে বন্ধ রাখার উপরে জোর দিচ্ছেন। বন্ধ রাখা হবে বাজার-দোকানও।

    দেশের স্বাস্থ্যসচিব ম্যাট হ্যানকক জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের পিপিই পর্যাপ্ত পরিমানে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। সরকারি বেসরকারি সব হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমেই এই পিপিই সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু একথা জানানোই সার। তবে অভিযোগ, বাস্তবে এমনটা হয়নি বা হচ্ছে না। তাই হু হু করে বাড়ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের সংক্রমণ। এমনিতেই সারা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় ধসে যাওয়ার মুখে। তার উপরে একসঙ্গে এত ডাক্তার-নার্সের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় হাসপাতালগুলিতে কার্যত অসম্ভব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইসোলেশন ওয়ার্ড উপচে পড়ছে। রোগী দেখার মানুষ নেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More