রবিবার, অক্টোবর ২০

ছয় দশকে ৬০% চন্দ্রযাত্রাই ব্যর্থ হয়েছে, কেন? ব্যাখ্যা দিল নাসা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরুটা হয়েছিল ১৯৫৮ সাল থেকে। চাঁদ মুলুকে যান পাঠানোর নেশায় মেতে ওঠে গোটা বিশ্ব। তার কিছু সফল, অধিকাংশই ব্যর্থ। চাঁদে-পাড়ির আগাগোড়া বিশ্লেষণ করে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, গত ৬০ বছরে ৬০% চন্দ্রযাত্রা (লুনার মিশন) ব্যর্থ হয়েছে। সেটা হয়েছে গোটা বিশ্ব জুড়েই।

সফল-ব্যর্থতার সাত কাহন নিয়ে নাসার প্রকাশিত তালিকা ‘মুন ফ্যাক্ট শিট’ অনুযায়ী, সেই ১৯৫৮ সাল থেকে মোট ১০৯ বার চাঁদে মহাকাশযান পাঠিয়েছে বিশ্বের নানা দেশ, যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাপান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, চিন, ইজরায়েল এবং ভারত। এর মধ্যে ৬১টি চন্দ্রাভিযান সফল হয়েছে, বাকি ৪৮টি নানা কারণে ব্যর্থ।

ভারতের চন্দ্রযান ২ সফট ল্যান্ডিং করতে পারেনি। তার আগেই রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পৃথিবীর গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে। চন্দ্রযান ১ অবশ্য সিগন্যাল পাঠিয়েছিল, কিন্তু গতি নিয়ন্ত্রণে ত্রুটির জন্য চাঁদের মাটিতে নামার আগেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে।

সফল হয়নি ইজরায়েলের চন্দ্রযাত্রাও। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেরেশিট থেকে লঞ্চ হওয়া ইজরায়েলের মহাকাশযান অবতরণের আগেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

নাসা জানিয়েছে, প্রথমত রকেট উৎক্ষেপণ একটা চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি চেম্বারে গলদ থাকলে উৎক্ষেপণের মুহূর্তেই রকেট ধ্বংস হতে পারে। চন্দ্রযান ২-এর প্রথম উৎক্ষেপণের প্রচেষ্টা যে কারণে ব্যর্থ হয়েছিল। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের বাধা কাটানোটা পরবর্তী চ্যালেঞ্জ। সেটা করে ফেললে, পরবর্তী পদক্ষেপ চাঁদের কক্ষপথে মহাকাশযানকে বসানো। অধিকাংশ লুনার মিশন এই কক্ষপথের গেরোতেই লক্ষ্য থেকে বেরিয়ে গেছে। এর পর আছে সফট ল্যান্ডিং-এর ঝক্কি। একচুল এ দিক, ও দিক হলে মহাকাশযান হয় চাঁদের বুকে আছড়ে পড়বে, নাহলে ছিটকে বেরিয়ে যাবে মহাকাশে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চন্দ্রযাত্রাও এই নানা কারণের জন্যই সফল হয়নি। ১৯৫৮ সালের ১৭ অগস্ট প্রথম চাঁদে রকেট পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন মুলুক। কিন্তু ‘পায়োনিয়ার ও’ নামে সেই রকেটের উৎক্ষেপণ সফল হয়নি। প্রথম সফল অভিযান হয়েছিল ১৯৫৯ সালে। রাশিয়ার পাঠানো ‘লুনা ১’ চাঁদের মাটিতে ইতিহাস গড়েছিল। লুনা ১, লুনা ২ ও লুনা ৩ রাশিয়ার এই তিন অভিযানই সফল। ১৯৬৪ সালে আমেরিকার পাঠানো রেঞ্জার ৭ চাঁদের অনেকটাই কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি তুলে পাঠিয়েছিল পৃথিবীতে। ১৯৬৬ সালে সার্ভেয়ার ১ নামে আরও একটি অভিযান চালিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

চূড়ান্ত সাফল্য আসে ২০ জুলাই ১৯৬৯। সফল হয়েছিল নাসার চন্দ্রাভিযান। ‘স্যাটার্ন ৫’ রকেটের পিঠে চেপে চাঁদে পৌঁছয় ‘অ্যাপোলো ১১।’  প্রথম  চাঁদের মাটিতে পা দেন কম্যান্ডার নীল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন। চন্দ্রপৃষ্ঠের রুক্ষ পাথুরে ভূমিতে ওড়ে মার্কিন পতাকা। ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত ২১ বছরে আমেরিকা ও রাশিয়া মোট ৯০ বার চন্দ্রযাত্রার চেষ্টা চালায়।

সময় এগোয়। ১৯৯০ সালে জাপান প্রথম ‘অরবিটার মিশন’ চালায়। চাঁদের কক্ষে বসানো হয় রকেট ‘হিতেন’কে। এরপর ২০০৭ সালে আরও একটি অভিযান চালিয়েছিল জাপান। ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৬টি লুনার মিশন হয়েছিল। ইউরোপের ‘স্মার্ট ১,’ জাপানের ‘সেলেন’, চিনের ‘চ্যাং ১’, ভারতের ‘চন্দ্রযান ১’ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের LCCROSS। এর পর চলতি বছর অবধি আরও ১০ বার চন্দ্রযাত্রার আয়োজন করে আমেরিকা ও ভারত। যার মধ্যে ভারতের চেষ্টা ছিল পাঁচ বার, আমেরিকার তিন বার।

আরও পড়ুন:

অতীতে ব্যর্থতা থেকেই শিখেছে ইসরো, কী ছিল আগের সেই আট ‘মিশন’

Comments are closed.