সোমবার, অক্টোবর ১৪

কোচবিহারে তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি ভেঙে তছনছ করে দিল এলাকার লোকজন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের পর থেকেই বাড়িতে তালা লাগিয়ে সরে গিয়েছিলেন অন্যত্র। বিষ্যুদবার সন্ধ্যায় সিতাইয়ের সেই তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ বর্মা বাসুনিয়ার বাড়ি ভেঙে তছনছ করে দিল একদল লোক। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ভাঙচুর হয়ে যাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। কোচবিহারের পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্ত বলেন, “গোটা ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। কোনও দোষীকে ছাড়া হবে না।”

কোচবিহারে বেশ কিছু তৃণমূলের পার্টি অফিস বিজেপি দখল করে নিয়েছে বলে শাসক দলের অভিযোগ। ওই পার্টি অফিস খোলার জন্যই এ দিন জেলায় গিয়েছিলেন তৃণমূলের তিন সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল এবং মালা রায়। কয়েক দিন আগেই দলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে সরিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন তিন সাংসদের সামনেই তুফানগঞ্জে রবি ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। ওই প্রতিনিধি দলের যাওয়ার কথা ছিল সিতাইতেও। কিন্তু বিক্ষোভ হতে পারে এই আন্দাজ করেই বিধায়ককে বাড়িতে ঢোকাতে যাননি প্রসূন, মালা, প্রতিমারা।

গত কয়েক বছর কোচবিহারে বিরোধী বলতে কিছু ছিল না। কিন্তু তাও রাজনৈতিক ভাবে উত্তপ্ত থাকত এই জেলা। কারণ তৃণমূল বনাম তৃণমূল কোন্দল। মাদার বনাম যুবর সংঘাত। যে নিশীথ প্রামাণিক এই ক’মাস আগেও ছিলেন তৃণমূলের দাপুটে যুব নেতা, সেই নিশীথই এখন বিজেপি-র সাংসদ। সব মিলিয়ে ভোটের পরও উত্তপ্ত কোচবিহারের রাজনীতি।

তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, বিধায়কের বাড়ির যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী সহজেই বোঝা যাচ্ছে। কোচবিহারের এই ঘটনায় আরও একবার প্রশ্ন উঠে গেল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে।

Comments are closed.