নির্দেশিকা না মেনে বেশি ডোজে ক্লোরোকুইন খেয়ে মৃত অসমের ডাক্তার, অসুস্থ স্বাস্থ্যকর্মীরা

নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ডোজ নিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ডাক্তারের। জানা গিয়েছে, আরও কয়েকজন ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এই ড্রাগ নিয়েছিলেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ডোজ নেওয়া যাবে না, এমনই কড়া নির্দেশ দিয়েছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ ও ড্রাগ কন্ট্রোল। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করলেন খোদ ডাক্তারই। যার ফলও হল মারাত্মক। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ডাক্তারের।

    গুয়াহাটির প্রতীক্ষা হাসপাতালের ডাক্তার উৎপলজিত বর্মনের (৪৪) মৃত্যু হয়েছে গতকাল একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসার সময়। ক্লোরোকুইনের ওভার ডোজেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে কিনা সেটা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে হাসপাতালের অন্যান্য ডাক্তাররা জানিয়েছেন, নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কয়েকদিন ধরেই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ডোজ নিচ্ছিলেন ডাক্তার উৎপলজিত। মাঝে অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এর পরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

    প্রতীক্ষা হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার নির্মল কুমার হাজারিকা বলেছেন, এই হাসপাতালে আরও অনেক ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ডোজ নিয়েছেন। ভাইরাস আক্রান্ত বা সংক্রমণের সন্দেহে আসা রোগীদের কাছাকাছি থাকার কারণেই সুরক্ষার জন্য এই ডোজ নিয়েছেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অসুস্থ হওয়ার খবরও মিলেছে। এর আগে  আমেরিকার অ্যারিজোনায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ড্রাগ নিয়ে মৃত্যু হয়েছিল এক বৃদ্ধের।

    ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্সের সবুজ সঙ্কেত পেলেও সংক্রামিত রোগীদের উপরে এই ড্রাগ প্রয়োগ করার জন্য এখনই ছাড়পত্র দেয়নি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ড্রাগ রিসার্চ (আইসিএমআর)। ড্রাগস কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের তরফে অল কেমিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ দিল্লিকে  নির্দেশিকা পাঠিয়ে বলা হয়েছে, অনেক মানুষই করোনা সংক্রমণ রুখতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, ক্লোরোকুইন, রিটোনাভিরের মতো ওষুধ কিনছেন। যার ফল হতে পারে মারাত্মক। তাই কোনও রেজিস্টারড মেডিক্যাল প্র্যাকটিসনার যাঁর মেডিসিন ডিগ্রি আছে কিংবা পালমোনোলজিস্টের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই ওষুধ বিক্রি করা যাবে না। ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক আইন ১৯৪০-এর আওতায় এই নির্দেশ দেওয়া  হয়েছে।

    আইসিএমআর জানিয়েছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে কোনও ড্রাগ বা ভ্যাকসিনকেই সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়নি। ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনকে ছাড়পত্র দিলেও তার কিছু বিধিনিষেধ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সব ক্ষেত্রে এবং সব রোগীর উপরে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন প্রয়োগ করা যাবে না।

    এই ব্যাপারে কার্ডিওলজিস্ট ডাক্তার নরেশ ট্রেহান বলেছেন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন হল ইমিউন মডিউলেটর অর্থাৎ ভাইরাসের সংক্রমণ হলে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন ভাঙতে থাকে, তখন এই ড্রাগ কার্যকরী হতে পারে। শরীরে প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ করতে পারে। তবে ক্লোরোকুইনের অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। শরীরের অনেক প্রোটিনের কার্যকারীতা বন্ধ করে দিতে পারে, টক্সিকও হতে পারে কারও কারও ক্ষেত্রে। তাই ক্লোরোকুইন কার শরীরে এবং কী পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করতে হবে তার জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ দরকার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More