গাড়ি নিয়ে নিল পুলিশ, মন্দিরে ধর্না ভারতীর, বললেন ‘কেশপুর যেন কাশ্মীর’  

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদম প্রথম দফার ভোটে কোচবিহারের বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক ধর্ণায় বসেছিলেন। কিন্তু সেটা ভোট শেষ হয়ে যাওয়ার পর। ষষ্ঠ দফায় মাঝ দুপুরেই ধর্ণায় বসে পড়লেন ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ। পুলিশ সিজ করে নিল তাঁর দুটি গাড়ি। তারপরেই কেশপুর কালীমন্দিরের চাতালে ধর্ণায় বসেন পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার। কিন্তু সেখানেও থাকতে পারলেন না। ঘণ্টা দেড়েক পুলিশ সেখান থেকে তাঁকে এবং তাঁর ইলেকশন এজেন্টকে কেশপুর থানায় নিয়ে গিয়ে বসানো হয়। সেখানে বসেই ক্ষুব্ধ ভারতী বলেন, “কেশপুরকে কাশ্মীর বানিয়েছে তৃণমূল।” পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে, ঝামেলা ঠেকাতে ভারতীকে কেশপুরের বাইরে বার করে দেওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

    সকাল থেকে ভারতী যেখানে গিয়েছেন, সেখানেই অশান্তি হয়েছে। সাত সকালে চাঁদখালিতে বিজেপি এজেন্টকে তুলে দেওয়ার খবর পেয়ে সেখানে যান ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী। বাড়ি থেকে এজেন্টকে নিয়ে পৌঁছন বুথে। কিন্তু ভারতীকে দেখেই ঘিরে ধরে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সমর্থকরা। পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনও বিজেপি এজেন্টকে বসতে দেওয়া হবে না। একদম ক্যামেরার সামনে সে কথা বলতে থাকেন তৃণমূল সমর্থকরা। তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে মাটিতে পড়ে যান ভারতী। উপড়ে যায় ডান পায়ের বুড়ো আঙুলের নখ। চোখ মুছতে মুছতে বুথ ছেড়ে চলে যান।

    সেখান থেকে ভারতী রওনা দেন কেশপুরেরই দোগাছিয়ার দিকে। খবর পান বুথ দখল করে মুড়িমুরকির মতো ছাপ্পা দিচ্ছে তৃণমূল। বুথের প্রায় তিনশো মিটার আগে ভারতীর কনভয় হাইওয়ের উপরে থাকার সময়েই ইটবৃষ্টি করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মাথা ফেটে যায় ভারতীর নিরাপত্তারক্ষীর। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় সিআইএসএফ। তৃণমূলের অভিযোগ ওই গুলিতেই তাঁদের এক কর্মী জখম হয়েছেন।

    এরপর ভারতীর গাড়ি আটক করা হয় কেশপুর থানার সামনে। ভারতী যে গাড়ি নিয়ে ঘুরছিলেন তার নাকি অনুমতিই নেই। কমিশনও এ কথা জানিয়েছে। গাড়ি আটক করতেই, ভারতী এবং বিজেপি কর্মীরা সোজা চলে যান কেশপুর কালীমন্দিরের চাতালে। সেখানে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বসার পর ওই মন্দির লাগোয়া এলাকায় জমায়েত করে তৃণমূল। অভিযোগ, পাঁচিলে উঠে ইটবৃষ্টি করেছে শাসক দলের বাহিনী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ এসকর্ট করে থানায় নিয়ে যায় ভারতীএ এবং তাঁর এজেন্টকে।

    কেশপুর থানায় বসে ক্ষুব্ধ ভারতী বলেন, “ওরা আমায় এক জায়গায় আটকে রাখতে চাইছে। গোটা কেশপুরকে কাশ্মীরে পরিণত করেছে তৃণমূল।” পাল্টা তৃণমূলের দাবি, ভারতীই অশান্তির সৃষ্টি করেছেন। যেখানে গিয়েছেন সকাল থেকে, সেখানেই প্ররোচনা ছড়িয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও বাহিনী পাঠানো হচ্ছে সেখানে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More