সোমবার, অক্টোবর ১৪

দিদি দেখুন: বর্ধমান শহরের খানাখন্দে ভরা রাস্তায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরমে, দেখা নেই মেরামতির

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান:  ৩৫টা ওয়ার্ড। সব ওয়ার্ডেই কম বেশি একই অবস্থা।

দিদিকে বলো। কিন্তু শহর বর্ধমানের রাস্তার হাল ফিরবে কবে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে গোটা শহরে।

গত এক বছর ধরে বর্ধমান পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের রাস্তার অবস্থা বেহাল। বর্ধমান পৌরসভা গত বছর বর্ষার আগেই গোটা শহর জুড়ে অম্রুত প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন পাইপ লাইন বসানোর কাজ শুরু করে। রাস্তার মাঝখান কেটে পাইপ বসানোর ফলে রাস্তার হাল খারাপ হয়ে যায়। এরপর বর্ষা এসে যায়। ফলে বন্ধ থাকে কাজ। রাস্তা খুঁড়ে নতুন পাইপ লাইন বসানোর ফলে রাস্তার পাশেই ডাঁই করে রাখা হচ্ছিল মাটি। বৃষ্টির জলে ওই মাটি রাস্তায় এসে সমস্যা বাড়িয়ে তোলে মানুষের। কাটা রাস্তা জল পেয়ে আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। শহরের ভাতছালা এলাকার স্টেডিয়াম রোড, তেজগঞ্জ-সহ ইছলাবাদ, কানাইনাটশাল, পায়রাখানা গলি, পারবীরহাটা, আলমগঞ্জ, তেজগঞ্জ, ইছলাবাদ-সহ বিভিন্ন এলাকায় জলের পাইপ লাইনবসানোর ফলে রাস্তা যেন নরকে পরিণত হয়েছে। গোটা শহরে জলের নতুন পাইপ লাইন বসাতে এখনো বছর খানেক সময় লাগবে।

ফলে ভরা বর্ষাতেও কাজ চলছে পাইপ বসানোর। গত বছর বর্ধমান পৌরসভার পক্ষে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বর্ষার জন্য রাস্তা সংস্কারে হাত দেওয়া হচ্ছে না, বর্ষা শেষ হলেই রাস্তার কাজে হাত দেওয়া হবে। কিন্তু কথা রাখেনি পৌরসভা।

গত বছরের বর্ষা পেরিয়ে ফের বর্ষা এসে হাজির হলেও রাস্তার হাল সেই একই। সংস্কারে হাত পড়েনি। এক বছর ধরে বেহাল রাস্তা চরম বেহাল হয়েছে। সমস্যা বেড়েছে শহরের বাসিন্দাদের। খারাপ রাস্তাই এখন সঙ্গী পৌরনাগরিকদের। খানাখন্দভরা পথেই চলতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।এই কৃপণ বর্ষাতেই রাস্তায় গোড়ালি ডোবা জল দাঁড়িয়েছে। কোথাও আবার ড্রেন রাস্তায় উঠে এসেছে। নোংরা জল পেরিয়ে যাতায়াত করছেন রাজার শহরের বাসিন্দারা।

এ বছর এখনও ভালো বর্ষা হয়নি, কিন্তু তাতেও ব্যতিব্যস্ত শহরবাসী। ভালো বর্ষা হলে রাস্তা হয়ত চলাচলের আরও অযোগ্য হয়ে যেত । শহরের মানুষের রাস্তা নিয়ে ক্ষোভের কথা টের পেয়েছেন বিধায়ক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়। শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় দিদিকে বলো জনসংযোগ যাত্রায় বেরিয়ে রাস্তা নিয়ে মানুষের ক্ষোভের কথা শুনেছেন তিনি।

তবে বর্ধমান পৌরসভার সচিব জয়রঞ্জন সেন জানান, খুব তাড়াতাড়ি রাস্তা সারাইয়ের কাজ শুরু হবে। ধাপে ধাপে রাস্তাগুলির মেরামতির করা হবে। তবে নতুন করে রাস্তা তৈরি নয়, আপাতত ভাঙাচোরা, খানাখন্দভরা রাস্তা সারাই করা হবে ।এখন চাতক পাখির মতো সেই দিকেই তাকিয়ে নাগরিকরা। খানিকটা যেন ‘ভিক্ষে চাই না, কুকুর সামলাও’-এর মতো অবস্থা রাস্তা-যন্ত্রণায় কাতর শহরবাসীর।

Comments are closed.