নাসার ভাইটাল ভেন্টিলেটর এ বার ভারতেও, কোভিড মোকাবিলায় দেশের তিন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি

নাসা জানিয়েছে, তাদের তৈরি করা ভেন্টিলেটর বানানোর লাইসেন্স পাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশও। ইতিমধ্যেই ভারতের তিন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সেরেছে নাসা। চুক্তি হয়েছে বিশ্বের নানা দেশের আরও ১৮টি কোম্পানির সঙ্গেও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যালিফোর্নিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস এক্সের সঙ্গে জুটি বেঁধে এক ঐতিহাসিক মহাকাশ যাত্রার প্রস্তুতি চলছে নাসায়। দুই মার্কিন নভশ্চরকে নিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন তথা আইএসএসের দিকে আজই উড়ে যাবে স্পেস এক্সের বানানো ফ্যালকন ৯ রকেট। মহাকাশ অভিযানের ব্যস্ততা সত্ত্বেও কোভিড মোকাবিলার সরঞ্জাম তৈরিতে কোনও ভাটা পড়েনি নাসায়। উল্টে দক্ষিণ ক্যারোলিনার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরিতে (জেপিএল)মহাকাশ বিজ্ঞানীদের ডিজাইন করা বিশেষ রকমের ভাইটাল ভেন্টিলেটরের প্রোটোটাইপ বানানোর কাজ চলছে জোরকদমে। নাসা জানিয়েছে, তাদের তৈরি করা ভেন্টিলেটর বানানোর লাইসেন্স পাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশও। ইতিমধ্যেই ভারতের তিন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সেরেছে নাসা। চুক্তি হয়েছে বিশ্বের নানা দেশের আরও ১৮টি কোম্পানির সঙ্গেও।

    ভারতের তিন সংস্থা আলফা ডিজাইন টেকনোলজিস প্রাইভেট লিমিটেড, ভারত ফোর্জ লিমিটেড এবং মেধা সারভো ড্রাইভস প্রাইভেট লিমিটেড ভাইটাল ভেন্টিলেটর বানানোর লাইসেন্স পেয়ে গেছে। নাসার মহাকাশবিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের তত্ত্বাবধানে এই ভেন্টিলেটর তৈরি হবে ভারতেই। নাসা জানিয়েছে, তাদের ভেন্টিলেটরের নকসা চেয়ে ১০০টি আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। তাদের মধ্যে ভারতের তিন সংস্থাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আরও ১৮টি সংস্থার মধ্যে আটটি মার্কিন টেকনোলজিক্যাল ফার্ম ও তিনটি ব্রাজিলের কোম্পানি রয়েছে।

    কথায় বলে, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। যারা স্পেসক্রাফ্ট বানায় তারা ভেন্টিলেটরও বানাতে পারে। তেমনটাই করে দেখিয়েছেন জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরি তথা জেপিএলের ইঞ্জিনিয়াররা। মাত্র ৩৭ দিনেই তৈরি হয়েছে এই ভেন্টিলেটরের নকশা। নাসার বানানো অত্যাধুনিক এই ভেন্টিলেটর গতানুগতিক মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটরের থেকে অনেকটাই আলাদা। ভাইটাল অর্থাৎ ‘ভেন্টিলেটর ইন্টারভেনশন টেকনোলজি অ্যাকসেসিবল লোকালি’। জেপিএলের ডিরেক্টর মাইকেল ওয়াটকিনসের কথায়, এই হাই-প্রেসার ভেন্টিলেটর ওজনেও হাল্কা, পোর্টেবল। সঙ্কটাপন্ন রোগীদের জন্য খুবই উপযোগী। এই ভেন্টিলেটরের ডিজাইন এমনভাবেই করা হয়েছে যে কোনও হাসপাতাল, আইসোলেশন ওয়ার্ড, খোলা জায়গার কোভিড সেন্টার এমনকি বাড়িতে পর্যবেক্ষণে থাকা রোগীরাও ব্যবহার করতে পারবেন এমন ভেন্টিলেটর।

    এপ্রিলের শেষেই ভাইটাল ভেন্টিলেটরের ট্রায়াল সফল হয়েছে নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে। গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) এই ভেন্টিলেটরের সার্বিক ব্যবহারে সায় দিয়েছে। জরুরি অবস্থার জন্য এই ভেন্টিলেটরের ব্যবহার শুরু করার কথাও বলেছে মার্কিন এফডিএ।

     

    উচ্চচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে, ব্যবহার করা যাবে যে কোনও জায়গায়

    নাসার লিড হেলথ কেয়ার মেডিক্যাল অফিসার জে ডি পোক বলেছেন, ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি রোগীদের ডায়ানামিক ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দিতে হয়। কোভিড রোগীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এমন ভেন্টিলেটরের সংখ্যাও অনেক কমে আসছে। সঙ্কটাপন্ন রোগীদের অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়ার মতো ভেন্টিলেটর বেশিরভাগ হাসপাতাল, নার্সিংহোমেই নেই। পোর্টেবল ভেন্টিলেটর বেশিরভাগই ডিসপোজেবল। একবার ব্যবহারের পরেই ফেলে দিতে হয়। সেদিক থেকে অনেকটাই আলাদা নাসার ভাইটাল ভেন্টিলেটর। এর যন্ত্রপাতিও অনেক উন্নতমানের। উচ্চচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে এই ভেন্টিলেটর। রোগীর শরীরে কতটা অক্সিজেন যাবে সেটাও নিয়ন্ত্রিত হবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে। এর অক্সিজেন টিউব দিয়ে শ্বাস নিতে পারবেন রোগীরা। 

    লস এঞ্জেলসের ইউসিএলএ সাইমুলেশন সেন্টারে এই ভেন্টিলেটরের ট্রায়াল হয়েছে দিনকয়েক আগে। ইউসিএলএ-র পালমোনারি অ্যান্ড ক্রিটিকাল কেয়ার মেডিসিনের ক্লিনিকাল চিফ ডক্টর তিষা ওয়াং বলেছেন, কৃত্রিম ফুসফুস দিয়ে প্রথমে ট্রায়াল করা হয় এই ভেন্টিলেটরের। তাতে খুব ভাল ফল দেখা গেছে। কোভিড রোগীদের উপরে পরীক্ষা করেও সন্তোষজনক ফল মিলেছে। এই ভেন্টিলেটর সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকরী।

    জেপিএলের টেকনিক্যাল ডিভিসনের প্রধান লিওন অ্যালকালাই বলেছেন, ডাক্তারদের পরামর্শ নিয়েই এই ভেন্টিলেটরের প্রোটোটাইপ তৈরি হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি বিশ্বের নানা দেশে পৌঁছে দেওয়া হবে এই ভাইটাল ভেন্টিলেটর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More