বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

শোভন যোগাযোগ রাখছে? বেহালার ১৯ কাউন্সিলরকে আজ বিধানসভায় ডাকলেন দিদি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর চব্বিশ পরগনার পাঁচ। পাহাড়ের এক। লোকসভার পর গত এক মাসে রাজ্যের হাফ ডজন পুরসভা তৃণমূলের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। তবে কি এ বার ভাঙনের আশঙ্কা খোদ কলকাতাতেই?

সূত্রের খবর, শুক্রবার বেহালার ১৯ জন কাউন্সিলরকে বিধানসভায় ডেকে পাঠিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলতে চান দিদি।

কেন এই জরুরি তলব?

তৃণমূল সূত্রে খবর, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এই ১৯ জন কাউন্সিলরের সঙ্গে নিয়মিত যোগযোগ রাখছেন বলে খবর গিয়েছে দিদির কানে। এবং দিদি এ-ও ভালমতো জানেন, একদা তাঁর স্নেহের কানন এখন ভরপুর বিজেপি-র সংস্পর্শে আছেন। তৃণমূলের.সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আশঙ্কা, শোভনকে দিয়েই কলকাতা পুরসভা ভাঙাতে চাইছে বিজেপি।

শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা এবং মেয়রপদ ছাড়া নিয়ে কম নাটক হয়নি। কিন্তু গত কয়েক মাস রাজনীতির উঠোনে নেই বেহালা পূর্বের বিধায়ক। তাঁর চেয়ে সক্রিয় থেকেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সেই শোভনই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন শাসক দলের।

লোকসভা ভোটের আগেই গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল শোভন বিজেপি-তে যেতে পারেন। গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে বৈশাখী বেশ কয়েক দফায় বৈঠক করেন বলেও জানা গিয়েছিল। তবে সরাসরি দলবদল করেননি এই পোড় খাওয়া রাজনীতিক। পর্যবেক্ষকদের মতে, শোভনবাবু দীর্ঘদিনের রাজনীতি করা লোক। ফলে তলায় তলায় তিনি যে তাল দিচ্ছেন না, এ কথা কে হলফ করে বলতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, শোভন চট্টোপাধ্যায় বহুদিন ধরে কর্পোরেশন রাজনীতি করেছেন। বেহালা অঞ্চলের প্রায় সব তৃণমূল কাউন্সিলরই শোভনবাবুর হাত ধরেই। ফলে তাঁকে ব্যবহার করেই এ বার এসএন ব্যানার্জী রোডের লালবাড়িতে ফাটল ধরাতে মরিয়া গেরুয়া বাহিনী।

কিন্তু ১৯ জন কাউন্সিলর যদি সত্যিই বিজেপি যান, তাহলে কী হবে?

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি এটা ভাল করে জানে কলকাতা কর্পোরেশনে তৃণমূলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, কলকাতার কাউন্সিলররা গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলে বোর্ড ভাঙবে না। তবে নড়ে বসতে হবে তৃণমূলকে। জনতার কাছে বার্তা যাবে, তৃণমূল আগলে রাখতে পারল না কলকাতাও। সে কারণেই কাউন্সিলরদের তলব বলে মনে করছেন অনেকেই।

 

Comments are closed.