অভিনন্দনের গোঁফজোড়াকে ‘জাতীয় গোঁফ’ ঘোষণা করা হোক! সংসদে দাবি অধীরের

১৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের গোঁফকে ‘জাতীয় গোঁফ’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক। মঙ্গলবার লোকসভায় এমন দাবিই তুলেছেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী।

এমনিতেই আজকাল মেয়েদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেদের ফ্যাশনের ব্যাপারে সচেতন ছেলেরাও। তবে জামাকাপড়ের বাহার অনেক পুরুষেরই পোষায় না। তাঁরা বরং দিনের অনেকটা সময় দিয়ে থাকেন নিজেদের দাড়ি কিংবা গোঁফের পরিচর্যায়। বাংলার বহু প্রাচীন প্রবাদ, ‘গোঁফ দিয়ে যায় চেনা’। হালফিলে যেন এই প্রবাদ বাক্যের উপরেই ঝুঁকেছেন অধিকাংশ পুরুষ। তাঁর জন্য অবশ্য অনেকাংশেই মূল কারণ নারী। মহিলাদের মন রাখতেই নাকি আজকাল ক্লিন শেভড হতে পছন্দ করেন না ছেলেরা। অন্তত সমীক্ষা তো তাই বলছে। আর হালফিলের ফ্যাশন ট্রেন্ড যখন দাড়ি-গোঁফ রাখা সেই সময়েই অভিনন্দন বর্তমানের গোঁফকেই ‘ন্যাশনাল মুস্ট্যাশ’ বা ‘জাতীয় গোঁফ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানালেন কংগ্রেসের পোড় খাওয়া নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। সোমবার লোকসভায় নিজের বক্তব্য পেশের সময় অধীরবাবু বলেন, “উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে পুরস্কার দিয়ে সম্মান জানানো উচিত। সঙ্গে তাঁর গোঁফটিকেও ন্যাশনাল মুস্ট্যাশ বলে ঘোষণা করা উচিত।”

ক্লিন শেভড পুরুষ নাকি দাড়ি-গোঁফওয়ালা ছেলে! রাস্তা দিয়ে পাশাপাশি দু’জন হেঁটে গেলে অবশ্যই দাড়িওয়ালা ছেলেদের দিকেই আড়চোখে তাকাবেন মেয়েরা। অন্তত ট্রেন্ড তেমনটাই বলে। আর পুরুষ্টু গোঁফ রাখার অন্যতম ইন্সপিরেশন এখন ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। নিজের সাহসের জন্য সকলেই আজ তাঁর নামের সঙ্গে পরিচিত। তবে এর পাশাপাশি রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছে অভিনন্দনের অভিনব স্টাইলের গোঁফ। অতিরিক্ত চওড়াও নয়, আবার একেকবারে সরুও নয়। কাটিংয়ে একদম নিখুঁত উইং কম্যান্ডারের এই গোঁফ। শেষ ভাগটা আবার হাল্কা করে জুড়ে রয়েছে জুলফির সঙ্গে। রয়েছে একটা হাল্কা আভা। আর এই জন্যেই যেন বাকিদের থেকে আরও খানিকটা আলাদা লাগে অভিনন্দন বর্তমানের গোঁফ।

তাঁর আইকনিক গোঁফের স্টাইল নিয়ে চতুর্দিকে চলে নানান চর্চাও। তবে সম্প্রতি উইং কম্যান্ডারের গোঁফ নিয়ে এত চর্চা হচ্ছে বটে, কিন্তু সেনাবাহিনীর লোকেরা কিন্তু দাড়ি-গোঁফের ব্যাপারে বরাবরই বেশ শৌখিন। কায়দার গোঁফের ছাট থেকে শুরু করে ঘন দাড়ি রাখার অভ্যাস তাঁদের বহুদিনের। কেবল ভারতীয় সেনাবাহিনী নয়, এই চল রয়েছে ব্রিটিশ আর্মিতেও। এমনকী প্রতি বছর দাড়ি-গোঁফ নিয়ে মহা সমারোহে আয়োজিত হয় National Beard and Moustache Championships

এখানেই শেষ নয়। প্রত্যেক বছর নভেম্বর মাসে বিশ্বের একটা বড় অংশের পুরুষ গোঁফ-দাড়ি কাটেন না। এই অদ্ভুত প্রথার নাম ‘নো শেভ নভেম্বর’। কিন্তু বছরের একটি নির্দিষ্ট মাসে এইভাবে দাড়ি-গোঁফ না কামানোর কারণ কী? ক্যানসার আক্রান্ত সে সব রোগী কেমোথেরাপির দরুণ নিজেদের চুল হারিয়েছেন, তাঁদের জন্যই পালন করা হয় ‘নো শেভ নভেম্বর’। নিজেদের শেভিং কিংবা হেয়ার স্টাইলের পিছনে একজন যতটা খরচ করেন, সেই সমপরিমাণ টাকাই একজন ক্যানসার আক্রান্তের হাতে তুলে দেন অনেকে। বেশ কিছু জায়গায়, চুল-দাড়ি-গোঁফ ডোনেটও করা হয়। পরবর্তীকালে সে সব থেকে হয়তো তৈরি হয়ে উইগ। যা কাজে লাগে বহু মানুষেরই।

এ ছাড়াও সমীক্ষা অনুযায়ী, মহিলাদের মধ্যে ক্লিন শেভড পুরুষদের তুলনায় দাড়ি-গোঁফওয়ালা পুরুষদের আকর্ষণই বেশি। অনেক মহিলাই বলেন, পুরুষের গোঁফের বিশেষ করে দাড়ির একটা আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে, আকর্ষণ রয়েছে। তবে গোঁফ-দাড়ি নিয়ে পাগলামোও কিছু নেই। দাড়িতে উদ্ভট রঙ করা থেকে শুরু করে অদ্ভুত ছাট এসবও বাদ দেন না অনেকেই। এসব করে গিনেস বুকে নামও তুলেছেন বেশ কিছু মানুষ। তবে এসব অদ্ভুত কার্যকলাপ কিন্তু মোটেও পছন্দ নয় নারীদের। বরং ঘন-কালো দাড়ি-গোঁফওয়ালা ছেলেই মনে ধরে তাঁদের। এই যেমন ধরুন ‘গুজারিশ’ ছবির হৃত্বিক রোশন, কিংবা হালফিলের ‘কবীর সিং’-এর শাহিদ কাপুর। আর এর মধ্যে যদি অভিনন্দনের গোঁফ-দাড়ির স্টাইল ‘ন্যাশনাল মুস্ট্যাশ’ হিসেব স্বীকৃতি পেয়ে যায় তাহলে তো কথাই নেই। নিঃসন্দেহে বহু পুরুষ নিজেদের গোঁফের ছাট বদলাতে সেলুনে লাইন দেবেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More