শনিবার, মে ২৫

যে জিভ দিয়েছে, সে-ই আহার দেবে: ভাটপাড়ায় প্রার্থী হয়ে বললেন মদন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ষোলোর বিধানসভা ভোটের সময় সারদা কাণ্ডে তিনি ছিলেন জেলের ভিতর। তবু তাঁকেই প্রার্থী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অনুগামীরা প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু কামারহাটি থেকে জিততে পারেননি মদন মিত্র। তিন বছর পর এখন তিনি জামিনে। ভাটপাড়া উপনির্বাচনে ‘দলের প্রতি অনুগত’ মদন মিত্রকেই প্রার্থী করেছেন দিদি। কিন্তু তাঁকে কি মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে না? সহজ হবে জেতা? মদনবাবুর স্পষ্ট উত্তর, “জিভ দিয়েছে যে, আহারও দেবে সে।”

অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক এবং অদ্বিতীয় ফ্যাক্টর। এর বাইরে আর কিচ্ছু বোঝেন না মদন। দলনেত্রী তাঁকে প্রার্থী করায় তিনি বলেন, “আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। শ্রদ্ধায় আমি বাকরুদ্ধ।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী মদন মিত্র। মমতা যখন যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী, তখন থেকে মদন দক্ষিণ কলকাতার সংগঠক। জেল থেকে জামিন পাওয়ার পর আস্তে আস্তে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়েছেন। বিধায়ক নন, অথচ এখনও কামারহাটির বড় বড় দুর্গাপুজো, কালীপুজোর ফিতে কাটেন তিনি। বেলঘরিয়া থেকে আড়িয়াদহ, ফুটবল অথবা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক তিনিই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিউড়ির জনসভা থেকে মদনের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে মদন পৌঁছে যান ভাটপাড়ায়। দলীয় নেতাদের নিয়ে প্রাথমিক বৈঠকও সেরে ফেলেন। সেখানেই মহাভারতের কৃষ্ণের সঙ্গে মমতার তুলনা টানেন মদন। বলেন, “বাংলা তথা ভারতের রাজনীতিতে মমতা এখন কৃষ্ণ।”

কিন্তু ভাটপাড়া মানে তো অর্জুন সিং। দোর্দণ্ডপ্রতাপ অর্জুন! সাংবাদিকদের সামনে এতটুকু উত্তেজিত না হয়ে প্রাক্তন ক্রীড়া ও পরিবহণমন্ত্রী বলেন, “ভাটপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা জমে রয়েছে। এখানকার মানুষ এ বার সেই আবর্জনাকে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেবে।”

সন্দেহ নেই ভাটপাড়ার লড়াই কঠিন মদনের জন্য। আবার উল্টোটাও সত্যি। মদনের মতো একজন সাংগঠনিক ভাবে পোড় খাওয়া নেতাকে প্রার্থী করে অর্জুনকে চাপের মুখে ফেলে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি হয়তো ওই কেন্দ্রে অর্জুনের ছেলে পবন সিং বা ভাইপো সৌরভ সিংকে প্রার্থী করবে। যেই প্রার্থী হোন, আসলে লড়াইটা অর্জুন বনাম তৃণমূলের। এখন দেখার শেষ হাসি কে হাসেন!

Shares

Comments are closed.