বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

সুরক্ষিত হোক পুলিশ-ডাক্তার সম্পর্ক, বার্তা দিতে হাসপাতাল সাফাই অভিযানে নামলেন স্বয়ং পুলিশ সুপার

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বসিরহাট: হাসপাতাল সাফাই অভিযানে নামল পুলিশ। হাত লাগালেন পুলিশ সুপার নিজে। বিরল এই ঘটনার সাক্ষী থাকল বসিরহাট জেলা হাসপাতাল। স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতার অভাব নেই হাসপাতালের তরফে। কিন্তু প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা যদি নিয়ে এই কাজে এভাবে হাত লাগান, তা হলে মানুষের কাছে অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যায়।

রবিবার বসিরহাট জেলা হাসপাতাল সাফাই অভিযানে নামলেন বসিরহাটের পুলিশ সুপার কে সবেরি রাজকুমার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চন্দন আইসি, প্রেমাশিস চট্টরাজ ও হাসপাতাল সুপার শ্যামল হালদার। তাঁদের এই অভিনব উদ্যোগ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ প্রশাসন থেকে স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। যাতে কোনও রকম ভাবেই মানুষ তার সামাজিক দায়বদ্ধতা ভুলে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই হাসপাতাল চত্বরের নোংরা আবর্জনা ও গাছপালা নিজে হাতে পরিষ্কার করলেন তাঁরা।

হাতে গ্লাভস ও ঝাঁটা নিয়ে সকাল থেকে কাজে লেগে পড়তে দেখা যায় তাঁদের। গোটা চত্বর পরিষ্কার করা, আগাছা সাফ করা, ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো– কিছুই বাদ যায়নি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে, ঘেমেনেয়ে কাজ শেষ করেন তাঁরা।

এই ধরনের উদ্যোগকে এক দিকে যেমন স্বাস্থ্য আধিকারিক থেকে চিকিৎসক এবং রোগী ও রোগীর পরিবারগুলি বাহবা দিয়েছেন. অন্য দিকে তেমনই পুলিশ ও চিকিৎসকের মধ্যে একটা নিবিড় সম্পর্কের মেলবন্ধন তৈরি করতে এই ধরনের উদ্যোগ দৃষ্টান্তমূলক বলে জানিয়েছেন অনেকে।

সম্প্রতি এনআরএস হাসপাতালে পুলিশের সামনে চিকিৎসক নিগ্রহ কাণ্ডে গোটা রাজ্য তথা দেশে চিকিৎসকদের আন্দোলন ছড়িয়ে গেছিল। তার পরেই এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলে। তাঁরা বলছেন, এক দিকে যেমন পুলিশের কাজ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া, দুষ্কৃতী দমন করা– অন্য দিকে চিকিৎসকেরা যাতে মানব সমাজের কল্যাণে রোগীদের সেবা করতে পারেন নির্বিঘ্নে, সেটা দেখাও কাজ পুলিশের। সেই রকম একটা যৌথ মেল বন্ধন গড়ে উঠবে বলে আশাবাদী জেলা প্রশাসন।

Comments are closed.