TheWall

অ্যাসিড পুড়িয়েছে শরীর, ঝলসেছে মন, দগদগে ক্ষত নিয়েই জীবনের লড়াই জিতেছেন যাঁরা

0

চৈতালী চক্রবর্তী

বয়ঃসন্ধির চনমনে রূপকে পুড়িয়ে খাক করেছিল অ্যাসিড। ১৫ বছরের ফুটফুটে মেয়েটা আয়নার সামনে প্রথমবার যখন নিজের ঝলসানো চেহারাটা দেখেছিল আতঙ্কে, যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠেছিল। জোড়া ভুরু, টিকোলো নাকের জায়গায় তখন কুঁচকানো, ঠিকরে বেরিয়ে আসা মাংসপিণ্ড। এ যন্ত্রণা রূপ খোয়াবার নয়, যন্ত্রণা নিজের সত্ত্বাকে ঝলসে যেতে দেখার। ওই গরম, ফুটন্ত তরল শুধু শরীর নয়, আত্মাকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। অ্যাসিড-হানার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিশিষ্ট মুখ লক্ষ্মী আগরওয়ালের যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা জানে সারা দেশ। এমন অসংখ্য লক্ষ্মী প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও দগ্ধ, ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। পুড়ে খাক চোখ-মুখ-মন নিয়েও নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। জীবন-যুদ্ধে জয়ী এমন কয়েকজন অ্যাসিড-আক্রান্তের লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরা হল।

লক্ষ্মী আগরওয়াল

অ্যাসিড আক্রান্ত লক্ষ্মী আগরওয়ালের লড়াই পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন দীপিকা পাড়ুকোন। মেঘনা গুলজারের ‘ছপক’ ছবির ট্রেলর শিহরণ জাগিয়েছেন শিরায় শিরায়। অবিকল লক্ষ্মীর মতো সেই ঝলসানো মুখের দীপিকার আর্তনাদ মনের কোথাও একটা গিয়ে আঘাত করে। নির্যাতিতাদের প্রতি সমবেদনা, সহমর্মিতা এই শব্দগুলো বড় ফিকে হয়ে আসে। বদলে স্যালুট জানাতে হয় সেই সাহসিনীদের যাঁরা শরীরে ক্ষত বহন করেও মনের আগুনে তেজকে বিসর্জন দেননি। বরং বিপ্লবের মুখ হয়ে উঠেছেন। নারী শুধু নয়, অনেক পুরুষও এই নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার। অতীত ভুলে বাঁচার নতুন দিগন্ত খুঁজে নিয়েছেন তাঁরাও।

১৫ বছর বয়সে দিল্লির তুঘলক রোডে লক্ষ্মী আগরওয়ালের মুখে অ্যাসিড ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। সেই ক্ষত শরীরে নিয়েই লক্ষ্মী আজ এক প্রতিবাদের মুখ। #স্টপসেলঅ্যাসিড-এর ডাক দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাজ্যে রাজ্যে। পাশে দাঁড়াচ্ছেন তাঁরই মতো অ্যাসিড-আক্রান্তদের। এই জেদ ও সাহসের জন্য আমেরিকার প্রাক্তন ‘ফার্স্ট লেডি’ মিশেল ওবামার হাতে পুরস্কৃত লক্ষ্মীর লড়াই অ্যাসিড-আক্রান্তদের ভরসা জুগিয়েছে অনেকটাই। তাঁর জনস্বার্থ মামলায় অ্যাসিডদগ্ধদের তিন থেকে দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। লক্ষ্মীর মতোই লড়াই চালাচ্ছেন আরও কয়েকজন।

প্রজ্ঞা সিং

সালটা ২০০৬। দিল্লি থেকে বারাণসীতে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন প্রজ্ঞা। ২৩ বছরের তরুণী। সদ্য বিয়ে হয়েছে। পেশাতেও সফলতার মুখ দেখেছেন। একরাশ স্বপ্ন নিয়ে ঘুমটা তখন তবে গাঢ় হয়েছে। রাত তখন ২টো। আচমকাই তীব্র জ্বালা ধরল মুখের একপাশে। মনে হল আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভা বুঝি ছিটকে এসে পুড়িয়ে দিল শরীর। অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন প্রজ্ঞা। হাসপাতালে জ্ঞান ফিরতে নিজের মুখটা দেখে চিৎকার করে উঠেছিলেন।

