অপারেশন কাসিম-আল রিমি সফল, ইয়েমেনে আল কায়দা প্রধানকে নিকেশ করল মার্কিন সেনা

আইসিস মাথা বাগদাদির পরে ইয়েমেনের আল-কায়দা প্রধান কাসিম-আল রিমি খতম। বড় সাফল্য পেন্টাগনের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইসিস মাথা বাগদাদি নিকেশ অভিযানের পর ফের বড় সাফল্য পেন্টাগনের। ইয়েমেনে আল কায়দা প্রধান, জিহাদের বাদশা কাসিম আল-রিমিকে খতম করল মার্কিন সেনা। ফের আরাবিয়ান পেনিনসুলায় আল কায়দার শক্তপোক্ত ঘাঁটিতে জোর ধাক্কা লাগল বলেই মনে করা হচ্ছে। ইয়েমেনের আল কায়দা প্রধানকে নিকেশ করার কথা বৃহস্পতিবার টুইট করে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    আরাবিয়ান পেনিনসুলায় আল কায়দার মাথা ছিল এই কাসিম আল-রিমি। আল কায়দা প্রধান আল জাওয়াহিরির যোগ্য উত্তরসূরি। আরাবিয়ান পেনিনসুলায় আল কায়দাকে মোক্ষম ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই করছিল মার্কিন বাহিনী। গত বছর ডিসেম্বরে পেনসাকোলার মার্কিন নৌসেনা ঘাঁটিতে অতর্কিতে হামলা চালায় আল কায়দা। প্রাণ যায় তিন মার্কিন নৌসেনা কর্মীর। এই নাশকতার মূল মাথা ছিল কাসিম আল-রিমি। তারপর থেকেই প্রত্যাঘাতের সুযোগ খুঁজছিল আমেরিকা।

    গতকাল হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ইয়েমেনে আল কায়দা প্রধান নিকেশ অভিযান সফল হয়েছে। ঠিক কবে এবং কীভাবে কাসিমকে হত্যা করা হয়েছে সেই তথ্য এখনও সামনে আনেনি হোয়াইট হাউস। ৩১ জানুয়ারি থেকেই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল ইয়েমেনে ফের আল কায়দা ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। কাসিম আল-রিমির খতম হওয়ার খবরও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। গতকাল প্রথম বিবৃতি দিয়ে এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকার উপর আঘাত হানলে আমরা তার বদলা নেবই। নিকেশ করা হবে সেই সন্ত্রাসবাদীদের।”

    ২০১১-র ‘আরব বসন্ত’র সময়ে ইয়েমেনে দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট সালেহ ক্ষমতাচ্যুত হন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আবেদ রাব্বো মনসুর হাদি। কিন্তু তাঁর ক’বছরের শাসনেই ইয়েমেন-এর শিয়াদের ক্ষোভ ও বঞ্চনার অভিযোগ উঠতে শুরু করে। পরে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়। মাথা চাড়া দেয় আল কায়দা গোষ্ঠী। যাদের বলা হত ‘আল কায়দা ইন আরাবিয়ান পেনেনসুলা’। এক সময়ে ওসামা বিন লাদেন দীর্ঘ দিন ইয়েমেন-এ ছিলেন। ফলে মার্কিন সন্ত্রাসবাদের তালিকায় ইয়েমেনের অবস্থান বরাবরই উপরের দিকে। আল-কায়দার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইয়েমেন সরকারকে সাহায্য করতে এবং প্রশিক্ষণ দিতে সেখানে ছিল মার্কিন স্পেশ্যাল ফোর্সের ঘাঁটি।

    ২০০৬ সালে ইয়েমেনের জেল থেকে মুক্তি পেয়েই জিহাদি কার্যকলাপ শুরু করে দেয় কাসিম আল-রিমি। এক সময় আল কায়দার মাথা হয়ে ওঠে কাসিম। সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে হোয়াইট হাউসকে। ওসামা বিন লাদের পরে ইয়েমেনের প্রভাবশালী আল কায়দা নেতা আল-আওলাকিকে খতম করার পরে আল কায়দার ভিত কিছুটা হলেও দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই হাল ধরেছিল কাসিম। মার্কিন বাহিনীর উপর একাধিক হামলা ও ইয়েমেনের নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। মোস্ট ওয়ান্টেড আল কায়দা প্রধানকে খতম করতে ২০১৭ সালেই আরাবিয়ান পেনিনসুলায় ১৩১ বার এয়ার স্ট্রাইক চালায় আমেরিকা। ২০১৮ সালে ৩৬ বার। প্রতিবারই বেঁচে পালিয়ে যায় কাসিম।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More