শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

‘কন্যাদান’ করবেন না, বিয়ের আসরেই সাফ জানালেন পাত্রীর বাবা, কিন্তু কেন?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়ে কোনও সম্পত্তি নয়। নয় কোনও পণ্যও। অতএব মেয়ের কন্যাদান করবেন না। বিয়ের আসরেই সাফ জানালেন পাত্রীর বাবা।

কয়েকদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় হয়েছিলেন হুগলির তরুণী প্রিয়া মান্না। বিয়ের পর বাপের বাড়ি থেকে বিদায় নেওয়ার আগেই ভেঙে দিয়েছিলেন কনকাঞ্জলি প্রথার চিরাচরিত রীতি। জোর গলায় বলেছিলেন “বাবা-মায়ের ঋণ কখনও শোধ করা যায় না।“ এমনকী যাওয়ার আগে দেখে গিয়েছিলেন নিজের মাকেও। বাঙালি বিয়ের রীতি অনুযায়ী নাকি বিদায়বেলায় মেয়েকে দেখার অনুমতি নেই মায়ের। তবে সেসব নিয়মের তোয়াক্কা করেননি প্রিয়া। বরং করেছিলেন সেটাই যা তাঁর মন চেয়েছিল।

এ বার প্রিয়ার মতোই বিয়ের চিরাচরিত রীতিকে যুক্তি দিয়ে ভেঙে দিলেন আর এক বাঙালি কন্যের বাবা। বিয়ের মঞ্চেই ঘোষণা করলেন তাঁর মেয়ে কোনও সম্পত্তি নয় যে দান করে হস্তান্তর করতে হবে। অতএব এসব নিয়মকানুন অন্তত তাঁর আদরের মেয়ের বিয়ের বেলায় কিছুতেই হবে না। শুধু তাই নয় এই বিয়ের আসরে ছিল আরও চমক। পুরোহিত হিসেবে হাজির ছিলেন দুই মহিলা। তাঁদের মধ্যে একজন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নন্দিনী ভৌমিক। আর একজন তাঁরই সহকারী এবং বন্ধু রুমা রায়। জানা গিয়েছে, প্রায় দশ বছর ধরে এই পৌরোহিত্যের কাজ করছেন নন্দিনী এবং রুমা।

জানা যায়নি কোথায় বসেছিল এমন অভিনব বিয়ের আসর। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল এই বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি। অস্মিতা ঘোষ নামের এক মহিলা সর্বপ্রথম টুইট করেন এই বিয়ের আসরের ছবি। জানান যে এই বিয়েতে পৌরহিত্য করছেন দু’জন মহিলা পুরোহিত। আর একদম পাকা যুক্তি দিয়ে পাত্রীর বাবাও বুঝিয়ে দিয়েছেন ‘কন্যাদান’ করবেন না। সঙ্গে সংস্কৃত মন্ত্রের পরিবর্তে উপরি পাওনা রবীন্দ্রসঙ্গীত। সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণের পরিবর্তে বিয়ের আসরে ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজেছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিয়ের ছবি ভাইরাল হতেই পাত্রীর বাবাকে বাহবা দিয়েছেন উচ্ছ্বসিত নেটিজেনরা। সুন্দর যুক্তি দিয়ে ‘কন্যাদান’-এর রীতিকে তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। আর তাতেই রীতিমতো ওই ব্যক্তির ফ্যান হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া।

Shares

Comments are closed.