শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

মানসিক ভাবে অসুস্থ? নাকি স্বভাবেই বেপরোয়া বাংলাদেশের বিমান ছিনতাইকারী পলাশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিল এক দুষ্কৃতী। বিমানের সব যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে আনা সম্ভব হলেও ওই দুষ্কৃতীর হাতে আটক হয়েছিলেন এক যাত্রী। তাঁকে উদ্ধার করতেই শেষ পর্যন্ত আততায়ীর উপর গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। খতম হয় ওই দুষ্কৃতী।

বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রে খবর, সেদিন বিমানে উঠে ওই দুষ্কৃতী হুমকি দিয়ে বলেছিল তার সারা শরীরে বিস্ফোরক ভর্তি বেল্ট আটকানো আছে। পরে দেখা যায়, এমন কোনও বেল্ট ছিল না। জানা যায় তার কাছে কোনও মারাত্মক অস্ত্রও ছিল না। বরং খেলনা বন্দুক নিয়েই সেদিন প্লেনে উঠেছিল সে। পুলিশ আরও জানতে পারে, বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া করেই সে দিন বিমান ছিনতাই করতে এসেছিল বছর চব্বিশের পলাশ আহমেদ। পুলিশের অনুমান, ওই দুষ্কৃতী মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিল। বারবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও কথা বলতে চেয়েছিল সে।

সম্প্রতি পলাশের ব্যাপারে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তার বাবা জানিয়েছেন, ছোট থেকেই পলাশ ছিল অত্যন্ত বেপরোয়া এবং অবাধ্য। অবাধে মিথ্যে কথা বলার পাশাপাশি টাকা চুরি করার অভ্যাস ছিল তার। কেবল বাড়ি থেকে নয়, প্রতিবেশীদের থেকেও ছলেবলে টাকা হাতিয়ে নিত সে। এমনকী নিজের মিথ্যে অপহরণের খবর ছড়িয়ে বাবার থেকেও মুক্তিপণ আদায় করেছিল পলাশ। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই একটি অপহরণের অভিযোগে র‍্যাব (RAB)-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছিল সে। নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা পলাশের মেলামেশা ছিল এলাকার সমস্ত কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের সঙ্গেই।

এরপর আচমকাই একদিন বাড়ি ছেড়ে ঢাকা চলে যায় সে। বাড়িতে জানায় অভিনয় করছে। তবে পলাশের বাবার দাবি, ‘কবর’ বলে একটি ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল তাঁর ছেলেকে। তারপর থেকে দিন গুজরানের জন্য কী ভাবে পলাশ উপার্জন করত তা জানেন না কেউই। মাঝে মাঝে ভাঁড়ারে টান পড়লেই নারায়ণগঞ্জের বাড়িতে গিয়ে হুজ্জুতি করত পলাশ। ছিনিয়ে নিয়ে আসত টাকাপয়সা। অনর্গল মিথ্যে কথা বলার জন্য স্ত্রী’র সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায় তার। এমনকী সোশ্যাল সাইটেও ভুয়ো তথ্য দিয়ে প্রোফাইল খুলেছিল পলাশ। সেখানে নিজেকে তথ্য প্রযুক্তি কর্মী বলেও দাবি করে সে। নিজেকে ইউকে-র বাসিন্দা বলেও ওই সব প্রোফাইলে দাবি করেছে পলাশ।

Comments are closed.