ফিরে আসার ডাক শুনতে পাননি অভিনন্দন, পুরনো মিগের কন্ট্রোল সিস্টেমকে কব্জা করেছিল শত্রুপক্ষ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরনো মিগ ২১ বাইসন জেট ছুটিয়ে পাকিস্তানের এফ ১৬ কে তখন প্রবল বেগে ধাওয়া করছেন ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। ভারতের সীমা অতিক্রম করার মুখেই ভারতীয় বায়ুসেনার কন্ট্রোল রুম থেকে ভেসে আসে ‘টার্ন কোল্ড! টার্ন কোল্ড!’ অর্থাৎ ‘আর যেও না, ফিরে এসো।’ শত্রুপক্ষের ফাইটার জেট অনেক বেশি শক্তিশালী, অতএব বিপদ আসতে পারে যে কোনও মুহূর্তেই। কিন্তু ফিরে আসার ডাক শুনতে পাননি অভিনন্দন। কারণ ভারতের সীমা ছাড়াতেই পাকিস্তানের রেডিয়ো জ্যামার পুরোপুরি কব্জা করে ফেলেছিল পুরনো প্রযুক্তির মিগের কন্ট্রোল সিস্টেমকে।

    মিগ-২১ বাইসন জেটের কলকব্জা যে আগেই বাতিলের খাতায় ঢুকে গেছে সে ব্যাপারে বারে বারেই অভিযোগ জানানো হয়েছে। সম্প্রতি বায়ুসেনার আধিকারিকরাই স্বীকার করেছেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারির সেই আকাশ-যুদ্ধে পাক সেনাদের হাতে উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের আটক হওয়ার মূল কারণ ছিল মিগ ফাইটার জেটের ব্যর্থতা। পুরনো মিগ দিয়েই আমেরিকার বানানো নয়া প্রযুক্তির এফ-১৬ ফাইটার জেটকে গুলি করে নামিয়েছিলেন অভিনন্দন। ঝুঁকি নিয়েছিলেন সাহসের সঙ্গে। কিন্তু মিগ উড়িয়ে ফিরে আসতে পারেননি। বন্দি হয়েছিলেন পাক বাহিনীর হাতে। তাঁর প্রাণ সংশয়ও হতে পারত। বায়ুসেনা সূত্র জানাচ্ছে, এতকিছু হতোই না, যদি কন্ট্রোল রুমের আওয়াজ শুনতে পেতেন অভিনন্দন, শত্রুপক্ষের জ্যামারের প্রভাব মিগের যোগাযোগ মাধ্যমকে নষ্ট করে না দিত।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বায়ুসেনার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, মিগ বাইসন জেটের কন্ট্রোল সিস্টেমকে উন্নত করার দাবি উঠেছিল ২০০৫ সালেই। বায়ুসেনার ইঞ্জিনিয়াররা নতুন ডেটা লিঙ্কের কথা জানিয়েছিলেন। এই ডেটা লিঙ্ক আপডেট করলে, ফাইটার জেটের যোগাযোগ মাধ্যমের উপর জ্যামারের প্রভাব কাজ করে না। পাশাপাশি, পাইলট বুঝতে পারেন তাঁর যুদ্ধবিমান কী অবস্থায় রয়েছে, তাতে জ্বালানি ও অস্ত্র নিক্ষেপের ব্যবস্থা সঠিক পর্যায়ে রয়েছে কি না। আধিকারিকের কথায়, “যে কোনও যুদ্ধবিমানের কন্ট্রোল সিস্টেম আপডেটেড থাকলে, কম্যান্ডার নিজেই বুঝতে পারেন তাঁর কখন ফিরে আসা উচিত। শত্রুপক্ষের পাল্টা আক্রমণ হলে যুদ্ধবিমান উড়িয়ে ফিরে আসার পথ রয়েছে কি না। ” এর কোনওটাই সম্ভব হয়নি অভিনন্দন বর্তমানের সময়ে।

    ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ফাইটার জেটের কন্ট্রোল সিস্টেমকে উন্নত করার জন্য ‘স্পেসিফায়েড কমিউনিকেশন সেট’ নিয়ে আসে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) এবং ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BHEL)। কিন্তু মিগ ফাইটার জেটগুলির ডিজাইনের সঙ্গে সেগুলো খাপ খায়নি। এয়ার ভাইস মার্শাল সুনীল জয়ন্ত নান্দোকারের কথায়, “উন্নত প্রযুক্তির অভাব বায়ুসেনার সবচেয়ে বড় ঘাটতি। খুব দ্রুত পুরনো ফাইটার জেটগুলিকে সংস্কার করতে হবে ডিআরডিও-কে। শত্রুপক্ষের নজর সব সময় রয়েছে বায়ুসেনার ঘাঁটির উপরে। সময় খুবই কম। অভিনন্দন বর্তমানের মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More