বুধবার, অক্টোবর ১৬

ঘরবাড়ি ভেসে গেছে বন্যায়, দেশও কেড়ে নিল এনআরসি! ১৯ লক্ষে মিশে আছেন দিশাহারা তাফাজুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক মাস আগেই বন্যায় ভেসে গিয়েছে তাঁর ঘর। পরিবারের মানুষ থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ নথি– একটা কুটোও তিনি ধরে রাখতে পারেননি সর্বগ্রাসী নদী থেকে। আর এবার এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরে তিনি দেখলেন, নিজের দেশটটুকুও আর নিজের নেই তাঁর। অসমের বরপেটার সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ, নিঃস্ব তাফাজুল আলিই যেন সর্বহারাদের মুখ হয়ে প্রশ্ন রেখেছেন রাষ্ট্রের কাছে। এবার কী হবে?

বাস্তুহারা হওয়ার পরে, নিজের জায়গা ছেড়ে খানিক দূরে অন্যত্র এক জায়গায় মাথা গোঁজার সংস্থান করে নিয়েছিলেন একা মানুষ তাফাজুল। কিন্তু এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই না হওয়ায়, বড় বিপদের মুখে পড়েছেন তাফাজুল। তিনি যে বিদেশি ট্রাইবুনালে আবেদন জানাবেন, তাঁর জমি-বাড়ির নথি দাখিল করবেন, তা-ও আর সম্ভব নয়। কারণ কয়েক মাস আগেই বন্যায় ধুয়ে গিয়েছে সব। চরম হতাশায় যেন ভাবলেশহীন হয়ে পড়েছেন তিনি। বুঝতেই পারছেন না, কী করবেন এর পরে! 

ফরেনার্স ট্রাইবুনালের এক আইনজীবী শাহজাগান আলি তাফাজুলের এই ঘটনার কথা শুনে জানিয়েছেন, আবেদনকারীকে এনআরসি কর্তৃপক্ষের আপত্তির অর্ডার সংগ্রহ করতে হবে। কেন তাঁর দাবি খারিজ করা হল, তা জানাতে হবে। তার পরে ১২০ দিনের মধ্যে ফের নথি তৈরি করতে হবে আবেদনকারীকে।

আর এইখানেই বড়সড় সমস্যায় পড়েছেন তাফাজুল। তিনি বলছেন, “প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য পেশ করেছিলাম অনেক আগে। কিন্তু তার পরে বন্যা আমার বাড়ি-জমি কেড়ে নিয়েছে। ভেসে গিয়েছে সব। যে নথি পেশ করা আছে আগে, সে নথি নতুন করে সংগ্রহ করলেও, নথিগুলি যে জমি-বাড়ির জন্য, সেগুলিরই আর অস্তিত্ব নেই। এবার সেই নথি যদি আদালত গ্রহণ না করে, তা হলে কী করব!”

আসামে অনেক দশক ধরেই এই সমস্যা নিয়ে কাজ করছে বিদেশি ট্রাইব্যুনাল। সেই সংখ্যাটা বাড়তে বাড়তে এখন ৩০০টি ট্রাইব্যুনালে ঠেকেছে। কিছু দিনের মধ্যেই সরকার আরও এক হাজার ট্রাইব্যুনাল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারণ এনআরসি থেকে বাদ পড়া লাখ লাখ মানুষের মামলা এই ট্রাইব্যুনালগুলোকেই সামলাতে হবে।

এনআরসি কর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ ভাবে তৈরি এই ট্রাইবুনাল ছাড়াও, হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টেও আপিল করতে পারবেন এনআরসি-তে নাম না ওঠা মানুষেরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, উচ্চ আদালতে গিয়ে দীর্ঘ, জটিল এবং ব্যয়বহুল আপিল প্রক্রিয়ার সুবিধা কি আদৌ নিতে পারবেন তাফাজুলের মতো অসহায় মানুষেরা? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ১৯ লক্ষের মধ্যে একটা বড় সংখ্যক মানুষের মধ্যে।

Comments are closed.