দায়িত্বশীল নাগরিক, তবু তালিকায় নাম নেই! বিস্মিত, কিন্তু কর্তব্যে অটল চিকিৎসক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা জীবন কাজে কোনও ফাঁকি দেননি তিনি। বিশ্বাস করে এসেছেন, দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার জন্য সব চেয়ে জরুরি সেটাই। নিজের কর্তব্যে অটল থাকা, মানুষের প্রতি কোনও রকম অন্যায় করেননি। তাই জাতীয় নাগরিকপঞ্জি অর্থাৎ এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা নিয়ে কোনও সংশয়ই ছিল না গুয়াহাটির মাফুজুর রহমানের। পেশায় চিকিৎসক এই মানুষটি আজীবন মানুষের জন্য কাজ করে গিয়েছেন সৎ পথে। তাই এনআরসি-র তালিকা প্রকাশের আগে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি।

    কিন্তু বাস্তবে ঘটে গেল উল্টোটা। শনিবার তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা গেল, নাম নেই ‘ডাক্তারবাবু’র। তাতে বিস্মিত হলেও ভেঙে পড়েননি তিনি। এখনও বিশ্বাস রাখছেন, হাইকোর্টে গিয়ে ঠিক নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারবেন। এর পরেই একটি টুইট করেন এই চিকিৎসক। প্রকাশ করেন নিজের অনুভূতি। লেখেন, “এনআরসি-র কাজ চলাকালীন গোড়া থেকেই খুব সহযোগিতা করেছিলাম আমরা। ধৈর্য ধরে সমস্ত নথি পেশ করেছি। আমার ঠাকুর্দার এদেশের পাসপোর্টও আছে। তা সত্ত্বেও আমার নাম বাদ পড়ল!”

    দেখুন সেই টুইট।

    মাফুজুর অবশ্য একা নন। কিছু দিন আগেই জানা গিয়েছিল, কার্গিল যুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারতীয় সেনা মহম্মদ সানাউল্লার নামও এনআরসির তালিকার বাইরে ছিটকে গিয়েছে। তিনি বলেছিলেন, “ভাবতেই পারছি না, যে আমার নাম এ ভাবে বাদ পড়ে যাবে! ৩০ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে থেকে দেশের জন্য লড়াই করা এক জন সেনা জওয়ানের কাছে এটা যে কত বড় ধাক্কা, তা বোঝাতে পারব না। আমি প্রকৃত ভারতীয় নই! আমার বিদেশি তকমা জুটল!” তিনিও যাবেন আদালতে।

    ১৯ লক্ষের তালিকায় এমন আরও অনেকেই রয়েছেন গোটা অসম জুড়ে। মাফুজুরের মতো সকলে হয়তো টুইট করতে পারেন না। সকলের ঘটনায় হয়তো সেনা সানাউল্লার মতো প্রচারের আলো পড়ছে না। কিন্তু দেশের প্রতি সবটুকু কর্তব্য রক্ষার পরেও নাগরিকত্ব প্রমাণের ব্যর্থতায় বহু বহু মানুষ হতাশ। এর পরে কী হবে, ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেন না অনেকেই। কয়েক জন তো আত্মঘাতীও হয়েছেন।

    এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে সকলের মনে। তবে কি ডিটেনশন ক্যাম্পই ভবিতব্য এত এত মানুষের? কেউ অজানা ভবিষ্যতের আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে রয়েছেন। দীর্ঘ ছ’বছর ধরে চলা একটি পদ্ধতির নানা ধাপে অসংখ্য প্রমাণ দিতে দিতে জেরবার মানুষজন। তার পরেও চূড়ান্ত ফলাফলের তালিকায় বাদ পড়েছেন ১৯ লক্ষ। এদের মধ্যে ক’জনই বা মাফুজুর অথবা সানাউল্লার মতো প্রত্যয়ী পদক্ষেপ করবেন, আদালতে যাবেন– তা নিয়েও রয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More