কেটে গেল তিন রাত, এখনও নিখোঁজ দীপঙ্কর! কুন্তল-বিপ্লবের দেহ নামল ক্যাম্প টু-তে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগে, এমনই সময়ে, এমনই একটা অপেক্ষায় ছিল গোটা বাংলার পর্বত মহল। ২০১৪ সালোর ২০ মে, কাঞ্চনজঙ্ঘার শৃঙ্গ ছোঁয়ার পরে, শৃঙ্গের পশ্চিম দিকের আর একটি শৃঙ্গ ইয়ালুং কাং অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ছন্দা গায়েন। তাঁর সঙ্গেই হারিয়ে গিয়েছিলেন দুই শেরপা দাওয়া ও মিংমা। জোরকদমে চলছিল উদ্ধারকাজ।বুক বেঁধে বসেছিল গোটা বাংলা, যদি কোনও মিরাকেল হয়। যদি খোঁজ মেলে ছন্দার। বেঁচে থাকার আশা কার্যত ছেড়ে দেওয়ার পরেও চলেছিল উদ্ধার অভিযান, অন্তত দেহের খোঁজ যদি মেলে। মেলেনি।

    এই বছরও যেন সেই একই অপেক্ষা, আর এক বাঙালি পর্বতারোহী দীপঙ্কর ঘোষের জন্য। তবে কাঞ্চনজঙ্ঘায় নয়, পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ মাকালুর কোলে নিখোঁজ হয়েছেন ৫২ বছরের এই পর্বতারোহী। বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরেকেটে গিয়েছে প্রায় তিন রাত। এখনও মেলেনি কোনও সূত্র। পর্বতারোহণ আয়োজন সংস্থা জানিয়েছে, অত্যধিক বেশি আরোহণ ও দুর্ঘটনার কারণে পর্যাপ্ত শেরপা নেই উদ্ধারকাজে পাঠানোর মতো। তার উপরে ওই এলাকার আবহাওয়াও অত্যন্ত প্রতিকূল। সব মিলিয়ে ২২ তারিখের আগে উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, ছন্দা গায়েনের কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে তিনি নিখোঁজ হওয়ার আগে তাঁর শেষ সঙ্গী ছিলেন এই দীপঙ্কর ঘোষই। কাঞ্চনজঙ্ঘা একই সঙ্গে সামিট করেন তাঁরা। তার পরে দীপঙ্কর ফিরে আসেন ছন্দাকে বিদায় জানিয়ে, ছন্দা বেরোন ইয়ালুং কাং-এর উদ্দেশে। সেই শেষ দেখা ছিল দু’জনের। পাঁচ বছর পরে যেন একই রকম ভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলেন দীপঙ্কর।

    আরও পড়ুন: শেরপা নেই, আবহাওয়া খারাপ! উদ্ধারকাজ নিয়ে টানাপড়েন, তুষাররাজ্যেই কি হারিয়ে গেলেন দীপঙ্করও!

    অন্য দিকে, কাঞ্চনজঙ্ঘার শৃঙ্গের নীচে অক্সিজেনের অভাবে মারা যাওয়া আরও দুই বাঙালি পর্বতারোহী কুন্তল কাঁড়ার ও বিপ্লব বৈদ্যর দেহ শনিবার নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে ক্যাম্প টু পর্যন্ত। শুক্রবার থেকেই তীব্র খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকাজ চালানোর চেষ্টা করে গিয়েছেন দক্ষ ছয় শেরপার উদ্ধারকারী দল। অভিযানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা পিক প্রোমোশন এজেন্সির তরফে পাঠানো হয় তাঁদের।

    শুক্রবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ বেসক্যাম্প থেকে রওনা দিয়ে, শনিবার দেহ দু’টি নামিয়ে আনতে পারেন তাঁরা। দাওয়া ওয়াংচুক শেরপার নেতৃত্বে ওই উদ্ধার-দলে ছিলেন পূর্বা শেরপা, তেনজ়িং শেরপা, ফু দর্জি শেরপা, ওংচুক শেরপা ও পাসাং দাওয়া শেরপা।

    তাঁরা দেহ দু’টি ক্যাম্প টু পর্যন্ত নামানোর পরে হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করে কাঠমাণ্ডু আনার কথা। শনিবার বার কয়েক সে চেষ্টা করা হলেও, খারাপ আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আশা করা যায়, রবিবারই তাঁদের দেহ দু’টি এসে পৌঁছবে কাঠমাণ্ডু। সেখানে উদ্ধারকাজ তদারকি করতে ইতিমধ্যেই পৌঁছেছেন পশ্চিমবঙ্গের যুবকল্যাণ দফতরের পর্বতারোহণ শাখার উপদেষ্টা দেবদাস নন্দী। পৌঁছেছেন এভারেস্টি পর্বতারোহী মলয় মুখোপাধ্যায়ও।

    বুধবার জানা গিয়েছিল, কাঞ্চনজঙ্ঘার সফল সামিট সেরে নীচে নামার সময়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাংলার দুই পর্বতারোহী কুন্তল ও বিপ্লবকে দেখতে পান ইংল্যান্ডের বিখ্যাত পর্বতারোহী, গোর্খা ব্রিগেডের সদস্য নির্মল পুর্জা। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া ওই দুই আরোহীকে নিজের এবং নিজের দলের সদস্যের অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। পুর্জা দাবি করেন, বারবার অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং সাহায্য চেয়েও পাননি তিনি। পুরজার দাবি, এই মরসুমে প্রায় ৫০ জন কাঞ্চনজঙ্ঘা সামিট করেছেন। অথচ একটা বাড়তি সিলিন্ডার দিয়ে কেউ সাহায্য করলেন না কুন্তল এবং বিপ্লবকে। কেবল অক্সিজেনের অভাবেই শেষ হয়ে গেল দুই আরোহীর, ফেসবুক পোস্টে এমনটাই জানান পুর্জা।

    আরও পড়ুন: কুন্তল-বিপ্লবকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন বিখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুর্জা! তার পর…

    হাওড়ার কুন্তল কাঁড়ার (৪৬) এবং বেলেঘাটার বিপ্লব বৈদ্যের (৪৮) দেহ ৮,০০০ মিটারেরও ওপরে রয়ে গেছিল। তাঁদের নামিয়ে আনার জন্যই ছ’জন শেরপার বিশেষ দক্ষ দল পাঠানো হয়েছিল এজেন্সির তরফে।

    ওই অভিযাত্রী দলেরই দুই জীবিত সদস্য রুদ্রপ্রসাদ হালদার এবং রমেশ রায়কে শুক্রবার সকালে হেলিকপ্টারে করে কাঠমাণ্ডু নামিয়ে আনা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি তাঁরা। কলকাতা থেকে সোনারপুর আরোহীর তরফে চন্দন বিশ্বাস এবং রাহুল হালদার কাঠমাণ্ডু পৌঁছেছেন।

    পড়ুন, রুদ্রপ্রসাদের অভিজ্ঞতা, ঠিক কী ঘটেছিল ওই দিন…

    আমরা চার জনেই মরে যেতাম! রুদ্রপ্রসাদের রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতায় ফুটে উঠল পাহাড়চুড়োর আতঙ্ক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More