১০৫-এ করোনা জয় আফগান মহিলার, ‘আমার ঠাকুমা একজন যোদ্ধা’, বলছেন নাতি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স ১০৫ বছর। সেঞ্চুরি পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বাসা বেঁধেছে আরও নানা রোগ। তবে করোনাকে হারিয়ে দিয়েছেন শতবর্ষ পার করা এই বৃদ্ধা। নয়ডার শারদা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন রাবিয়া আহমেদ। আদতে আফগানিস্তানের বাসিন্দা রাবিয়া অবশ্য এখন পাকাপাকি ভাবে ফ্রান্সে আস্তানা নিয়েছেন। নাতি-নাতনিদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে নয়ডা এসেছিলেন তিনি। সেখানেই করোনায় আক্রান্ত হন বৃদ্ধা। তবে শুক্রবার একদম করোনা মুক্ত হয়ে নয়ডার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি।

    রাবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ডিমেনশিয়া এবং অ্যালঝাইমার-এর রোগী। গত ১৬ জুলাই জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সোয়াব টেস্টের রিপোর্ট আসে পজিটিভ। রাবিয়ার বয়স এবং অবস্থা দেখে তখনই তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের এক কর্মীর কথায় ভর্তির পর অবস্থা বেশ সংকটজনক ছিল বৃদ্ধার। চিকিৎসকরা আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন রাবিয়ার রেচনতন্ত্রেও সমস্যা রয়েছে। সেই সঙ্গে মৃদু নিউমোনিয়ার উপসর্গও দেখা দিয়েছে।

    শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকায় রাবিয়ার শরীরে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেনের প্রয়োজন ছিল। তাই আইসিইউতে রাখার পাশাপাশি নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেটরের সাপোর্ট দেওয়া হয় বৃদ্ধাকে। প্রায় এক সপ্তাহ এ ভাবে থাকার পর বৃহস্পতিবার কোভিড টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে রাবিয়ার। শুক্রবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি। নয়ডার শারদা হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডক্টর অভিষেক দেশওয়াল জানিয়েছেন, চিকিৎসা চলাকালীন বেশির ভাগ সময়েই ঝিমিয়ে থাকতেন রাবিয়া। ডিমনেশিয়ার কারণে মাঝে মাঝে বুঝতেও পারতেন না যে কোথায় রয়েছে।

    রাবিয়ার পরিবার জানিয়েছে, আফগানিস্তানে জন্ম হলেও বিয়ের পর স্বামীর অঙ্গে ফ্রান্স চলে যান তিনি। রাবিয়ার স্বামী মারা গিয়েছেন প্রায় ৬০ বছর আগে। তারপর থেকে ছেলের অঙ্গে ফ্রান্সে থাকতেন তিনি। ফ্রান্সেই রাবিয়ার চেলোর ব্যবসা রয়েছে। গতবছর ভারতে আসেন রাবিয়া। নয়ডায় থাকেন তাঁর নাতি। তাঁর বাড়িতেই এসে উঠেছিলেন রাবিয়া। রাবিয়ার এক নাতি জানিয়েছেন, করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সম্ভবত তার থেকেই সংক্রমণ হয় রাবিয়ারও। তবে বৃদ্ধার বয়স এবং শারীরিক অবস্থার কারণে চিন্তায় ছিল পরিবার। যদিও করোনা যুদ্ধ জয় করে বাড়ি ফিরেছেন রাবিয়া। শুক্রবার হাসপাতাল থেকে ছুটির পর ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীরাও শুভেচ্ছা এবং কুর্নিশ জানিয়েছেন রাবিয়াকে। আর তাঁর নাতি বলছেন, “আমার ঠাকুমা একজন যোদ্ধা-লড়াকু মনের মহিলা।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More