ছ’হাজার বছর আগের আশিটি মাটির সার্কোফেগাস আবিষ্কার নীলনদের বদ্বীপে

এই এলাকায় আগে মাটির সার্কোফেগাস পাওয়া যায়নি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিশর মানেই রহস্য। এই দেশের বহু রহস্যের যবনিকা উঠেছে তবে এখনও অনেক রহস্য রয়েও গেছে মাটির নীচে ও পিরামিডের অন্তরালে। এক একটি আবিষ্কার যোগ করছে প্রাচীন মিশরের নতুন নতুন অধ্যায়। পুরাবিদদের উৎখননে আজও সেখানে নিত্য নতুন জিনিস আবিষ্কৃত হয়েই চলেছে। নতুন আরও একটি অধ্যায় আবিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে শুক্রবার। ঘোষণা করা হয়েছে ৮৩টি মাটির শবাধার আবিষ্কারের কথা। শবাধার বা কফিনকে মিশরীয় ভাষায় বলে সার্কোফেগাস। সাধারণ সার্কোফেগাসের মধ্যে মমি থাকে, যদিও এখানে আবিষ্কৃত শবাধারে মমিকৃত মানুষ বা অন্য কোনও প্রাণী নেই।

    এখানেই আবিষ্কৃত হয়েছে শবাধারগুলি

    মিশরের ডাকাহলিয়া গভর্নরেট অঞ্চলের অধীন কোয়াম আল-খিজান এলাকায় উৎখনন করে এই ৮৩টি মাটির শবাধারের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কাউন্সিল অফ অ্যান্টিকুইটিস। সেদেশের সরকারের অধীন পুরা বিষয়ক সর্বোচ্চ পরিষদটির নামই হল সুপ্রিম কাউন্সিল অফ অ্যান্টিকুইটিস। এই আবিষ্কারের ব্যাপারে সরকারি ভাবে বিবৃতি দিয়েছে মিশরের পর্যটন ও পুরাবস্তু বিষয়ক মন্ত্রক।

    সম্প্রতি যে তিরাশিটি শবাধার আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে আশিটি শবাধার মোটামুটি ভাবে খ্রিস্টধর্মের সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার বছর আগের। তখন এই জায়গায় বুটো সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল। জায়গাটি সাবেক নীলনদের বদ্বীপ অঞ্চলে, আলেকজান্দ্রিয়া শহরের দক্ষিণে। এই জায়গাটি এখন নিম্ন মিশর (লোয়ার ইজিপ্ট) নামে পরিচিত। একথা জানিয়েছেন সুপ্রিম কাউন্সিল অফ অ্যান্টিকুইটিজের সাধারণ সচিব মোস্তাফা আল-ওয়াজিরি।

    আবিষ্কৃত হওয়া মাটির শবাধার ও মৃৎপাত্র

    সম্পূর্ণ গোরস্থানটি অনেকটা ডিম্বাকৃতি। তার মধ্যে যে নকশা দেখা গেছে তা থেকে বোঝা যায় যে এখানে অনেকগুলি কবর ছিল। কবর দেওয়ার সময় চিরকাল যে সব জিনিস ব্যবহার হয়ে আসছে এখান থেকে সেই ধরণের প্রচুর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আল-ওয়াজিরি।

    অন্য যে তিনটি শবাধার এখানে আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলি তৃতীয় নাকাডার সময়ের, মানে মোটামুটি ভাবে খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ থেকে ৩০০০ অব্দের মধ্যে কোনও সময়ের। এই সময়েই প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় প্রভূত পরিবর্তন হতে শুরু করে। মনে রাখতে হবে, ২৬৮৬ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত উজান ও নিম্ন মিশর একজন মাত্র ফারাওয়ের শাসনাধীন ছিল।

    হাতে তৈরি বহু মাটির পাত্র পাওয়া গেছে

    ‘ইজিপ্সিয়ান অ্যান্টিকুইটিজ সেকশন’-এর প্রধান আয়মান আসমাওয়ে জানিয়েছেন, ওই তিনটি শবাধারের দুটির মধ্যে অনেক মিল পাওয়া গেছে। এখান থেকে দুটি এমন পাত্র পাওয়া গেছে যেগুলি সুর্মা করার কাজে ব্যবহার করা হত।

    ডাকাহলিয়া গভর্নরেট অঞ্চলে এই প্রথম মাটির শবাধার আবিষ্কৃত হয়েছে বলে আল-ওয়াজিরি জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তৃতীয় নাকোদা ও বুটো সভ্যতার সময়ে এই অঞ্চলে মানুষের নানাবিধ কার্যকলাপ চলত। তাঁর আশা ভবিষ্যতেও এই অঞ্চল থেকে এই ধরনের আরও অনেক কিছু আবিষ্কৃত হবে।

    আরও পড়ুন: লাখ লাখ পবিত্র পাখির মমি: প্রাচীন মিশরের আর এক রহস্যভেদ

    শবাধারের ভিতরে যে সব জিনিস পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে হাতে তৈরি ছোট মাপের পাত্র, ঝিনুক প্রভৃতি।

    কয়েকটি এমন জিনিস এখান থেকে পাওয়া গেছে যেগুলি আবার হিকসস যুগের (১৬৫০ খ্রিস্টপূর্বের আগে-পরের সময়ের)। এর মধ্যে রয়েছে স্টোভ ও চুল্লি, মাটির বাড়ির জন্য ব্যবহৃত ইঁটের অব্যবহৃত অংশ, শবাধার, পাথরের তৈরি বেশ কয়েকটি পাত্র এবং উপরত্নের তৈরির গয়না। একথা জানিয়েছেন ডাকাহলিয়া অ্যান্টিকুইটিজের মহানির্দেশক ফতেহি আল-তালহাওয়ি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More