রঘুনাথ নাম্বিয়ার: কার্গিল যুদ্ধে মিরাজ উড়িয়েছেন, লেজ়ার বোম ফেলে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন শত্রু শিবির, রাফাল জেটের খুঁটিনাটি তাঁরই হাতে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় বায়ুসেনার ভাইস চিফ অব এয়ার স্টাফ রাকেশ ভাদুরিয়ার নাম পরবর্তী বায়ুসেনা সেনাপ্রধানের জন্য ঘোষণা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফ্রান্স থেকে ভারতের হাতে আসা প্রথম রাফাল যুদ্ধবিমানের টেল নম্বর ‘আরবি-০১’ তাঁরই নামে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, ভারতীয় বায়ুসেনার ওয়েস্টার্ন কম্যান্ডের চিফ এয়ার মার্শাল রঘুনাথ নাম্বিয়ারের নাম ব্রাত্য কেন! কার্গিল যুদ্ধের মিরাজ ওড়ানো এই বায়ুসেনা অফিসারের হাতেই রাফাল যুদ্ধবিমানের খুঁটিনাটি। ভারতের প্রথম রাফাল ফাইটার জেটে চেপে মহড়াও দিয়েছেন নাম্বিয়ার।

    ইস্টার্ন এয়ার কম্যান্ড থেকে গত বছরই নাম্বিয়ারকে ওয়েস্ট এয়ার কম্যান্ডে বদলি করা হয়েছে। তাঁরই নেতৃত্বে গুয়াহাটিতে মোতায়েন ১১৮ নম্বর হেলিকপ্টার ইউনিটের নাম বায়ুসেনার সর্বোচ্চ সম্মানের জন্য ধার্য হয়েছে। রাফাল চুক্তি নিয়ে বায়ুসেনার ভাবমূর্তি যখন বিতর্কের মুখে পড়ে, হাল ধরেছিলেন নাম্বিয়ার। তিনি বলেছিলেন, ভারতের সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তির স্বচ্ছ, পবিত্র। দেশবাসীর বিশ্বাসে দাগ পডডতে দেবে ভারতের বায়ুসেনা।

    সবচেয়ে বেশি সময় মিরাজ ওড়ানোর অভিজ্ঞতা

    ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির এই প্রাক্তনী ফাইটার স্ট্রিমে যোগ দেন ১৯৮১ সালে। ৪২ রকমের এয়ারক্রাফ্ট ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আকাশে ৫,১০০ ঘণ্টা থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে নাম্বিয়ারের। মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমানে তুখোড় প্রশিক্ষণ তাঁর। আকাশে ২,৩০০ ঘণ্টা মিরাজ নিয়ে ওড়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার তেজসের টেস্ট পাইলটও ছিলেন তিনি। মিরাজ-২০০০ স্কোয়াড্রনের ফ্লাইট কম্যান্ডার পদেও কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। বায়ুসেনার ১ নম্বর স্কোয়াড্রনের কম্যান্ডার হিসেবে ২৫টি অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন রঘুনাথ নাম্বিয়ার।

    ভারতীয় বায়ুসেনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন নাম্বিয়ার। জামনগর এএফএসের কম্যান্ডিং অফিসার ছিলেন একসময়। সাদার্ন এয়ার কম্যান্ডের সিনিয়র এয়ার স্টাফ অফিসার ছিলেন। ইস্টার্ন এয়ার কম্যান্ডের এয়ার অফিসার কম্যান্ডিং-ইন চিফ নাম্বিয়ারকে পরে ওয়েস্টার্ন এয়ার কম্যান্ডের এয়ার ডিফেন্স কম্যান্ডার করা হয়। পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন এয়ার স্টাফের ডেপুটি চিফও তিনি।


    কার্গিল যুদ্ধের এই আকাশ-যোদ্ধা মিরাজ থেকে লেজ়ার বোম ফেলেছিলেন শত্রুপক্ষের উপর

    ১৯৯৯ সাল। কার্গিল যুদ্ধে বায়ুসেনাদের নেতৃত্বে রঘুনাথ নাম্বিয়ার। মিগ-২৭ নিয়ে গ্রাউন্ড অ্যাটাকে তিনি। তবে মিগেই থেমে থাকেনি বায়ুসেনার অভিযান। ‘অপারেশন সাফেদ সাগর’ এ বায়ুসেনার হাতিয়ার মিরাজ-২০০০এইচ ফাইটার জেট। মিরাজ ওড়ানোতে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞতা নাম্বিয়ারের। তিনিই এগিয়ে এলেন। শক্তিশালী ইজরায়েলি লেজ়ার বোম লোড করে নাম্বিয়ারের মিরাজ উড়ল আকাশে। নিজের মিরাজ থেকে পাক সেনাদের উপর সবচেয়ে বেশি লেজ়ার বোম ফেলেছিলেন নাম্বিয়ার।

    বাল্টিক সেক্টরে পাক ক্যাম্পের গোপন অবস্থান, খবরাখবরও ভারতীয় বাহিনীর কাছে পৌঁছে দিত নাম্বিয়ারের মিরাজ। ৯৯ সালের ১৭ জুন মুনথো ঢালোতে পাক সেনা ক্যাম্পের উপর ১০০০ কিলোগ্রাম লেজ়ার বোম ফেলে শত্রু শিবির ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন রঘুনাথ নাম্বিয়ার। বায়ু সেনা মেডেল তো বটেই, অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল (২০১৫), পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল (২০১৯)-সহ একাধিক পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

    পড়তে ভুলবেন না

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More