বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১
TheWall
TheWall

চিটফান্ড তদন্ত: আমানতকারীদের ঠকিয়ে ৫৭৪ কোটি টাকা তুলেছিল পৈলান, চেয়ারম্যান অপূর্ব সাহা গ্রেফতারের পর জানাল সিবিআই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সব ব্যবসায়ীদের সিবিআই এখনও পর্যন্ত যে গ্রেফতার করতে পেরেছে তা নয়। সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন বা রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুর মতো রাঘববোয়ালরা গ্রেফতার হলেও তুলনায় ছোট চিটফান্ড সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।

তবে এ বার জাল গোটাতে শুরু করল কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি। মঙ্গলবার ভাইফোঁটার দিন চিটফান্ড দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই গ্রেফতার করল পৈলান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান অপূর্ব সাহাকে। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে কলকাতায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরে সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, আমানতের উপর চড়া সুদে ফেরতের আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আনুমানিক ৫৭৪ কোটি টাকা তুলেছিল পৈলান গ্রুপ। এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে ছিলেন পৈলান গ্রুপের চেয়ারম্যান অপূর্ব সাহা ও বাকি ডিরেক্টররা। কাল তাঁকে বিধাননগরে উপযুক্ত আদালতে পেশ করা হবে।

অনেকের মতে, বাম আমলে একসময়ের দাপুটে সিপিএম নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন অপূর্ববাবু। সেই সুবাদেই দুই চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি-সহ বিভিন্ন জায়গায় সরকারি জমি কম পয়সায় কিনে প্রোমোটারি শুরু করে পৈলান গোষ্ঠী। এরপর আস্তে আস্তে নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার করে বিভিন্ন জেলায়। যদিও বাংলায় পট পরিবর্তনের পরেই আজকের শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন পৈলান কর্তা। অভিযোগ শাসক দলের এক বড় নেতার আশীর্ব্বাদ ধন্য ছিলেন তিনি।

বস্তুত রিয়েল এস্টেট ব্যবসা দিয়ে শুরু করলেও ক্রমেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধিপত্য বাড়তে থাকে পৈলানের। বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ফুটবল টিম কিনে নেওয়া– ভিত পোক্ত হতে থাকে পৈলানের। সিবিআইয়ের সূত্রের মতে, এ সবই হয়েছিল চিটফান্ডের মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা তুলে। তার পর চিটফান্ড কান্ড নিয়ে হইচই পড়তে মাঝে চম্পট দিয়েছিলেন অপূর্ব সাহা।

বাংলার চিটফান্ড তদন্তের ব্যাপারে বারবার আদালতে সিবিআই বলেছে, এখানে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে। তার উৎসে পৌঁছনোই তদন্ত এজেন্সির একমাত্র লক্ষ্য। যে কারণে বাংলার সমস্ত অর্থলগ্নি সংস্থাগুলিকে এক ছাতার তলায় এনে তদন্ত করার আর্জি জানায় সিবিআই। সুপ্রিম কোর্ট তা মঞ্জুরও করে। এর আগে যেমন এমপিএস, আইকোর-সহ একাধিক সংস্থার আর্থিক দুর্নীতিতে একাধিক গ্রেফতার হয়েছে। এদিন পৈলান কর্তাকে জালে নিল সিবিআই।

সিবিআই শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, বড় চিটফান্ড সংস্থাগুলো তো বটেই পৈলানের মতো মাঝারি চিটফান্ড কোম্পানিগুলোও যে লোক ঠকাচ্ছে তা প্রশাসনের অনেকেই আন্দাজ করতে পেরেছিলেন। এর নেপথ্যে রাজনৈতিক স্তরে ও প্রশাসনের কারও মদত ছিল না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Comments are closed.