‘খাবার নেই, নিরাপদ সরঞ্জাম নেই’, নার্স-অসন্তোষে উত্তাল বেলেঘাটা আইডি, কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ, ঘেরাও

হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ও সুপারের অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ হাসপাতালের নার্স ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালের অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করলেন বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের নার্স ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা। হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ও সুপারের অফিস ঘেরাও করে চলছে বিক্ষোভ। অভিযোগ একাধিক। বিক্ষোভকারীদের একাংশ জানিয়েছেন, দাবি মানা না হলে কর্মবিরতির পথেও যেতে পারেন তাঁরা।

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দিনরাত এক করে রোগীদের চিকিৎসা করতে হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীদের অনেক কাছাকাছিও যেতে হচ্ছে। কিন্তু তার জন্য পর্যাপ্ত মাস্ক, স্যানিটাইজার, বিশেষ রকমের পোশাক ও অন্যান্য নিরাপদ সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এমনকি হাসপাতালের ক্যান্টিনে ঠিকমতো খাবার, জল পাওয়াও যাচ্ছে না।

    বিক্ষোভকারীদের আরও দাবি, তাঁদের জন্য কোনও আলাদা ব্যবস্থা রাখেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গোটা রাজ্যে লকডাউন চলছে। গণপরিবহন বন্ধ। কাজের শেষে বাড়ি ফেরার সময় রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে অনেককেই। সেই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টাও রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, পরিচয় জানার পরে এলাকায় তাঁদের একঘরে করা হচ্ছে।

    মঙ্গলবার সকাল থেকেই কাজ বন্ধ করে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেছেন নার্স ও হাসপাতাল কর্মীরা। ঘেরাও করে রাখা হয়েছে প্রিন্সিপাল ও সুপারের অফিস। দরজা বন্ধ করে ঘরের ভিতরে আটকে রয়েছেন সুপার এবং প্রিন্সিপাল। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, এই সমস্যা না মিটলে এবং তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টা খতিয়ে না দেখলে কর্মবিরতির পথেও যেতে পারেন তাঁরা।

    করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি চিকিৎসক-সহ স্বাস্থ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের মনোবল বাড়াতে মঙ্গলবারই শহরের প্রায় সব ক’টি মেডিক্যাল কলেজ, রাজারহাটের নতুন কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ও বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল ঘুরে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালের পরিকাঠামোগত কী কী ত্রুটি রয়েছে সেই নিয়ে আলোচনার কথাও বলেছেন তিনি। লকডাউনের জেরে হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতায়াতে যাতে অসুবিধার না হয় সেই জন্য তাঁদের হোটেলে থাকা এবং গাড়ির ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সবসময় রোগীদের সংস্পর্শে থাকছেন যে নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের সুরক্ষার জন্য মাস্ক, হ্যান্ড-স্যানিটাইজার পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখার কথাও বলা হয়েছে। বিক্ষোভকারী নার্সদের অনেকেই বলেছেন, আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গেই আইসোলেশন ওয়ার্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। সেই কারণে বিশেষ পোশাক, মাস্ক না হলে তাঁদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

    সঙ্কটের এই পরিবেশে নার্স ও কর্মী বিক্ষোভের জেরে রীতিমতো অস্বস্তিতে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভের খবর পৌঁছেছে নবান্ন ও স্বাস্থ্যভবনে। নার্সরা কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় এদিন সমস্যায় পড়তে হয়েছে রোগীদেরও। দিনকয়েক আগেই দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ঝামেলা বেঁধেছিল স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসা লোকজনের। দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। সেই নিয়ে রীতিমতো ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পৌঁছয় পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More