মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

BREAKING: আরও বিপাকে রাজীব কুমার, জেলা জজ কোর্টে আগাম জামিনের নিষ্পত্তি হলো না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার আরও বিপাকে পড়ে গেলেন। আগাম জামিনের আবেদনের নিষ্পত্তি হলো না বারাসত জেলা জজ কোর্টে।

এ দিন দেড়ঘণ্টা শুনানির পর রায়দান স্থগিত করে দেয় আদালত। সন্ধে ছ’টার পর রায় দিতে গিয়ে বিচারক বলেন, যেহেতু সারদা মামলা আলিপুর কোর্টে বিচারাধীন এবং তা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় পড়ে তাই উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা আদালত এই মামলায় কোনও নির্দেশ দিতে পারে না।

আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় রাজীব কুমারের আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে সিবিআইয়ের তরফে যে জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্টের আবেদন করা হয়েছিল রাজীবের বিরুদ্ধে, তা-ও আদালতে গৃহীত হয়নি। ফলে গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি মধুমতী মিত্র যে নির্দেশ দিয়েছিলেন সেটাই বহাল থাকল। হাইকোর্ট রাজীবের উপর থেকে আইনি রক্ষা কবচ তুলে নিয়েছিল। একই সঙ্গে বলেছিল, তদন্তের স্বার্থে যদি সংশ্লিষ্ট সংস্থা (এক্ষেত্রে সিবিআই) মনে করে রাজীব কুমারকে হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন, তাহলে তারা তা করতে পারে।

এ দিন সকালে বারাসতের স্পেশাল কোর্ট প্রথমে বলে এই মামলা তাদের এক্তিয়ারে পড়ে না। তড়িঘড়ি পিটিশন দাখিল হয় জেলা জজ কোর্টে। টানটান শুনানির শেষে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর বিচারক বলেন, “এই আবেদন মেইন্টেনেবল নয়।”

এ দিন বিচারক যেমন আগাম জামিনের আবেদন গ্রহণ করেননি, তেমন খারিজও করেননি। শুধু বলেছেন, এটা সঠিক জায়গা নয়। এই মামলার জন্য সঠিক জায়গা আলিপুর আদালত।

আদালতে এ দিন সিবিআইয়ের তরফে বলা হয়, রাজীব কুমার সেই শিলং থেকে তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। সিটের প্রধান থাকার সময়ে তিনি প্রচুর তথ্যপ্রমাণ লোপাট করেছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সির তরফে আদালতে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির অনুমতি চাওয়া হয়। পাল্টা রাজীবের আইনজীবীরা বলেন, তাঁদের মক্কেল সমস্ত সহযোগিতা করেছেন। শিলং-এ পাঁচদিনে চল্লিশ ঘণ্টা জেরার মুখোমুখি হয়েছিলেন। একই সঙ্গে সিবিআই প্রশ্ন তোলে, ১৪ তারিখে যাঁকে সাক্ষী হিসেবে সিবিআই নোটিস পাঠাল, ১৭ তারিখে কী এমন হল যে তাঁকে অভিযুক্ত করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে হবে?

এখন দেখার এই আইনি যুদ্ধে রাজীব কুমারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়। এবং দেখার তদন্ত এজেন্সিই বা কী কৌশল নেয়।

Comments are closed.