বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

সিঙ্গুরে ওই জমিতে ফলেছে ধান-গম-আলু-কলা-ভুট্টা: বিধানসভায় কৃষিমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিঙ্গুর নিয়ে শোরগোল পড়ে গেল বিধানসভার অধিবেশনে। বাম বিধায়কদের প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সিঙ্গুর এ ধান, গম, আলু, কলা, ভুট্টা  এসব উৎপাদিত  হয়েছে। কোনও জমি পতিত  হয়নি , যাঁরা চাষ করতে চাইছেন সে চাষীরা চাষ করতে পারছেন।”

এ দিন বিধানসভার বাদল অধিবেশনে বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, সিঙ্গুরের কৃষকদের আয় কি দ্বিগুণ হয়েছে? এই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শিল্প হচ্ছে। কৃষিও হচ্ছে। শুধু চিৎকার করলে হয় না।” এরপর মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “৯৯৭ একর জমির মধ্যে ৯৫৫ একরের কিছু বেশি জমি ফেরত দেওয়া হয়েছে। কোনও কৃষক চাষ করবে কি করবে না সেটা তাঁদের ব্যাপার। মাছের ল্যাজা খাবে না মুড়ো খাবে সেটা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।” সিঙ্গুরের কৃষকদের জন্য সরকারের তরফে কী কী সাহায্য দেওয়া হয়েছে তারও হিসেব দেন মমতা।

সিঙ্গুর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন আরও বলেন, “৪২ একর জমির কোনও মালিক নেই। কেউ এখনও দাবি করেনি। আমি ভূমি রাজস্ব আধিকারিককে বলেছি খুঁজে দেখো, না হলে অ্যাকশন নাও। এরকম তো পড়ে থাকতে পারে না! যেখানে জমির দাবিদার পাওয়া যায়নি সেখানে গণ্ডগোল আছে।” এরপরই দমদম উত্তরের সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, “তাহলে আগের সরকার যা বলেছিল, যে ৪২ একর জমির কোনও মালিক পাওয়া যাচ্ছেনা মুখ্যমন্ত্রীও সেই কথা স্বীকার করলেন। তাহলে আমাদের সরকার সঠিক তথ্য দিয়েছিল।” এরপরই হট্টগোল শুরু হয়ে যায় অধিবেশনে।

২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, বামফ্রন্ট সরকার যে ভাবে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করেছিল, তাতে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল। এরপর শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, জমি ফেরৎ দেওয়ার। ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয় ন্যানো কারখানার কাঠামো। শুরু হয়, জমিকে চাষযোগ্য করে তোলার কাজ। এরপর ২০১৭ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়ে সরষে বীজ ছড়িয়ে চাষের কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু করেন।

কিন্তু বেরাবেড়ি, খাসেরবেড়ি, সানাপাড়া-সহ একাধিক এলাকার কৃষকদের বক্তব্য, ওই জমি আর চাষের অবস্থায় নেই। ফলে অনেকেই জমি বিক্রি করে দিচ্ছেন। প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটে এ বার সিঙ্গুরে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। ব্যাপক ভোটে লিড পেয়েছে বিজেপি। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এখন সিঙ্গুরের কৃষকদের অবস্থা আমও গেল, ছালাও গেলর মতো। শিল্পও হয়নি, চাষটাও ঠিকঠাক হচ্ছে না। তবে কৃষিমন্ত্রীর এ দিন যে ফসল ফলার তালিকা দিয়েছেন বিধানসভায়, তার সঙ্গে মাঠের বাস্তবের কোনও মিল নেই বলেই দাবি অনেকের।

Comments are closed.