১৩ বছর আগের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে প্রজ্ঞা বলেছেন, “সবে বিয়ে হয়েছে তখন আমার। সংসার গোছাচ্ছি। সেই সময়েই ওই অঘটন ঘটে। যার বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, সেই যুবকই সেদিন ট্রেনে উঠে অ্যাসিড ছুড়ে মারে আমার মুখে।” তারপরের ক’টা মাস হাসপাতালেই কেটে যায়। মুখের একদিক পুরোপুরি ঝলসে গিয়েছিল। মোট ১৫টা সার্জারি হয়েছিল। প্রজ্ঞার কথায়, “আমি বুঝেছিলাম শুধু শরীরে অস্ত্রোপচার করলে আমি যন্ত্রণা মুক্ত হব না। অস্ত্রোপচার দরকার মনেও। নতুন করে বাঁচার লড়াই শুরু করি। পাশে পেয়েছিলাম স্বামীকে।” ২০০৭ সালে দুই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন প্রজ্ঞা। বর্তমানে তিনি অ্যাসিড-নির্যাতিতাদের প্রতিবাদের মুখ। পাশে পেয়েছেন অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে। ২০১৩ সালে তৈরি করেছেন নিজের এনজিও ‘অতিজীবন ফাউন্ডেশন।’ সেখানে বিনামূল্যে অ্যাসিড-আক্রান্তদের চিকিৎসা, কাউন্সেলিং করানো হয়। তাছাড়া রয়েছে নানা স্কিল-ডেভলপমেন্ট ওয়ার্কশপ। বর্তমানে প্রায় ২০০ অ্যাসিড-আক্রান্তের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের জন্য লড়াই করছেন প্রজ্ঞা। অন্তত ৩০০ সার্জারি বিনামূল্যে তাঁর ফাউন্ডেশনে হয়েছে। আর্থিক সাহায্য শুধু নয় আইনি পথেও নির্যাতিতাদের পাশে রয়েছেন প্রজ্ঞা।

আরও পড়ুন: দু’হাত নেই, বিমান চালান পা দিয়েই, তাইকোন্ডা চ্যাম্পিয়ন এই মহিলা পাইলট বিশ্বের বিস্ময়

অ্যাসিড ঝলসেছে মুখ, আরও এক নির্যাতিতার পাশে প্রজ্ঞা

“অ্যাসিড আক্রান্তদের ৮০ শতাংশই মহিলা। অধিকাংশই তাঁদের প্রেমিকের প্রতারণার শিকার। তাছাড়া পণের জন্য স্ত্রীর মুখে অ্যাসিড মারার ঘটনাও অজস্র। এই নির্যাতিতারা যখন আমার কাছে আসেন তাঁরা সবচেয়ে বেশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন, আত্মঘাতী হওয়ার কথা ভাবেন। তাঁদের জীবনের পথে ফিরিয়ে আনাটাই বড় চ্যালেঞ্জ,” লড়াইটা থামাতে চাননা প্রজ্ঞা।

 

দৌলত বি খান

দৌলতের তখন ২৬। মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে নাম হচ্ছে ধীরে ধীরে। মুম্বইতে মা, দিদি ও জামাইবাবুর সঙ্গে ছোট্ট পরিবার। কিন্তু স্বপ্ন চুরমার হল একদিন। দৌলতের মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারলেন তাঁরই আপনজনেরা। নিজের বাড়িতেই দিদি ও জামাইবাবুর হাতে অ্যাসিড-নির্যাতনের শিকার হলেন দৌলত। জ্বালাপোড়া শরীর ও ক্ষতবিক্ষত মন নিয়ে তাঁর আর ঠাঁই হয়নি সে বাড়িতে। নিজের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়েছিল নিজেকেই। চাকরি খুইয়েছিলেন, পরিবার হারিয়েছিলেন আগেই। তবে দমে যাননি। মুখের ক্ষতে প্রলেপ না দিয়ে মনকে শক্ত করে নতুন লড়াই শুরু করেছিলেন এই সাহসিনী।

দৌলত জানিয়েছেন, প্রথম দু’মাস মুম্বইয়ের কেএম হাসপাতালে চিকিৎসা হয় তাঁর, পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। অসংখ্য সার্জারি হয়েছিল মুখে, গলায়, হাতে।

সাহস ফাউন্ডেশনের অন্য অ্যাসিড-নির্যাতিতাদের সঙ্গে দৌলত (মাঝে)

