ডায়মন্ড হারবার নিয়ে কি আরও কঠোর কমিশন? পঞ্চায়েতে ভোটই হয়নি ৯৩ শতাংশ আসনে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডায়মন্ড হারবার তথা যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচন কেন্দ্র নিয়ে এ বার গোড়া থেকেই কঠোর জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রবিবার শেষ দফার ভোট গ্রহণ হবে বাংলায়। সে দিন ভোট নেওয়া হবে ডায়মন্ড হারবারেও। কমিশনের একটি সূত্রে খবর, তার আগে ডায়মন্ড হারবারে পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে আরও কিছু বদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তা যে কোনও মুহূর্তে হতে পারে।

এ বার লোকসভা ভোটে বাংলার পুলিশ প্রশাসনে রদবদলে হাত দিয়ে গোড়াতেই ডায়মন্ড হারবারের দিকে নজর দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কলকাতা ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের পাশাপাশি বদলে দেওয়া হয়েছিল ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপারকে।

কমিশনের একটি সূত্রের বক্তব্য, ওই পদক্ষেপের জন্য আগে থেকেই ক্ষেত্র প্রস্তুত ছিল ডায়মন্ড হারবারে। পঞ্চায়েত ভোটে ডায়মন্ড হারবারে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৯৩ শতাংশ আসন জিতে নিয়েছিল তৃণমূল। শাসক দল দাবি করেছিল, বিরোধীদের সেখানে কোনও সাংগঠনিক শক্তি নেই। তাই প্রার্থী দিতে পারেনি। অথচ বিরোধীরা আদালতে গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন, গায়ের জোরে, ভয় দেখিয়ে সেখানে বিরোধীদের মনোনয়ন পেশ করতে দেওয়া হয়নি। এবং সে ভাবেই ৭২ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০৮১ টি আসনের মধ্যে ১০০৬ টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যায় তৃণমূল। আবার পঞ্চায়েত সমিতির ২০৮ টি আসনের মধ্যে ১৯৭ টি আসনে প্রার্থী দিতে পারেননি বিরোধীরা। অন্যদিকে জেলা পরিষদের সব আসনেই বিনা ভোটে জিতে যায় শাসক দল।

কমিশনের ওই অফিসারের কথায়, বাংলার ভোটে যে ধরনের হিংসার ঘটনা ঘটছে, এবং বিরোধীদের যা অভিযোগ তাতে কমিশনের পক্ষেও চুপ করে বসে থাকা সম্ভব নয়। কারণ, ব্যাপারটা মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন। পঞ্চায়েত ভোট ৯৩ শতাংশ আসনে কোনও ভোট হয়নি। মানে প্রায় ১২ লক্ষ ভোটার ভোটাধিকারই প্রয়োগ করতে পারেনি। কমিশনের দায়িত্ব হল, প্রতিটি মানুষই যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়। কমিশন সূত্রে খবর শেষ দফায় বাহিনীর পরিমাণ আরও বাড়াতে কমিশন আলোচনা করছে। সূত্রের আরও খবর, বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী।

ডায়মন্ডহারবার তথা বাংলার ভোটে কমিশনের ভূমিকাকে আগেই সমালোচনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, কমিশন পক্ষপাত করছে। রাজনৈতিক প্রভুর নির্দেশে কাজ করছে।

তবে বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা বক্তব্য, ডায়মন্ডহারবারে ভোটের জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে নক্কারজনক ভাবে ব্যবহার করছে তৃণমূল। এতোটাই যে রাজ্যের মহিলা ও শিশু সুরক্ষা কমিশনকে ব্যবহার করে বিজেপি প্রার্থীকে গ্রেফতারের দাবি তুলিয়েছে। ফলে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের হাতে ডায়মন্ডহারবারের ভোট প্রক্রিয়াকে ছেড়ে দিলে তা অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। জয়প্রকাশ মজুমদারদের বক্তব্য, কমিশন সবই জানে। ডায়মন্ডহারবারে সুষ্ঠু ভোট করানোর দায়িত্ব তাদের। বিজেপি-ও দেখতে চাইছে তাঁরা তা পারেন কিনা!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More