বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

জলবায়ু ধর্মঘট: সুইডিশ কিশোরীর ডাকে পরিবেশ বাঁচাতে নামছে বাংলাও

  • 3.3K
  •  
  •  
    3.3K
    Shares

শোভন চক্রবর্তী

গ্রেটা থুনবার্গকে চেনেন?

সুইডেনের  বছর ষোলর কিশোরী গ্রেটা। তার ডাকেই পরিবেশ বাঁচাতে জোট বেঁধেছে পৃথিবী। একেবারে রাস্তায় নেমে। তার ডাকে পথে নামছে বাংলাও। ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, পৃথিবীর ৪০০ শহরে পালিত হবে ‘জলবায়ু ধর্মঘট’ বা ‘ক্লাইমেট স্ট্রাইক।’

গলে যাচ্ছে বরফ। ক্রমশ বেড়ে চলেছে সমুদ্রের জল। দূষণের মাত্রা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রতিদিন। তাই পরিবেশ বাঁচাতে এই অভিনব উদ্যোগ।

 

গ্রেটা থুনবার্গ কে? কী করে এই ছোট্ট মেয়েটির ডাকে জোট বেঁধে ফেলল পৃথিবী?

গত বছর সবে তখন সুইডেনের সাধারণ নির্বাচন শেষ হয়েছে। ২০ অগস্ট, শুক্রবার হঠাৎ এই মেয়েটি সুইডেনের পার্লামেন্টের সামনের ফুটপাথে প্ল্যাকার্ড হাতে বসে পড়ে। একাধিক অভিযোগ তার। সঙ্গে দাবিও। তার অভিযোগ, বড়রা কেউ চায়না ছোটরা ভালো থাকুক। প্ল্যাকার্ডে গ্রেটা লেখে, “আমরা এখনও অনেকদিন বাঁচব। কিন্তু পৃথিবী বাঁচবে কি? দূষণ আর উষ্ণায়নে পৃথিবীর মৃত্যু ডেকে আনছ তোমরা।” তোমরা কারা? ষোল বছরের মেয়েটার আঙুল পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রনায়কদের দিকে। তার বক্তব্য, “ওই ‘পলিসি মেকারদের’ জন্যই এই দুর্গতি আমাদের। ছোটদের।” গ্রেটা আরও বলে, “আমাদের ভোটে দাঁড়ানোর বয়স হয়নি। তোমরা জিতেছ। তাই তোমাদেরই ব্যবস্থা করতে হবে। করতেই হবে।”

তারপর থেকে প্রতি শুক্রবার সকাল হলেই গ্রেটা চলে যেত সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে। বসে থাকত। দু’টো-তিনিটে শুক্রবার যাওয়ার পর গ্রেটা আর একা রইল না। সমবয়সী আরও কিছু বন্ধু জুটে গেল পার্লামেন্ট স্ট্রিটে। সপ্তাহ এগলো। বাড়তে থাকল সংখ্যা। তৈরি হল নতুন সংগঠন ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’।

কী ভাবে এগোল আন্দোলন?

চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে গ্রেটা ও তার ৬০ জন বন্ধু সোশ্যাল মিডিয়ায় রাস্তায় নামার ডাক দিল। তারিখ ঠিক হল ১৫ মার্চ, শুক্রবার। স্কুলে না গিয়ে পরিবেশ বাঁচাতে রস্তায় নামার ডাক। স্লোগান একটাই- ‘আমাদের বাঁচতে দাও, পৃথিবীকে বাঁচতে দাও।’ ফ্রাইডেস ফর ফিউচার আন্দোলনের যারা নেতৃত্বে, মানে গ্রেটার মতো কিশোরী বা তরুণ তরুণীদের দাবি, ১৫ মার্চ ওই আহ্বানে রাস্তায় নেমেছিল দুনিয়ার ১০০ শহরের ১৪ লক্ষ ছাত্রছাত্রী। সাড়া পেয়ে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটল তারা। মে মাসের তৃতীয় শুক্রবার আবার একবার রাস্তায় নামার ডাক দিল এফএফএফ। সে দিন নাকি অংশগ্রহণকারী শহরের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২২। আর আন্দোলনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৪০ লক্ষ।

এ বার জলবায়ু ধর্মঘট

২৩-২৭ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক শহরে বসবে রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ সংক্রান্ত অধিবেশন। সুইডেন থেকে একটি ছোট্ট নৌকো নিয়ে এ মাসের দু’তারিখে নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছে গ্রেটা। যেখানে বসবে অধিবেশন, তার বাইরে শুরু করেছে অবস্থান-ধর্না। প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে নিউ ইয়র্ক শহরে গ্রেটাদের ধর্না মঞ্চে। তাদের ডাক, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ‘জলবায়ু ধর্মঘট সফল করো’।

কী ভাবে হবে এই ধর্মঘট?

গ্রেটাদের আহ্বান, রাস্তায় নামুক সকলে। দাবি তুলুক, পৃথিবীকে তিলেতিলে মারা বন্ধ করুন। পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচতে দিন। পৃথিবীকে খুন করার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন। শুধু স্কুল পড়ুয়া নয়। ফ্রাইডেস ফর ফিউচার আবেদন করেছে, ওই দিন অফিস আদালত সব জায়গা থেকে বেরিয়ে অন্তত কিছুটা সময় পরিবেশ বাঁচানোর দাবি নিয়ে মানব শৃঙ্খল তৈরি হোক দুনিয়ার প্রান্তে প্রান্তে। আওয়াজ যাক রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ বিষয়ক অধিবেশনে।

বাংলাও নামছে রাস্তায়

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের নেতৃত্বে বাংলার দু’হাজার স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা ওই দিন অংশগ্রহণ করবে ‘জলবায়ু ধর্মঘটে।’ সংগঠনের নেতা তথা বিজ্ঞানকর্মী তপন সাহা বলেন, “আমাদের সংগঠনের সবকটি ইউনিট এই কর্মসূচি নিয়ে প্রচার করে চলেছি গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে। সারা দুনিয়ার মতো এ রাজ্যেও কয়েক হাজার ছেলে-মেয়ে সামিল হবে ধর্মঘটে।”

তপনবাবু জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন শহরে একাধিক বিজ্ঞান সংগঠনের উদ্যোগে এই কর্মসূচি হবে ২০ সেপ্টেম্বর। বার্তা একটাই- পৃথিবীকে বাঁচতে দিন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রেটা বলেছে, “এ বার আন্দোলনকারীর সংখ্যাটা কোটি ছাড়াবে।” আর এই দুনিয়াব্যাপী অভিনব ধর্মঘটের শরিক হবে বাংলাও।

Comments are closed.