রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

রাতের শহরে বেপরোয়া গতি, ফের আক্রান্ত উর্দিধারী, জখম সিভিক ভলান্টিয়ারও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতের শহরে ফের আক্রান্ত উর্দিধারী। বেপরোয়া বাইক থামানোয় কর্তব্যরত ট্র্যাফিক সার্জেন্টের উপর চড়াও হন বাইক আরোহীরা। বাদ যায়নি সিভিক ভলান্টিয়ারও।

পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাত ১২টা নাগাদ সার্ভে পার্ক থানা এলাকায় হাইল্যান্ড পার্কের কাছে একটি বাইক আটকায় পুলিশ। অভিযোগ, বাইকে ছিলেন চার আরোহী। কারও মাথাতেই হেলমেট ছিল না। কিন্তু নাকা চেকিংয়ের সময় তাঁদের আটকানোতেই শুরু হয় গণ্ডগোল। দু’পক্ষের তর্কাতর্কি নিমেষে পৌঁছে যায় হাতাহাতিতে। কর্তব্যরত ট্র্যাফিক সার্জেন্ট সত্যেন্দ্র কাওয়াড়ের উপর চড়াও হয় বাইক আরোহীরা। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। সিনিয়রকে মার খেতে দেখে ছুটে আসেন এক সিভিক ভলান্টিয়ার। ততক্ষণে পুলিশের হাত ছাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করেছেন বাইক আরোহীরা। অভিযোগ, সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করায় এক বাইক আরোহীর তাঁর আঙুল কামড়ে ধরেন। এমনকী পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন অমিত নামের ওই অভিযুক্ত।

এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অমিতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ট্র্যাফিক আইন ভাঙা এবং পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগে বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে খবর, মোটর ভেহিকল আইনের ১৮৫ (মত্ত অবস্থায় বাইক চালানো), ১২৮ (চালক ছাড়া এক জনের বেশি যাত্রী), ১২৯ (হেলমেট না পরা) এবং ১৭৭ (উপযুক্ত কাগজপত্র না থাকা) ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে অমিতকে। আটক করা হয়েছে বাকি তিন জনকেও। আপাতত চিকিৎসা চলছে ওই আক্রান্ত সিভি ভলান্টিয়ারের।

গত মাসেই বেপরোয়া বাইক আটকাতে গিয়ে বেকবাগানে নিগৃহীত হয়েছিলেন এক পুলিশকর্মী। নাকা চেকিং চলাকালীন এক ট্র্যাফিক কনস্টেবলকে রাস্তায় হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে নিয়ে যায় এক ব্যক্তি। এই ঘটনার পর কিছুদিন আগে দক্ষিণ কলকাতার মেনকা সিনেমা হলের সামনে নাকা চেকিং চলাকালীন মদ্যপ বাইক চালককে আটকানোয় তাণ্ডব হয় টালিগঞ্জ ফাঁড়িতে। থানায় ঢুকে পুলিশ পেটায় উন্মত্ত জনতা। অভব্য আচরণ করা হয় নাকা চেকিংয়ে কর্তব্যরত ট্র্যাফিক সার্জেন্ট এবং মহিলা কনস্টেবলদের সঙ্গেও।

ফের একবার শহর কলকাতায় আক্রান্ত হলেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মী।

Comments are closed.