মাদ্রাসা গড়ার আড়ালে চলত মগজ ধোলাই! ধৃত আল-কায়দা জঙ্গিদের জেরা করে মিলছে বিস্ফোরক তথ্য

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মামিনুল ইসলাম

মুর্শিদাবাদ থেকে ধৃত আল কায়দা যোগে ধৃতদের জেরা যত এগোচ্ছে তত উঠে আসছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। জানা যাচ্ছে, শিশু শিক্ষার জন্য মাদ্রাসাকে শিখণ্ডি করেই ডোমকলের নওদাপাড়ায় চলছিল জঙ্গি তৈরির কাজ।

এই এলাকা থেকেই এনআইএ গ্রেফতার করেছে আল মামুনকে। সূত্রের খবর, ‘ গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, গ্রামের মানুষের অসহায়তা আর দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে এলাকায় মাদ্রাসা শিশু শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তুলে জঙ্গি তৈরি তৈরির জন্য মগজ ধোলাইয়ের কাজ করত মামুন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আল কায়দা যোগে ধৃত এই যুবক এলাকায় একটি বেসরকারি মাদ্রাসা গড়ে তোলার জন্য কাজকর্ম চালাচ্ছিল। সেটার আড়ালেই স্থানীয় শিশুদের মগজধোলাইয়ের কাজ করছিল সে। এও জানা যাচ্ছে, ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য কেরল থেকে ও আর্থিক সাহায্য এসে পৌঁছত আল মামুনের কাছে। কেবলমাত্র ভিন রাজ্য থেকে আসা সাহায্যই নয়। স্থানীয়ভাবে রশিদ ছাপিয়ে মাদ্রাসা শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের নাম করে টাকা তোলা হতো বলে জানা গিয়েছে। বছর দুয়েক ধরে এই ভাবেই এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল আল মামুন।

কী ভাবে শুরু হলো তার কাজ। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই এলাকা থেকে একাধিক তথ্য উঠে আসছে। দুই সন্তানের বাবা এই আল মামুন এলাকার লোকজনের কাছে একজন সাধাসিধে মানুষ হিসেবেই পরিচিত। কেরল, তামিলনাড়ু-সহ বিভিন্ন রাজ্যে কাজে যেত মামুন। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতারের আগে পর্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে দিব্যি সাধারণ ভাবে মেলামেশা করছিল। তার জঙ্গি যোগের কথা শুনে অবাক স্থানীয়রাও।

বাইরে থেকে কোনও ভাবেই তার কাজকর্ম সম্বন্ধে বোঝার উপায় ছিল না বলেই মত স্থানীয়দের। এমনকি ছেলের জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে রীতিমতো হতবাক তার বাবা বৃদ্ধ ফরজ আলি মণ্ডল। তিনি মঙ্গলবার বলেন, “কী ভাবে এমন ঘটনা ঘটল বুঝে উঠতে পারছিনা। তবে যদি ছেলে কোনও ভাবে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাহলে তার সাজা হওয়া উচিত।”

অন্যদিকে মামুনের মাদ্রাসায় যে শিশুরা পড়তে আসত তাদের অভিভাবকরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। বিশেষ সূত্র মারফত জানা গিয়েছেন, ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভীর রাত পর্যন্ত নানান ধরনের বৈঠক, শলাপরামর্শ চলত। সেক্ষেত্রে কারা ওই মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করত, কী ভাবে আয়োজন করা হতো ওই বৈঠকের তার সবকিছুই খতিয়ে দেখছে এনআইএ।

গোপন সুড়ঙ্গ থেকে ছদ্ম মাদ্রাসা। মুর্শিদাবাদ থেকে ধৃতদের জেরা করে একের পর এক তথ্য উঠে আসছে গোয়েন্দাদের কাছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More