দৌলতের কথায়, “অ্যাসিড আমার মুখই শুধু পোড়ায়নি, দৃষ্টিশক্তিও প্রায় কেড়ে নিয়েছে। একচোখে আমরা ঝাপসা দৃষ্টি। কিন্তু মন স্বচ্ছ। আমারই মতো অ্যাসিড আক্রান্তদের নিয়েই এখন আমার ভরা সংসার।” ২০১৬ সালে মুম্বইতে নিজের এনজিও ‘সাহস ফাউন্ডেশন’ খুলেছেন দৌলত। সেখানে বিনামূল্যে আক্রান্তদের সার্জারি ও কাউন্সেলিং করানো হয়। বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গেও যোগ রয়েছে তাঁর সংস্থার। সেখান থেকেও উন্নতমানের চিকিৎসা পান আক্রান্তেরা। এই ফাউন্ডেশন থেকে আইনি পথেও লড়াই চালাবার সুযোগ করে দেওয়া হয় তাঁদের। এমনকি নির্যাতিতাদের নতুন চাকরি, জীবনসঙ্গী খুঁজে দেওয়ার দায়িত্বও এই ফাউন্ডেশনের।

 

আনমোল রডরিগেজ

শরীর পুড়েছিল বয়স যখন দু’মাস। মায়ের কোলে ছোট্ট আনমোলের দিকে অ্যাসিড ছুড়ে মেরেছিলেন বাবা। মা-মেয়ে দু’জনকেই ঝলসে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল। মা বেঁচে যান কোনওভাবে, ঝলসে যায় একরত্তি আনমোল। শৈশবেই সঙ্গী হয়ে যায় দগদগে পোড়া ক্ষত। বাবা ঠাঁই দেননি সংসারে। আনমোলের কিশোরীবেলা কাটে অনাথ আশ্রমেই। সেখানেই পড়াশোনা, ফ্যাশন ডিজাইনার, মডেল হওয়ার স্বপ্ন দেখা। ধীরে ধীরে নিজেকে প্রমাণ করেন আনমোল।


শরীরে ক্ষত, মনে লক্ষ্যপূরণের উচ্ছ্বাস, আনমোল এখন সুপারমডেল

“বাবার জেল হয়েছিল। মায়ের কী হয়েছিল জানি না। পাঁচ বছর হাসপাতালেই কাটে। পরিবারের স্নেহ কোনওদিন পাইনি। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে অনাথ আশ্রম,” লড়াইটা বড়ই লম্বা জানিয়েছেন আনমোল। কলেজে বরাবর সহপাঠীদের ভ্রুকুটি শুনতে হয়েছে, বলেছেন তরুণী। তাঁর ঝলসানো মুখ দেখে ভয়ে সরে যেতেন অনেকেই। বন্ধুত্ব করতে চাইতেন না কেউই। মানসিকভাবে ভেঙেও পড়েছিলেন। সেই সময় পরিবারের পাশে দাঁড়ান অনাথ আশ্রমের কর্তৃপক্ষরা। তাঁরাই পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিয়েছিলেন। কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে স্নাতক আনমোল চাকরি পান একটি বেসরকারি সংস্থায়। কিন্তু সেখানেও লোকজনের বাঁকা চাউনি। বলেছেন, “আমাকে চাকরি ছেড়ে দিতে বলা হয় শুধুমাত্র এই কারণে যে, আমার ভয়ঙ্কর মুখ দেখে নাকি লোকজনের কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে।”

আনমোল এখন একজন মডেল। বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত। অ্যাসিড-আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য নিজের ফাউন্ডেশনও গড়েছেন। ক্লোভিয়া ব্র্যান্ডের অন্যতম মুখ আনমোল। ক্লোভিয়ার কর্ণধার নেহা কান্ত বলেছেন, “আনমোলের মত মেয়েরা আমাদের গর্ব। ব্র্যান্ডের মুখ শুধু নয়, আরও লক্ষ লক্ষ মহিলার অনুপ্রেরণা।”

আরও পড়ুন: রাতের শহরের ‘মধুসূদন!’ বছরের পর বছর গাড়ি ছুটিয়ে মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন বাঘাযতীনের জয়দেব

 

ললিতা বেন বাঁশি

‘জ্বালাপোড়া মুখ দেখেও যে কেউ প্রেমে পড়বে ভাবিনি’, বলেছিলেন ললিতা

তুতো ভাইবোনের সঙ্গে সামান্য মনোমালিন্য, আর তাতেই অ্যাসিড ছুড়ে মারা হয় ললিতার মুখে। সালটা ২০১২। ১৭টা সার্জারি হয় মুখ, কান, গলায়। ঝলসানো মুখ নিয়ে আজমগড়ে নিজের বাড়ি ছেড়ে ঠাণেতে চলে আসেন ললিতা। এখানেই বদলে যায় জীবন।

