শনিবার, আগস্ট ২৪

রত্না তুমি দুঃখ পেও না, পার্থদা ওঁকে এ বার কাজে লাগান: মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেহালায় শোভনের চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জমিতে কি এ বার তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে বিকল্প হিসাবে তৈরি করতে চাইছেন দিদি?
সে রোডম্যাপ এখনও পরিষ্কার নয়। তবে বুধবার রাতে বেহালার একটি অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন আগের তুলনায় রত্না চট্টোপাধ্যায়কে এ বার বাড়তি গুরুত্ব দেবে দল। শোভন চট্টোপাধ্যায় যে তাঁর স্ত্রী-সন্তান ত্যাগ করে অনৈতিক কাজ করেছেন, বেহালার মানুষের কাছে বেশি করে সেই বার্তাও পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবে তৃণমূল। অর্থাৎ সামাজিক দিক থেকে শোভনকে অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টাও বাদ দেবে না শাসক দল।
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক সন্ধ্যায় এ দিনের ওই অনুষ্ঠান মঞ্চে রত্না চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। একটা সময় ছিল, যখন দিদির জন্য ভাল মন্দ রান্না করে শোভনের হাত দিয়ে কালীঘাটের বাড়িতে পাঠাতেন রত্না। সুতরাং পারিবারিক ও রাজনৈতিক ভাবে দিদির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কও অনেকদিনের। মঞ্চে মাইক হাতে নিয়েই রত্নার উদ্দেশে দিদি এ দিন বলেন, “রত্না দুঃখ পেও না। তোমার সঙ্গে তোমার বাপের বাড়ির পরিবার রয়েছে, তোমার শ্বশুরবাড়ির পরিবার রয়েছে। তৃণমূল পরিবার রয়েছে”। সেই সঙ্গে বলেন, “আমরা সব সময়ই মনে করি অনৈতিক কাজ করা উচিত নয়। নৈতিক কাজ করা উচিত। আমাদের একাত্মতা দেশের সব মহিলার সঙ্গে রয়েছে”।
এ দিনের অনুষ্ঠানের রত্না চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর নতুন দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে রত্না বলেন, “শোভন চট্টোপাধ্যায় ১৩১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর ছিলেন। গত দু’বছর ধরে ওয়ার্ডের খোঁজও নিতেন না। আমিই দেখতাম। এখন তৃণমূল থেকে পাকাপাকি চলে গেছেন। তাই দিদি আমাকে ১৩১ নম্বর ওয়ার্ড দেখতে বলেছেন। সেই সঙ্গে বেহালার কাজেও সক্রিয় থাকতে বলেছেন”।
রত্নাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা তৃণমূল সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তীও। শোভনের নাম না করে তিনি বলেন, “তৃণমূলে কেউ অপরিহার্য নন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সামনে রেখেই দল চলে। সেটাই বাস্তব”।

Comments are closed.