কেরলে করোনা জয়: সুস্থ হয়ে ফিরেছেন বৃদ্ধ দম্পতি, পরিবার জানাল তাঁদের সিক্রেট

কোট্টায়াম মেডিক্যালের ডাক্তাররা জানান, সংক্রমণ কমছেই শুধু নয়, একেবার চাঙ্গা হয়ে উঠছেন দু’জনেই। বাড়ি ফিরে এসেছেন থমাস আর মারিয়াম্মা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯৩ বছরের থমাস আব্রাহামের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল আগে। তারপরেই আক্রান্ত হন তাঁর স্ত্রী মারিয়াম্মা। তাঁরও বয়স ৮৮ বছর। বৃদ্ধ দম্পতিকে ভর্তি করা হয় কোয়াট্টাম মেডিক্যাল কলেজে। জীবনের আশা যখন ছেড়েই দিয়েছেন পরিবারের লোকজন, ‘মির‍্যাকল’ ঘটে তখনই। সকলকে অবাক করে দিয়ে কোট্টায়াম মেডিক্যালের ডাক্তাররা জানান, সংক্রমণ কমছেই শুধু নয়, একেবার চাঙ্গা হয়ে উঠছেন দু’জনেই। বাড়ি ফিরে এসেছেন থমাস আর মারিয়াম্মা। এখন কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও শরীর পুরোপুরি সুস্থ দু’জনেরই।

    কেরলের পাথানামথিট্টা জেলার বাসিন্দা এই দম্পতি। ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে ফেব্রুয়ারির শেষে। জানা যায়, বৃদ্ধের ছেলে-বৌমা ও নাতি ইতালি থেকে ফেরার পরেই সংক্রামিত হন তাঁরা। বৃদ্ধের নাতি রিজো মনকি জানিয়েছেন, সবটাই তাঁদের দোষ ছিল। সেই সময় ভাইরাসের সংক্রমণ মহামারী হয়নি ইতালিতে, ভারতেও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। রোগের গুরুত্ব না বুঝেই তাঁরা প্রবীণ দম্পতির কাছাকাছি গিয়েছিলেন। যার কারণেই রোগ ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের মধ্যেও।

    রিজো বলেছেন, থমাস আর মারিয়াম্মার এমনিতে কোনও শারীরিক সমস্যা ছিল। বয়সজনিত কিছু সমস্যা ছাড়া থমাস দিব্যি সুস্থ ও চনমনে ছিলেন। কিন্তু উপসর্গ ধরা পড়ার পরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। একই উপসর্গ দেখা দেয় মারিয়াম্মারও। দু’জনকেই ভর্তি করা হয় কোট্টায়াম মেডিক্যাল কলেজে। কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয় পরিবারের বাকি সদস্যদের। বৃদ্ধ দম্পতিকে বাঁচাতে দিবারাত্র পরিশ্রম শুরু করেন কোয়াট্টাম মেডিক্যালের ডাক্তার ও নার্সরা।

    ডাক্তার আশিস মোহন ও ডাক্তার শরৎ বলেছেন, চিকিৎসা শুধু নয়, বৃদ্ধ দম্পতির মনের জোরই ফিরিয়ে এনেছে তাঁদের। সংক্রমণ শরীরকে কাবু করলেও, মন ভাঙেনি থমাস ও মারিয়াম্মার। তাছাড়াও ৯৩ বছরের বৃদ্ধ ও ৮৮ বছরের বৃদ্ধার রোগ প্রতিরোধ শক্তিও নাকি ছিল সাঙ্ঘাতিক। সংক্রমণ প্রথমে ধরা পড়া, ঠিক সময় চিকিৎসা ও মনের জোরের কারণেই সুস্থ হয়েছেন থমাস ও মারিয়াম্মা।

    পরিবার জানিয়েছে, আগে চাষের কাজ করতেন থমাস। তাঁর নিজস্ব ক্ষেতও আছে। বয়সকালেও পরিশ্রম করা বন্ধ করেননি তিনি। শারীরিক কসরৎ, সংযমী জীবনের কারণে ৯৩ বছরেও কোনও জটিল রোগে আক্রান্ত হননি তিনি। খাবার ছিল অতি সাধারণ। কোনও বিশেষ ডায়েট চার্টও মানতেন না তাঁরা। কেরলের স্থানীয় খাবার চাল দিয়ে তৈরি পাজহানকাঞ্জি খুবই পছন্দের ছিল দু’জনের। কাঁঠাল খেতে ভালবাসতেন থমাস। শারীরিক পরিশ্রমের কারণে জিম না করেও শরীর মজবুত ছিল তাঁর। কোনও নেশা করতেন না।

    থমাস ও মারিয়াম্মার চিকিৎসার জন্য কোট্টায়াম মেডিক্যালের সাতজন ডাক্তার ও ২৫ জন নার্সের মেডিক্যাল টিম তৈরি হয়েছিল। ডাক্তাররা বলেছেন, চিকিৎসায় খুব দ্রুত সাড়া দিতে থাকেন দু’জনেই। সংক্রমণ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তাকে রুখে দেওয়া সম্ভব হয়। ডাক্তাররা বলছেন, প্রবীণ হোক বা কমবয়সী সংক্রমণ চেপে না রেখে শুরুতেই যদি সঠিক ল্যাব-টেস্ট করিয়ে চিকিৎসা শুরু করা যায় তাহলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। ইতালিতে ১০২ বছরের বৃদ্ধা ইটালিকা ও ১০১ বছরের এক ডাচ বৃদ্ধাকেও এভাবে সারিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More