কুঁচকানো চামড়া, ঠিকরে বেরিয়ে আসা চোখ কোনও কিছুই হার মানেনি প্রেমের কাছে। ২৬ বছরের ললিতা খুঁজে পান নিজের জীবনসঙ্গীকে। রবি শঙ্করের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন ২০১৭ সালে। রবি একজন সিসিটিভি অপারেটর, রাঁচিতে তাঁর পেট্রল পাম্পও রয়েছে। ললিতার কথায়, “আমার জীবন রূপকথার মতো। পুড়ে যাওয়া মুখের একজন মেয়ের জীবনে এভাবে প্রেম আসতে পারে ভাবিনি কখনও। রবিই আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে। আমার ক্ষতের মধ্যেও ও সৌন্দর্য খুঁজে পায়।” দৌলত বি খানের ‘সাহস ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে যুক্ত ললিতা। বলিউড অভিনেতা বিবেক ওবেরয় ঠাণেতে ললিতা ও তাঁর স্বামীকে নতুন বাড়ি উপহার দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: কলঙ্কিত গডম্যানরা: ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, এমনকি ভক্তদের যৌনদাসী করে রাখার অভিযোগ যাঁদের বিরুদ্ধে

সোনালি মুখোপাধ্যায়

চোখে দৃষ্টি নেই, গলার স্বরও কেড়েছিল অ্যাসিড, তাও লড়াই থামাননি এই সাহসিনী

এনসিসি করত মেয়েটা। গর্জে উঠত অন্যায় দেখলেই। বয়স ১৮ বছর। ইভটিজিং-এর প্রতিবাদ করেছিল। তারই খেসারত অ্যাসিড আক্রমণ। বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত সোনালির মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারে তিন দুষ্কৃতী। ঝলসে যায় পুরো মুখটাই। দৃষ্টি চলে যায় চোখের, গলার স্বরও কেড়ে নেয় সেই জ্বলন্ত তরল। সেটা ২০০৩ সাল। ধানবাদের এই ঘটনা নাড়িয়ে দেয় দেশকে। তিন অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত, তবে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায় তারা।

অন্ধ, বোবা তরুণীর পক্ষে এনসিসি করা সম্ভব নয়, সেটা ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। তবে জীবনের লড়াই ছাড়েননি তরুণী। পৌঁছে যান কৌন বানেগা ক্রোড়পতির মঞ্চে। সেলিব্রিটি পার্টনার লারা দত্তের সঙ্গে খেলে জিতে নেন ২৫ লক্ষ টাকা। সেই টাকা দিয়েই মেয়ের চিকিৎসা করান বাবা। কেবিসি-র মঞ্চে সোনালির ব্যক্তিত্ব ও সাহস দেখে বিয়ের প্রস্তাবও চলে আসে। ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার চিত্তরঞ্জন তিওয়ারির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন সোনালি। তাঁর কথায়, “আমার মতো একজন অন্ধকে কেউ বিয়ে করতে রাজি হবেন ভাবিনি। একটা সময় স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য আবেদন করেছিলাম। এখন মৃত্যুচিন্তা আর আসে না, স্বামীর হাত ধরে নতুন সংসার পেতেছি।”

স্বামী চিত্তরঞ্জন তিওয়ারির সঙ্গে সোনালি

 

চন্দ্রহাস মিশ্র

অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে পিছপা হতেন না চন্দ্রহাস। তখন তিনি ২৭ বছরের যুবক। এক মহিলাকে হেনস্থা হতে দেখে গর্জে উঠেছিলেন। অপরাধীদের নামে অভিযোগ করেছিলেন পুলিশে। তারই মূল্য চোকাতে হয় দিনকয়েক পরে। সেই অভিযুক্তদেরই একজন প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তার মাঝে অ্যাসিড ছুড়ে মারে চন্দ্রহাসের দিকে। পুড়ে যায় মুখ-চোখ।

চন্দ্রহাস বলেছেন, “অপরাধীদের একজন ছিল আমাদেরই বাড়িওয়ালার ছেলে। রোজ দেখতাম এক তরুণীকে হেনস্থা করতে। আর চুপ থাকতে পারিনি। মেয়েটাকে বাঁচিয়েছিলাম। পরদিনই আমাকে অ্যাসিড ছুড়ে মারে তারা।” শরীরের ৪০ শতাংশই পুড়ে যায়। চন্দ্রহাস এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাঁরই মতো অ্যাসিড আক্রান্ত পুরুষ ও শিশুদের জন্য চন্দ্রহাসের নিজস্ব এনজিও আছে। পাশাপাশি অ্যাসিড আক্রান্ত মহিলাদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ফাউন্ডেশনও আছে চন্দ্রহাসের। খোলা বাজারে অ্যাসিড বিক্রি বন্ধ হোক—শহরে শহরে এই বার্তা পৌঁছে দেয় চন্দ্রহাসের ফাউন্ডেশন।

Share.

Comments are closed.