সংকটের মধ্যে মা’কে ফেরাতে পারলেন না বিজয়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সংকট তীব্র। তারই মাঝে পড়ে মা হারালেন বিজয়। বিক্ষোভ-ধর্না-প্রতিবাদ-পাল্টা প্রতিবাদের ডামাডোলের মধ্য সদ্য মা হারা বিজয়ের হাহাকার, ‘কী দোষ করেছিল আমার মা।’

    ফোন তুলতেই ও পার থেকে ভেসে এল চাপা কান্না। বিজয় বললেন ‘‘কোনও চিকিৎসা হলো না গো! বিনা চিকিৎসায় আমার মা’টা মারা গেল।’’ নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে বুধবার রাতে মৃত্যু হয়েছে ৬০ বছরের মঞ্জু বন্দোপধ্যায়ের। সোনারপুরের বাসিন্দা মঞ্জুদেবীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গত বৃহস্পতিবার। বিজয় জানিয়েছেন, প্রথম দিকে চিকিৎসা চলছিল ভালোই, বিপর্যয় ঘটল শেষের দিকে। হাসপাতালের জরুরি পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হলো। হাতে পায়ে ধরেও লাভ হলো না। বুধবার বিকেল থেকে ফের শ্বাসের সমস্যা শুরু হয় মঞ্জুদেবীর। বিজয় ও তাঁর পরিবার তখন সোনারপুরে নিজের বাড়িতে।

    কথা বলতে বলতে গলা ধরে এল তাঁর। বললেন, ‘‘ডাক্তারদের হাতে পায়ে ধরেছিলাম। নার্স দিদিকে বলেছিলাম অনেক দূর থেকে আসবো, একটু আমার মা’কে দেখুন।’’ বিজয়বাবুর কথায়, যে ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন মঞ্জুদেবী সেখানে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি তাঁদের। বাইরে থেকেই বিদায় করে দেওয়া হয়। শুধু হাসপাতালের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় যে তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। আজ, বৃহস্পতিবার মায়ের মৃতদেহ আনতে এনআরএস যাচ্ছেন তাঁরা। কান্না চেপে বললেন,‘‘দম ধরে রাখতে পারল না মা। কোনও ওষুধ নেই, ডাক্তার নেই, চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেল আমার মা।’’

    আরও পড়ুন: মেডিক্যাল শাটডাউন জারি রাজ্য জুড়ে, এই নিয়ে তিন দিন! ডাক্তাররা আক্রান্ত নানা প্রান্তে

    এনআরএসে যখন শ্বাসের সমস্যায় কাতরাচ্ছেন মঞ্জুদেবী, একই সময় নিউরোলজিক্যাল বিভাগে ছটফট করছিলেন বাইশের কৌশিক। সোদপুরের বাসিন্দা কৌশিক দাসকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেলেন তাঁর বাবা বিশ্বনাথ দাস। এ দিন সকালে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বিশ্বনাথবাবুরও একই অভিযোগ, কোনও ডাক্তার ছিলেন না ওয়ার্ডে। নার্সরা খারাপ ব্যবহার করছিলেন। কার্যত চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু হয়েছে কৌশিকের।

    আজ, আন্দোলন তৃতীয় দিনে পড়ল। রাজ্য জুড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা চূড়ান্ত ভাবে বিপর্যস্ত। কর্মবিরতি তথা আন্দোলনের শর্ত ছিল, সমস্ত হাসপাতালের ওপিডি এবং অন্যান্য কাজ বন্ধ থাকলেও, হাসপাতালগুলির জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে। কিন্তু সেটা বহু জায়গাতেই ছিল না। কোথাও দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে সম্ভব হয়নি, কোথাও কোথাও বন্ধই ছিল এমার্জেন্সির গেট।  কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগের দরজা খোলা রাখা হলেও রোগীদের অভিযোগ ছিল, ভিতরে কোনও ডাক্তার নেই, এমনকি পরিষেবাও মিলছে না সেই ভাবে। তবে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের দাবি, নিরাপত্তা যত ক্ষণ না নিশ্চিত করা হচ্ছে তত ক্ষণ তাঁরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কাজে ফিরবেন না। ফের মার খাওয়ার সম্ভাবনা যেখানে থেকে যাবে, সেখানে কোনও মতেই স্টেথোস্কোপ ধরবেন না তাঁরা। মৃত্যু তো শুধু একটা, দু’টো নয়। মৃত্যু অনেক। সেই সঙ্গে ডাক্তারদের উপর বর্বরতার নমুনাও অনেক। জীবন বাঁচানোর শপথ নিয়েছেন যাঁরা, আজ তাঁদের জীবনেরই দাম নেই। কখনও রোগীর পরিবারের রক্তচক্ষু, আবার কখনও দুষ্কৃতী তাণ্ডবে বারে বারেই নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে ডাক্তারদের। কাজেই, পেশার স্বার্থে নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করতে রাজি নন তাঁরা কেউই।

    আরও পড়ুন:

    https://www.thewall.in/opinion-column-hirak-bandopadhyay-on-hoapital-impasse-in-hospitals

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More