চাঁদের পাড়ায় বাড়ি হবে, মঙ্গলে বাঙ্কার! মহাকাশে সিমেন্ট গুলছে নাসা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (আইএসএস)এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। মহা সমারোহে সিমেন্ট গুলছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। এবার গুলছেন, সেটা ঢালছেন আবার নতুন করে সিমেন্ট মেশানো শুরু হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকমাস ধরেই এই প্রক্রিয়া চলছে সমানে। মহাকাশের ওজন শূন্য অবস্থা বা মাইক্রোগ্র্যাভিটির মায়া কাটিয়ে সিমেন্ট যদি একবার শক্ত হয়ে এঁটে বসে, তাহলেই কেল্লাফতে! জমে ক্ষীর হয়ে যাবে পুরো।

    ব্যাপারটা কী? আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সব কিছুই প্রায় ওজন শূন্য দশায় থাকে। সেখানে নীচে টেনে নামানোর ‘শক্তি’ অভিকর্ষ বলটাই নেই। যাকে বলে, ‘মাইক্রোগ্র্যাভিটি’। ফলে, মহাকাশচারী সহ সব কিছুকেই ভেসে থাকতে হয় মহাকাশে। মহাকাশ স্টেশনে। এই মাইক্রোগ্র্যাভিটি নিয়ে আইএসএস-এ গবেষণা বহুবছর ধরেই চলছে। এই মাইক্রো-গ্র্যাভিটিকে চ্যালেঞ্জ করেই মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পরবর্তী প্রজেক্ট সিমেন্ট সলিডিফিকেশন। অর্থাৎ এই বিনা-অভিকর্ষজ বলের মধ্যেই সিমেন্টকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মিশিয়, জমিয়ে শক্ত করা। নাসার এই প্রকল্পের পোশাকি নাম ‘মাইক্রোগ্র্যাভিটি ইনভেস্টিগেশন অব সিমেন্ট সলিডিফিকেশন (MICS)।’

    নাসা জানিয়েছে, স্পেস স্টেশনে যেখানে সব কিছুই ভেসে বেড়ায় সেখানে সিমেন্ট জমানো কঠিন কাজ শুধু নয়, রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। এই অসম্ভবকে সম্ভব করার প্রক্রিয়াই শুরু করেছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। সিমেন্টে মেশানে হয়েছে ট্রাইক্যালসিয়াম সিলিকেট (C3S)। এটা সিমেন্টের অন্যতম উপাদান। এর সঙ্গে জল। প্রথমবার পৃথিবীর বাইরে জলকে ব্যবহার করে এত বড় কর্মকাণ্ড চলছে।

    ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন

    কী হবে এই সিমেন্ট জমিয়ে?

    এই জমানো সিমেন্ট হবে বর্ম, এমনটাই জানিয়েছে নাসা। পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা এই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে তেজস্ক্রিয় রশ্মিরা আগেও হানা দিয়েছিল। সিমেন্টের বর্ম থাকলে যে কোনও মহাজাগতিক রশ্মির হাত থেকে মহাকাশচারীদের বাঁচানো যাবে। পাশাপাশি, তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকবে।

    কারণ রয়েছে আরও। নাসার পরবর্তী মিশন চাঁদে ও মঙ্গলে মানুষ পাঠানো। এই মাইক্রোগ্র্যাভিটির সঙ্গে যুদ্ধে সিমেন্ট যদি জিতে যায়, তাহলে আগামী দিনে চাঁদে বাড়ি বানানোটা কোনও সমস্যারই হবে না। মঙ্গলেও মহাকাশচারীদের থাকার একটা হিল্লে হবে।


    চাঁদের পাড়ায় বাড়ি হবে কি
    ?

    চাঁদের পিঠে (লুনার সারফেস) বাড়ি বানানোর সখ নাসার বহুদিনের। যার পোশাকি নাম হবে ‘লুনার স্পেস স্টেশন।’ পৃথিবীর জোরালো অভিকর্ষজ বলের মায়া কাটিয়ে মহাকাশযানকে চাঁদে পাঠানোর ঝক্কি অনেক। কাজেই লুনার স্পেস স্টেশন হলে সেখানে বসেই গবেষণা চালানো যাবে। আবার যান বানিয়ে যখন তখন পাঠিয়ে দেওয়া যাবে মহাকাশে।

    মাইক্রোগ্র্যাভিটির চক্করে মহাকাশচারীরা

    মঙ্গলে যখন তখন

    লালগ্রহে ‘মিস কৌতূহল’-এর (নাসার মঙ্গলযান কিউরিওসিটি) যাত্রা সফল হওয়ার পর থেকেই মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনাটা ঘুরপাক খাচ্ছে নাসার মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মাথায়। মঙ্গল ঘুরে আসতে যে লম্বা সময় লাগবে, তত দিন নভশ্চরদের ‘খাইয়ে-পরিয়ে’ রাখা নিয়েই সব চেয়ে চিন্তিত নাসা। মহাকাশযানে যথেষ্ট খাদ্যসামগ্রী নিয়েই পাড়ি দেবেন যাত্রী। কিন্তু যদি কোনও কারণে ভাঁড়ারে টান পড়ে! তা ছাড়া, মহাজাগতিক রশ্মির (Cosmic Rays) বাধাও রয়েছে। তাই একটা পাকাপাকি হিল্লে যদি হয় তাহলে স্পেস স্টেশন থেকেই ছ’মাস অন্তর অন্তর মহাকাশচারীর একটা দল ঝট করে মঙ্গলে ঘুরে আসতে পারবেন। ভাঁড়ারেও টান পড়বে না, আবার খরচও বেশি পড়বে না।

    পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর আলেকসান্দ্রা রাডলিঙ্কসা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে আগে একবার অন্তর্ঘাতের চেষ্টা হয়েছিল বলে কথা রটেছিল। স্পেস স্টেশনে মহাজাগতিক রশ্মি ঢুকিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা হয়েছিল। তাই সব কিছু বিবেচনা করেই এই সিমেন্ট সলিডিফিকেশন প্রজেক্ট। সাফল্য মিললে, শুধু নাসা নয়, বিশ্বের যে কোনও দেশের মহাকাশচারীদের অনেক সুবিধা হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More