বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

দীপা, আমি মুকুল বলছি’, ফোন অধীর, সিপিএমের খগেন মুর্মুকেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার বিকেলেও শুরুটা এমন ভাবেই হয়েছিল। বিধাননগরের মেয়র তথা রাজারহাটের তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে ফোন করে বলেছিলেন, আমি সন্ধ্যায় আসছি- লুচি আলুর দম খাবো। ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পলকেও বলেছিলেন, ওখানেই পৌঁছতে।
শনিবার বিকেলে যখন খবর পেলেন, কংগ্রেস-সিপিএমের জোট পাকা হয়ে গিয়েছে। রায়গঞ্জ আসনটি সিপিএমকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছেন রাহুল গান্ধী। বিন্দুমাত্র অপেক্ষা করলেন না তারপর। সোজা ফোন রায়গঞ্জের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ দীপা দাশমুন্সিকে। “হ্যাঁ দীপা, আমি মুকুল বলছি, মুকুল রায়। চিনতে পারছ?” ও দিক থেকে কী জবাব এলো শোনা যায়নি। ফের মুকুলবাবু বললেন, কাল পরশু দিল্লিতে থাকব। তুমি দিল্লিতে আছো? তা হলে দেখা হোক। ফোন রেখে দাবি করলেন, দীপা দেখা করতে রাজি হয়েছেন।
এর পরের ফোন বহরমপুরের সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে। একই কথা, কাল পরশু দিল্লি থাকছি। অধীরবাবু অবশ্য এ দিন ছিলেন বহরমপুরে। তবে এর মধ্যে দিল্লি গেলে তাঁর বাড়িতে মুকুলবাবুর নিমন্ত্রণ রইল বলে নাকি জানিয়েছেন তিনি। পরে অধীরবাবু সাংবাদিকদের বলেছেন, উনি তো আমার বাড়িতে আগেও কয়েকবার এসেছেন। সবাই জানে তো! এর মধ্যে কীসের রহস্য রয়েছে?
এবং তৃতীয় ফোন গেল মালদহ হবিবপুরের সিপিএম বিধায়ক খগেন মুর্মুর কাছে। খগেন অবশ্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন। মুকুলবাবুর সঙ্গে দেখা করার সময় নেই।
গোটা এই পর্বটাই হতে পারে লোক দেখানো। আবার এ কথাও ঠিক, রাজনীতি বরাবরই সম্ভাবনার খেলা। কখন কোন তাস লেগে যায়, কে বলতে পারে?
এমনিতে যতই জল্পনা থাক, সহজ রাজনৈতিক কার্যকারণে অধীর চৌধুরীর কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা এখন কম বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রায় ৪৮ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে। অধীর চৌধুরী বরাবর ধর্মনিরপেক্ষতার রাজনীতি করেছেন। ফলে বিজেপি-র সঙ্গে গেলে সংখ্যালঘু ভোট না পাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। দ্বিতীয়ত, বিজেপি-র সেখানে সংগঠন তেমন নেই। তা ছাড়া লোকসভা ভোটে বাম কংগ্রেস জোট হয়েছে। ফলে বামেদের ভোট নিয়ে তিনি ভালমতোই লড়াইয়ে থাকার কথা। বিজেপি-তে যাওয়ার তুলনায় ঝুঁকি সে ক্ষেত্রে কম।
অন্যদিকে দীপা দাশমুন্সিকে রাহুল গান্ধী আশ্বস্ত করেছেন, তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হবে। ২০২০ সালে রাজ্যসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে বাম-কংগ্রেস একটি আসন জিততে পারে। তখন দীপাকেই প্রার্থী করা হবে। তবে রাজনীতিতে এ-ও বলা হয়, কাল কিসনে দেখা? বিশেষ করে কংগ্রেস রাজনীতিতে বর্তমানটাই সব। কাল পরশু কী হবে এখন থেকে কথা দিয়ে রাখলেও বহুবার উল্টে যেতে দেখা গিয়েছে। তেমন হলে রাজনীতিতে দীপার প্রাসঙ্গিকতা ও অস্তিত্বই সংকটে পড়তে পারে। এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই মুকুলবাবু আবির্ভূত হতে চাইছেন বলে মনে করছেন অনেকে। তবে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির স্ত্রী শেষমেশ মন থেকে বিজেপি করতে পারবেন কিনা সেই প্রশ্নও তুলছেন অনেকে। তবে মুকুল ঘনিষ্ঠরা বলছেন, বিজেপি-তে নাই বা যোগ দিন, রায়গঞ্জে বিজেপি-কে জেতাতে সাহায্য তো বাইরে থেকেও করতে পারেন উনি। চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কী?

Shares

Comments are closed.