আইনসভার উচ্চকক্ষ ভেঙে দেওয়ার ইঙ্গিত অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: উচ্চকক্ষে আটকে গেছে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিল, তাতে চরম অস্বস্তিতে পড়ে বিধানপরিষদ ভেঙে দেওয়ার ইঙ্গিত দিল অন্ধ্রপ্রদেশের জগন্মোহন রেড্ডি সরকার। বিকেন্দ্রীকরণের জন্য রাজ্যের তিনটি রাজধানী করার প্রস্তাব দেওয়া বিল আটকে গেছে সে রাজ্যের উচ্চকক্ষে।

    আমাদের রাজ্যের আইনসভার একটি কক্ষ (বিধানসভা) থাকলেও দেশের ছ’টি রাজ্যে দুটি করে কক্ষ (বিধানসভা ও বিধানপরিষদ) রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ তাদের অন্যতম। বিহার-উত্তরপ্রদেশেও আইনসভায় দুটি করে কক্ষ রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভায় সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস জগন্মোহন রেড্ডি বলেন, “যে কক্ষ শুধুমাত্র রাজনীতিই করার জন্য রয়েছে সেই ধরনের কক্ষ আমাদের প্রয়োজন আছে কিনা সেকথা গভীর ভাবে বিবেচনা করা উচিত। বিধানপরিষদ রাখা আবশ্যিক নয়। এটা নিজেদের সুবিধার জন্য আমরাই তৈরি করেছিলাম। আসুন এনিয়ে সোমবার আলোচনা করি এবং একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাই যে এই কক্ষ রাখার প্রয়োজন আছে কিনা।”

    একটি তাৎক্ষণিক বিতর্কে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রেড্ডি বিধানসভায় বিতর্ক শেষ করছিলেন। নিজর ক্ষমতা প্রয়োগ করে বুধবারই বিকেন্দ্রীকরণ সংক্রান্ত বিল দু’টি আরও গভীর ভাবে পর্যালোচনা করার জন্য সিলেক্ট কমিটিতে পাঠিয়েছে বিধানপরিষদের চেয়্যারম্যান। এই বিল দু’টি হল – অন্ধ্রপ্রদেশ  ডিসেন্ট্রালাইজেশন অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট অফ অল রিজিয়নস বিল ২০২০ এবং এপিসিআরডিএ (রিপিল) বিল ২০২০।

    অন্ধ্রপ্রদেশের এখন ক্ষমতায় রয়েছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস, রাজ্যের প্রধান বিরোধী হল তেলুগু দেশম পার্টি। তারা এদিন বিধানসভা বয়কট করে। বিধান পরিষদে ওয়াইএসআর কংগ্রেসের বিধায়করা অধ্যক্ষ এমএ শরিফ এবং বিরোধী নেতা ইয়ানামালা রামকৃষ্ণুলুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

    মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডি বলেন, “অধ্যক্ষের সিদ্ধান্ত রুলবুক বহির্ভূত এবং তিনি যে পদক্ষেপ করেছেন সেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

    তিনি মনে করেন যে বরিষ্ঠদের ওই কক্ষ শুধুমাত্র পরামর্শই দিতেই পারে। তিনি বলেন, “জনগণের স্বার্থে নেওয়া ভালো সিদ্ধান্ত যদি বরিষ্ঠদের কক্ষ আটকে দেয় এবং আইন তৈরি আটকে দেয় তাহলে এই প্রশাসনের অর্থ কী? আমাদের এবিষয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করা উচিত… এইরকম একটি কক্ষ থাকার প্রয়োজন আদৌ আছে কিনা।” তিনি বলেন যে এই পরিষদের জন্য বছরে ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়। তিনি জানান যে দেশের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে মাত্র ছ’টি রাজ্যে এই কাউন্সিল কার্যকর রয়েছে।

    এদিন সকালেই মন্ত্রিসভার সদস্য ও বরিষ্ঠ বিধায়কদের সঙ্গে বিধানপরিষদের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেন জগন্মোহন রেড্ডি। পুরনো অভিজ্ঞতার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।

    শোনা যাচ্ছে এব্যাপারে প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতাগির সঙ্গেও কথা বলেছেন রেড্ডি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More