লাদাখে চিন-ভারত সেনা সংঘাত, বেজিং বলল ওটা আমাদেরই এলাকা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখে প্যাঙ্গং লেকের উত্তর তীরে গতকাল যেখানে ভারতীয় সেনা ও চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির জওয়ানদের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হয়েছিল, তা তাদেরই এলাকা বলে দাবি করল বেজিং।

    বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে চিনের বিদেশ মন্ত্রক একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, দু-দেশের সেনার মধ্যে যেখানে বিবাদ হয়েছিল সেই এলাকা পুরোটাই তাদের। এবং তা যথাযথ ভাবে চিনের অধীনেই রয়েছে। সুতরাং তাদের সেনা জওয়ানরা যা করেছে, তাতে কোনও ভুল ছিল না। কারণ, ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে মেনে চলে তাদের সেনা সেখানে টহলদারি চালায়।

    তবে এই ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা বাড়াতে চায়নি বেজিং। বরং বলেছে, এই ঘটনা নিয়ে ভারত বা চিন কারওরই জটিলতা বাড়ানো ঠিক হবে না। সীমান্তে শান্তির পরিবেশ থাকাই বাঞ্ছনীয়।

    নয়াদিল্লি অবশ্য এখনও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, ভারতীয় সেনা জওয়ানরা প্রকৃত সীমারেখার এপারেই টহলদারি চালাচ্ছিলেন। গায়ে পড়ে ঝগড়া বাঁধিয়েছে চিনা সেনা।

    আগে যা হয়েছিল

    লাদাখের প্যাঙ্গং লেক ভুবন বিখ্যাত। তার উত্তরের ১৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ তীরবর্তী এলাকার দুই তৃতীয়াংশই চিনের দখলে রয়েছে। ভারতের দখলে রয়েছে এক তৃতীয়াংশ। মাঝে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল তথা ভারত-চিন প্রকৃত সীমারেখো।

    জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে ভারতীয় সেনা জওয়ানরা সেখানে টহলদারি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় আপত্তি করে চিনা সেনা। প্রথমে তর্কাতর্কি, তার পর হাতাহাতি বেঁধে যায়। খবর পেয়ে সেখানে দ্রুত আরও সেনা পাঠানো হয় কাছেই ভারতীয় সেনা ছাউনি থেকে। একই ভাবে সেখানে সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে দেয় চিনও। এ ভাবে সংঘাতের পারদ যখন চড়ছে তখন দু’দেশে সেনা কমান্ডাররা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তা থামানোর চেষ্টা করেন।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংয়ের মধ্যে এ মাসেরই বৈঠক হওয়ার কথা। তার আগে সীমান্ত বিতর্ক নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল দু’দেশের বিদেশ মন্ত্রীর স্তরে। কিন্তু আচমকাই পিছিয়ে দিয়েছে বেজিং।

    শুধু তা নয়, প্রতিবেশী এই দু’দেশের মধ্যে টেনশনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কাশ্মীরও। উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর পরই তা নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায় চিন। এ ব্যাপারে তারা তাদের কৌশলগত শরিক পাকিস্তানের পাশেই দাঁড়িয়েছে। এমনকী রাষ্ট্রপুঞ্জেও কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের বিরুদ্ধেই মত রেখেছে বেজিং। তাতে উত্তেজনা বেড়েছে বই কমেনি।

    তবে নয়াদিল্লির কূটনীতিকদের মতে, সীমান্ত নিয়ে হোক বা কাশ্মীর প্রসঙ্গে- বেজিংয়ের সঙ্গে দ্রুত কোনও নিষ্পত্তির সম্ভাবনা নেই। তা গত তিরিশ বছর ধরেই চলছে। দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এখন অনেকটা পরিসর জুড়ে রয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। যার বহর ক্রমবর্ধমান। তা কেউই নষ্ট করতে চায় না। মোদী-চিনফিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও বাণিজ্যই গুরুত্ব পাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More