‘হর্স ট্রেডার’ মোদীর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে কমিশনে গেল তৃণমূল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানাল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠিয়ে দিয়ে এই দাবি জানিয়েছে বাংলার শাসক দল। তৃণমূলের দাবি, প্রধানমন্ত্রী ঘোড়া কেনাবেচার রাজনীতি শুরু করেছেন।

    সোমবার শ্রীরামপুর কেন্দ্রের চণ্ডীতলায় কৃষ্ণরামপুরের সমাবেশ থেকে মোদী বলেছিলেন, “দিদি, ২৩ তারিখের পর আপনার অনেক বিধায়কই আপনার সঙ্গে আর থাকবেন না। ছেড়ে চলে আসবেন। অন্তত চল্লিশ জন বিধায়ক আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন!” এখানেই থামেননি মোদী। সুর চড়িয়ে বলেন, “দিদি, তুমহারা বাঁচনা মুশকিল হ্যায়!”

    প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়েই কমিশনের কাছে তাঁর প্রার্থীপদ বাতিলের দাবি জানাল তৃণমূল। মঙ্গলবার ভদ্রেশ্বরের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই দাবি তোলেন। তাঁর কথায়, “পয়সা দিয়ে বিধায়ক কিনতে চাইছেন মোদী। কিন্তু আমি জানি আমার দলের সবাই রক্ত দিতে তৈরি তবু ওদের টাকার কাছে বিক্রি হবে না।”

    প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষের সুরে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা দলের অন্যতম মুখপাত্র ডেরেক ওব্রায়েন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী একজন হর্স ট্রেডার।” তিনি আরও বলেন, “২৩ মে-র পর নরেন্দ্র মোদী একজন মামুলি লোক হয়ে যাবেন। আর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। তারপর ওঁর দুট কাজ থাকবে। হয় গুজরাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হতে হবে, নাহলে হলিউডে গিয়ে অভিনয় করতে হবে।”

    তৃণমূলের এমন দাবি শুনে এক বিজেপি নেতা বলেন, “দিদিমণি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাই এ সব বলছেন। শুধু ভাবছি সত্যি সত্যি যখন তৃণমূল বিধায়করা বিজেপি-তে আসবেন তখন উনি কী করবেন!”

    মোদী বলার আগে থেকে মুকুল রায় এ কথা বলছেন। একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যানের যা হিসেব তাতে সংখ্যা আরও বেশি। ভোটের অনেক আগে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলেছিলেন, লোকসভা ভটের পরেই বাংলার সরকার পড়ে যাবে।” সেই সময় তৃণমূল বলেছিল লোকসভা ভোটের পর কেন বাংলার সরকার পড়তে যাবে! এটা তো রাজ্য সরকারের ভোট নয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন, লোকসভা ভোটের ফলাফল দেখে তৃণমূল থেকে এত বিধায়ক বিজেপি-তে যোগ দেবেন, যে মমতার সরকারই ভঙ্গুর হয়ে পড়বে।

    রাজনোইতিক মহলের অনেকে আবার এ নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না। তাঁদের কথায়, এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি তো বাংলায় তৃণমূলের হাত ধরেই চালু হয়েছে। ষোলর ভোটে অত আসন জেতার পরেও বাম ও কংগ্রেস বিধায়কদের দলে টেনে ‘উন্নয়নে সামিল’ হওয়ার তত্ত্ব দিয়েছিল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More