কলকাতার এক করোনা রোগী তিন মাস ধরে পজিটিভ, শরীরে কোনও উপসর্গও নেই, চিন্তায় নবান্ন ও চিকিৎসকরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একেবারেই ভিন্ন রোগ নিয়ে বাইপাস সংলগ্ন এক বেসরকারি হাসপাতালে এসেছিলেন অনির্বাণ (নাম পরিবর্তিত)। সে জন্য তাঁর শরীরে অস্ত্রোপচারও করতে হবে। কিন্তু এখন তো কোভিড টেস্ট না করে কোনও হাসপাতালই কোনও চিকিৎসার ঝুঁকি নিচ্ছে না। রোগীর শরীরে কোভিডের উপসর্গ না থাকলেও ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না। টেস্ট করে নেগেটিভ এলে তবেই হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। অনিবার্ণের শরীরে কোভিডের কোনও উপসর্গ ছিল না। কিন্তু আরটি পিসিআর টেস্ট করে কোভিড পজিটিভ পাওয়া যায়।

এ ক্ষেত্রে যা করণীয় তাই করেছে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগী ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। বলা হয় ১৪ দিন বাদে রিপিট টেস্ট হবে। কিন্তু ১৪ দিন পরেও দেখা যায়, রোগীর শরীরে কোনও উপসর্গ নেই, তবে কোভিড রয়েছে। ফলে আরও ১৪ দিনের অপেক্ষা। কিন্তু যে কে সেই। রোগীর কর্কট রোগ রয়েছে। এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে কোভিডের সংক্রমণে ঝুঁকি বেশি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে উপসর্গই নেই। প্রায় তিন মাস কেটে গিয়েছে, অনির্বাণ এখনও কোভিড পজিটিভ।

সূত্রের খবর, ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে বিষয়টি অনেক আগেই স্বাস্থ্য ভবনকে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশেই চিকিৎসকরা রোগীর কেসটি আরও গভীর ভাবে পর্যালোচনা করে দেখছেন। কিন্তু এখনও সুরাহা মেলেনি।
কোভিড রোগী ও যোদ্ধাদের অনেককেই বিক্ষিপ্ত ভাবে সমাজে তথা প্রতিবেশীদের থেকে হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে। অনির্বাণের পরিচয় তাই ইচ্ছাকৃত ভাবেই গোপন রাখা হয়েছে। ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদেরও সরকার এ ব্যাপারে বাইরে কিছু প্রকাশ করতে নিষেধ করেছে।

শুধু অনির্বাণের ক্ষেত্রেই নয়, কলকাতার কোভিডের চিকিৎসা করতে গিয়ে এরকম আরও বিচিত্র বিষয় নজরে পড়ছে চিকিৎসকদের। যেমন মেডিকেল কলেজে ভর্তি থাকা এক রোগীর সেখানে দু’বার নমুনা পরীক্ষা করে কোভিড নেগেটিভ পাওয়া যায়। কিন্তু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছেড়ে তিনিই ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁকে পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। এরকমও রয়েছে যে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর ২৮ দিন কেটে গেলেও রোগীর নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ পাওয়া যাচ্ছে না।

কোমর্বিডিটি অর্থাৎ আনুসঙ্গিক কঠিন রোগ থাকা সত্ত্বেও ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি কোভিড জয় করে বাড়ি ফিরেছেন—এমন নজির কলকাতাতেই রয়েছে। এও দেখা গিয়েছে, ভেন্টিলেটরে থাকা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু তার মধ্যেই এ ধরনের কিছু বিশেষ ঘটনাও দেখা যাচ্ছে।

চিকিৎসকদের একাংশের মতে, ভ্যাকসিন বেরনো না পর্যন্ত নিশ্চিন্ত হওয়ার কোনও উপায় নেই। আবার বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলতে শুরু করেছেন, কোভিডের অ্যান্টিবডি তিন মাস পর্যন্ত সক্রিয় থাকছে। ফলে ভ্যাকসিনই একমাত্র উপায় নয়। স্পষ্টতই কোভিড নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তার মেঘ করে রয়েছে গোটা দুনিয়ার উপর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More