আগাম জামিন খারিজ হতেই চিদম্বরমের বাড়িতে সিবিআই-ইডি, গ্রেফতারি নিয়ে জল্পনা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের আগাম জামিন খারিজ হতেই তাঁর দিল্লির বাসভবনে পৌঁছে গেল সিবিআই অফিসারদের একটি টিম। যদিও জোরবাগের ওই বাড়িতে চিদম্বরম তখন ছিলেন না। ফলে কিছুক্ষণ থাকার পর সিবিআই অফিসাররা বেরিয়ে যান। কিন্তু তাঁরা বেরিয়ে যাওয়ার পরই চিদম্বরমের বাসভবনে পৌঁছে যায় ইডি অফিসারদের একটি টিম।

আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় আগাম জামিন চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। কিন্তু মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। উচ্চ আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এর পরই তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন চিদম্বরম। কিন্তু এদিন তা শুনতে রাজি হয়নি সুপ্রিম কোর্ট। এর অর্থ পরিষ্কার। চিদম্বরমের আর কোনও আইনি রক্ষাকবচ নেই। সিবিআই কিংবা ইডি চাইলে তাঁকে আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় গ্রেফতার করতেই পারে।

বস্তুত সেই সম্ভাবনা নিয়ে যখন দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে জল্পনা চলছিল, তখন মঙ্গলবার সন্ধ্যাতেই চিদম্বরমের বাড়িতে পৌঁছে যায় সিবিআই টিম। তবে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সিবিআই-ইডি কর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন, নাকি গ্রেফতারের উদ্দেশে তাঁর বাড়ি গিয়েছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রসঙ্গত, আগাম জামিন মামলায় দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতিরা মঙ্গলবার কড়া মন্তব্য করে বলেন, দেখে তো মনে হচ্ছে, আবেদনকারীই( পড়ুন চিদম্বরম) এই দুর্নীতির ঘটনার কিং পিন! দিল্লি হাইকোর্ট এও বলে, আর্থিক দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন করতে হবে। আবেদনকারী সংসদের সদস্য এবং আইনজীবী। কিন্তু তাঁর সেই পরিচয় এই মামলার উপর কোনও প্রভাব ফেলতে পারে না। এ ধরনের বিপুল আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় তদন্তকারীদের হাত বেঁধে দেওয়া ঠিক নয়।

গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কায় দিল্লি হাইকোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বিকেলেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তাঁর হয়ে সওয়াল করার জন্য পাশে ছিলেন দুই কংগ্রেস নেতা তথা সুপ্রিম কোর্টের দুঁদে আইনজীবী সলমন খুরশিদ ও অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এ দিন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আজই বিষয়টি শুনতে হবে এমন তাড়াহুড়োর কারণ নেই। কাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের এজলাসে শুনানি হবে।
আইএনএক্স মিডিয়া দুর্নীতি মামলায় চিদম্বরমকে আগে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযোগ, ২০০৭ সালে চিদম্বরমের ছেলে কার্তি চিদম্বরম আইএনএক্স কোম্পানিকে বেআইনিভাবে বিদেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ করে দেন। এজন্য বিপুল অঙ্কের কাটমানি নিয়েছিলেন কার্তি।

সেই সময় কেন্দ্রে মনমোহন সিং-এর সরকারে অর্থমন্ত্রী ছিলেন চিদম্বরম। অভিযোগ, সেই প্রভাব খাটিয়েই কার্তি আইএন এক্স মিডিয়াকে বিদেশ থেকে ৩০৫ কোটি টাকা পাওয়ার সুযোগ করে দেন। এ ছাড়াও এয়ারসেল-ম্যাক্সিস সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি মামলাতেও বারবার চিদম্বরম ও কার্তির নাম উঠেছে। যদিও গোড়া থেকেই চিদম্বরম দাবি করেছেন, কোনও অনিয়ম তিনি করেননি। এমনকি এই মামলায় এফআইআর-এও তাঁর নাম নেই। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক কারণেই বিজেপি পরিচালিত সরকার তাঁকে টার্গেট করছে। গত বছর তিনি আগাম জামিনের জন্য দিল্লি আদালতে আবেদন করেছিলেন। আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার তাও নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।

কার্তি চিদম্বরমের বিরুদ্ধে এখন তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট ও সিবিআই। তিনি গত বছর গ্রেফতারও হয়েছিলেন। তাঁকে ২৩ দিন জেলে থাকতে হয়েছিল। ২০০৭ সালে আইএনএক্স মিডিয়ার মালিক ছিলেন পিটার ও ইন্দ্রানী মুখার্জি। তাঁরা এখন শিনা বরা হত্যা মামলায় জেলে রয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, পি চিদম্বরম ও কার্তি চিদম্বরম, দু’জনেই তাঁদের কাছে ঘুষ চেয়েছিলেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More